Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপির কঠিন পরীক্ষা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৩৯ পিএম

বিএনপির কঠিন পরীক্ষা
Swapno

 

# হার্ড লাইনে আ’লীগ, অন্তরালে বিএনপির কর্মীরা

 

ঢাকার সমাবেশকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির ভূমিকা কি হবে তা নিয়ে আলোচনা এখন সর্বত্র। কারণ নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের সময় চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে দলের পোড় খাওয়া নেতাদের দ্বারা জেলা এবং মহানগরের কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

কারণ যেকোন আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জ থেকে আগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে সেদিক বিবেচনা করেই জেলা এবং মহানগরের কমিটি গঠিত হয়। কারণ ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জের স্থান যার ফলে আগামী ১০ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

 

 

এছাড়া সকল রাজনৈতিক দলই নারায়ণগঞ্জকে আন্দোলন সংগ্রামের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করে। যার ফলে ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ চেক পোস্ট বসিয়েছে এবং পুলিশের মহড়া চলমান রয়েছে। তবে শত বাধা থাকা সত্ত্বেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপি নেতাদের সর্বত্র ভূমিকার দিকে তাকিয়ে থাকবে।

 

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সমাবেশের ২৫ দিন পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর এই কমিটিতে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনকে জেলা বিএপির আহবায়ক এবং গেfলাম ফারুককে সদস্য সচিব করে চমক দেখান কেন্দ্রীয় নেতারা। এতে করে পূরো নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ঘুরে দাড়ায়।

 

 

অপরদিকে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার ১০ দিন পরই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সাখাওয়াত হোসেনকে আহবায়ক এবং আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির নবগঠিত কমিটির শক্তির জানান দিতে আগামী ১০ ডিসেম্বর অপেক্ষা করছে। কারণ ১০ বিএনপির সমাবেশ সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির কাছে। কারণ নারায়ণগঞ্জ সকলদলের রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা।

 

 

কারণ নারায়ণগঞ্জ ঢাকার সবচেয়ে কাছের জেলা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সকল দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এই জেলাটি। যার ফলে নারায়ণগঞ্জ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে যোগদান করতে পারেন। এর সাথে দেশের অন্যান্য বিভাগ এবং জেলাগুলোর নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে প্রবেশ করে।

 

 

সূত্র বলছে, ঢাকায় প্রবেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আর এই সড়কের প্রবেশ পথ নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে। আর ঢাকা-চট্রগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে যেগুলো নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সড়ক দুটি হচ্ছে সাইনবোর্ড এবং অন্যটি কাঁচপুর মোড়। এই দুটি স্থান কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে ঢাকার সাথে সিলেট এবং চট্টগ্রামের সাথে সংযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

 

 

এর বাইরে রূপগঞ্জের সুলতানা কামাল সেতু এবং কাঞ্চন সেতু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে বিবেচিত। যার ফলে চারটি সড়ক দিয়েই ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় যাবার জন্য রওনা হবেন বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা। ঢাকার পাশাপাশি এসব স্পটে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

 

নারায়ণগঞ্জের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থানের বিষয়ে এখনো কোন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়নি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা যদি নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যেতে চায় তাহলে এই স্পটগুলোতে জমায়েত হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্পটগুলোতে বিএনপির আধিপত্য ধরে রাখতে সবচেয়ে আগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপিকে।

 

 

কারণ এই চারটি স্থানই নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির মধ্যে পড়েছে। এছাড়া এই চারটি স্থান দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবে। সে দ্বারায় তাদেরকেও ঢাকায় প্রবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

 

 

কিন্তু ইতিমধ্যেই এই চারটি স্পটে পুলিশ চেক পোস্ট বসিয়েছে। যার ফলে সমাবেশের দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির চ্যালেঞ্জের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। এতে প্রতিয়মান হয় যে, আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপিকে আগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন