# জনগণের সাথে প্রতারণা করছেন : রুবেল
# সন্ত্রাসী-খুনি-গডফাদারদের বিরুদ্ধে লড়বো : সুজন
# মানুষের বুকে সাহসের ঢাল তৈরি হচ্ছে : অঞ্জন
গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের ১ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১১ টায় চাষাঢ়া শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, আজকে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইতি মধ্যে আপনারা সকলেই তা অবগত আছেন।
বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের পুলিশ বাহিনী আক্রমন যেভাবে বিএনটির নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমি তার তীব্র নিন্দ্রা ও প্রতিবাদ জানাই। আরো বিশেষভাবে স্মরণ করি নারী আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়াকে।
আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রীর আসনে যিনি আছেন তিনি আজে কি ভাষায় কথা বলছেন। এটা ন্যাকার জনক এটা আপনাদের বুঝতে হবে কেন তিনি এ ভাষায় কথা বলছেন। কারণ তারা যে সব নিয়ে রাজনীতি করেন। সেইসব রাজনীতি আর নেই। তারা জঙ্গীবাদ নিয়ে যে রাজনীতি করেছেন। তা এখন মানুষ বলে নাটক।
তারা বিএনপির সাথে জামায়েতকে ট্যাগ করে নানা ধরণের কথা বার্তা বলতেন এখন বিএনপি জামায়েত আলাদা হয়ে গেছেন এখন তাদের আর কিছু বলার নাই। তারা উন্নয়নের কথা বলতেন এখন উন্নয়নের বেলুন ফুস হয়ে গেছে। উন্নয়নের এখন অবস্থা হচ্ছে। রিজার্ভ কত আছে তা নিয়ে নানান ধরনের তথ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখন আওয়ামীলীগের হাতে কোন রােজনীতি নাই।
আওয়ামীলীগ এখন আর কোন রাজনৈতিক দল না। আওয়ামী লীগ এখন পুলিশের উপরে দাড়ানো ফ্যাসিবাদি সংস্থা মাত্র। তাই তারা এখন মাস্তানের মতো কথা বলে এবং খেলা হবে বলে মরণ খেলা শুরু করে। তারা খেলা হবে আজকে খুনের খেলা শুরু হয়ে গেছেন। আমরা তাদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই এই ধরণের খেলা বাংলাদেশের জনগণ খেলবে না।
আমরা ফুটবল খেলতে চাই, ক্রিকেট খেলত চাই, দানগুলি খেলতে চাই। কিন্তু মানুষ খুনের খেলা আমরা খেলবো না। বাংলাদেশের মানুষ কোন খুনের খেলায় নাই। আজকে বাংলাদেশের মানুষের ন্যায অধিকার সেই অধিকার কেড়ে নিয়ে। বাংলাদেশের মানুষের জ্ঞান মানুষের জবান সেটাকে বন্ধ করে মানুুষের জ্ঞান কেড়ে নিয়ে আজকে জনগণের উপরে দ্রব্য মূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি বুঝাটা মানুষের মুখে লাথি মেরে, শ্রমিক, কৃষকের পেটে লাথি মেরে যে সরকার টিকে আছে সেই সরকার সে সরকার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে না।
তিনি আরো বলেন এ সরকার প্রতি পথে পথে দেখিয়ে দিচ্ছে যে তারা বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধি না। তারা আজকে জনগণকে আতঙ্কে রেখেছে। তারা বলেছিলেন এ সরকার বলেছিলেন জনদূর্ভোগের জন্য বিএনপিকে রাস্তায় সমাবেশ করতে দিবে না। কিন্তু আজকে ঢাকা শহর থেকে আসলাম দেখলাম রাস্তায় কোন মানুষ নাই। আজকে বিএনপির কোন সমাবেশ নেই তাহলে রাস্তায় মানুষ নেই কেন।
আয়ামী লীগের ভয়ে রাস্তায় মানুষ নাই। আপনারা এমন ভয় দেখিয়েছেন মানুষকে যে রাস্তায় মানুষ ভয় পেয়ে আসতে পারছে না। তাহলে তো এখন আর জনদূর্ভোগ হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এখন তাহলে সব রাস্তা ছেড়ে দেন। কারণ এখন রাস্তায় সমাবেশ করা যাবে। কারণ কোন মানুষ নাই এখনতো খালি মাঠ আর খালি রাস্তা একই কথা।
আওয়ামী লীগ নানা ধরনের ফলতু কথাবার্তা বলে জনগণের সাথে প্রতারণা করছেন। আজকে বাংলাদেশের প্ররিস্থিতি যে জায়গায় নিয়ে গেছেন আপনারা সেটা বাংলাদেশের জনগণ রক্ত দিয়ে স্বাধীন করে এমন দেশ বাংলাদেশের জনগণ চায় নাই। আজকে আপনারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন কিন্তু আপনারা মুক্তিযুদ্ধের যে আকাঙ্খা সেটার সাথে বেইমানি করে বিপরীতে বাংলাদেশকে আপনারা পরিচালনা করছেন।
আজকে দেশে দুই নিয়ম হয়ে গেছে সরকারি দলের জন্য এক নিয়ম বিরোধী দলের জন্য আরেক নিয়ম। এখন আপনারা দেখছেন রাস্তাঘাটে সকলের মোবাইল চেক করা হচ্ছে আমাদের ফোনে কি মেসেজ এসেছে সেটা চ্যাক করা হচ্ছে এটার কারণে দেশের জনগণের মর্যাদা হানি হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে এক ব্যাক্তি কেন্দ্রীক ক্ষমতা সেটা পরিবর্তন করতে হবে।
আপনারা দেখবেন এ সরকার কিন্তু শুধু বিএনপির ভোট অধিকার কেড়ে নেয়নি আওয়ামী লীগের ও ভোট অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আজকে আজকে তারা ১৮ কোটি মানুষের ভোট অধিকার কেড়ে নিয়ে সকলকে এক কাতারে দাড় করিয়েছে। আজকে দেশের পার্লামেন্ট কতিপয়দের পাল্লামেন্টে পরিনত হয়েছে। এ ধরনের কতিপয়, লুটেরা পাল্লামেন্টকে জনগণের পাল্লামেন্টে পরিনত করতে হলে দেশের মানুষের স্বাধীন ভাবে ভোট দেওয়ার যে অধিকার সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সূজন বলেন, আজকে বাংলাদেশে বর্তমান সরকার একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করছে। গতকাল আমরা দেখলাম নারায়ণগঞ্জ শহিদ মিনারের সামনে পুলিশ প্রশাসন তারা সাজোয়া গাড়ি জল কামান পুলিশের পিকাভ ভ্যানসহ নানান কিছু রেখে নারায়ণগঞ্জের মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। রাতে আমরা দেখেছি বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের গাড়ি গিয়ে জোর করে দোকানপাট বন্ধ করেছে।
মহল্লায় মহল্লায় যারা সারাদিন কাজ করে একটু অবসর সময় পেয়ে গল্প করছিল। তাদেরকে তারা নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়েছেন। এই ধরনের হুমকি ধমকি দিয়ে কোন কাজ হবে না। আমরা প্রশসানকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেই আপনারা অতি উৎসাহি হয়ে সরকারের পক্ষে আছেন আমরা আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে আপনাদের কাজ দলীয় সন্ত্রাসীর মতো নয়।
আপনারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আপনাদের বেতন ভাতা হয়। সুতরাং জনগণের অধিকার রক্ষা করা জনগণের স্বার্থেও প্রতিনিধিত্ব করা আপনাদের কাজ। তা না করে যদি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। মনে রাখবেন জনগণ ও আপনাদের পতিহত করবে। আমরা দেখেছি বিএনপির সামবেশে ও ভোলাতে আপনারা অতি উৎসাহি হয়ে।
তাদের সমাবেশে হামলা চালিয়েছেন গুলি চালিয়েছেন সেখানে দুইজন মারা গিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ও বিএনপির শান্তিপূর্ণ র্যালিতে আপনারা গুলি চালিয়েছেন সেই গুলিতে ও শাওন নামের একজন যুবদল নেতা মারা গিয়েছেন। গত পরশু যখন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা যরো হচ্ছিল। আপনারা কি করলেন সেখানে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালালেন।
তার মাঝে বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী, জ্বালাও পোড়াও সংগঠন সেই তকমা দেওয়ার জন্য তাদের কার্যালয়ে বোমা রেখে আসলেন। আমরা বলতে চাই আজকে যদি বাংলাদেশে কোন সন্ত্রাসী সংগঠন থাকে সেটা হল আওয়ামী লীগ। তারা এখন বার বার খেলতে চাচ্ছে আমরা বলছি বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কোন খেলা নয়।
সভা সমাবেশ করতে কেন অনুমতি নিতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে বাাংলাদেশের সংবিধানে কোন নাগরীক তাদের মত প্রকাশের জন্য সভা সমাবেশ করতে পারবে। আমরা দেখেছি আপনাদের নির্যাতনের মাত্র বেড়েই চলেছে গতকাল তিনটায় আপনারা বিএনপির মহা সচিব মির্জা ফখরুল সাহেবকে ও তার বাসা থেকে গ্রেফতার করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি তার বাসা বাড়িতে তল্লাশী করে তাকে গ্রেফতার করতে না পেরে। তার কিশোর পুত্রকে গ্রেফতার করলেন। এটা স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্গন। আমি পরিষ্কারভাবে বলে থাকি স্বৈরাশাসক এরশাদ ও তার সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে জনগণের বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে ও টিকতে পারেনি।
আপনারা যদি মনে করেন বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন। আমরা বলছি জনগণ সেই যুদ্ধে লড়বে। আমরা আওয়ামী লীগ, সন্ত্রাসী, খুনি, গডফাদারদের বিরুদ্ধে লড়বো।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে ভয় দেখাবেন না। তারা ৭১ সালে লড়াই করে একটি স্বাধীন সার্বোভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। কারো দয়ায় নয় সুতরাং প্রধানমন্ত্রী সকল ইতিহাসকে হার মানিয়েছে। আপনারা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেন। দেশের নাগরীকের সভা সমাবেশ করবার অধিকার ফিরিয়ে দেন।
নারায়ণঞ্জ বাসীর উপর আমার আহ্বান থাকবে স্বাভাবিক জীবন যাপন এ সরকার আমাদের করতে দিবে না। তাই আজকে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা বাজারের পরিস্থিতি এমন অবস্থায় নেমে এসেছে। যে সরকারের বিরুদ্ধে দূরবার আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের আর কোন দ্বিতীয় বিকল্প নেই। বাচাঁতে হলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।
গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণঞ্জ জেলা নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস বলেন, আপনারা জানেন কোন বাস্তবতায় আমরা আছি গত ৭ তারিখে আমরা দেখলাম বাংলাদেশের একটি প্রধান বিরোধী দল। তার কার্যালয়ে কি ভয়ানকভাবে পুলিশবাহীনি তারা হামলা চালিয়ে দুইজন মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন।
গতকাল রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে রাতের আধারে গ্রেফতার করেছে আমরা আমাদের গণসংহতির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। আমরা মনে করি কোন গ্রেফতার করে সরকার আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। আমরা কেমন আছি এ বাংলাদেশের শ্রমিক কেমন আছে এ বাংলাদেশে ছাত্র কেমন আছে এ বাংলাদেশের প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশ কেমন আছে নেতৃবৃন্দরা জানে না।
আজকে দেখেন দ্রব্যমূল্যেও বাজার চাল, ডাল, তেল নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামে বাজারে আগুন লেগেছে। আর এ আগুণ দিয়েছে বর্তমান খুনি সরকারের সিন্ডিকেট এ সরকারের হাতে আমাদের দেশের জনগণ নিরাপদে নাই। আমরা কেমন আছি এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথাবার্ত শুনলে বুঝতে পারবেন।
উনি যে ভাষায় কথা বলছেন আমার পারার মাস্তানের চাইতে ও নিকৃষ্টতম ভাষায় মাননীয় কথা বলছেন। তিনি হুমকি দিচ্ছেন কাকে হুমকি দিচ্ছেন। আমরা দেখেছি এ দেশে স্বৈরাচার আইউব টিকে থাকতে পারে নাই। এ জনপদে স্বৈরাচার এরশাদ টিকে থাকতে পারে নাই। আপনি ও যে স্বৈরাচারিতা কায়েম করেছেন আপনি ও টিকে থাকতে পারবে না।
জনগণকে আপনি দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। এ সরকারের নিপীড়ন যত বাড়ছে মানুষের বুকে সাহসের ঢল তত তৈরি হচ্ছে। মনে রাখবেন কোন স্বৈরাচার পুলিশ দিয়ে গুন্ডা দিয়ে টিকে থাকতে পারে নাই। আমাদের জনগণের স্রোত এ ক্ষমতার মোকসদ অবিলম্বেই সব তছনছ করে দিবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নারী সংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক নাজমা বেগম, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আহ্বায়ক নিয়ামুর রশীদ বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক কাউসার হামিদ, প্রতিবেশ আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সৌরভ সেন তন্ময়, নারায়ণগঞ্জ মহাগর কমিটির সম্পাদক পপি রানী সরকারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ প্রমূখ।
এস.এ/জেসি


