Logo
Logo
×

রাজনীতি

মাঠ দখলে ছিল আ’লীগের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৩৩ পিএম

মাঠ দখলে ছিল আ’লীগের
Swapno

 

# পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সড়ক-মহাসড়কে ছিল সরব উপস্থিতি

 

১০ ডিসেম্বর’ বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ উৎকন্ঠার শেষ ছিল না আর এই উদ্বেগ উৎকন্ঠা এবং বিএনপির সকল নৈরাজ্য ঠেকাতে রাজপথ দখলে রেখেছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ।

 

 

কারণ বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে উভয় দলেরই মুখোমুখি হওয়ার একটি শঙ্কা ছিল অবশেষে সুষ্ঠ শৃঙ্খলভাবে রাজপথে অবস্থান নিয়ে সারাদিন রাজপথ দখলে রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ।

 

 

এছাড়া আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতারা বিক্ষোভ মিছিল করে স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে রাখে । পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গসংগঠনের নেতারা বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়ে রাজপথ দখলে রাখেন।

 

 


সূত্র বলছে, বহু জল্পনা কল্পনার পর বহুল প্রতিক্ষিত বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হল তবে এই সমাবেশ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরগরম ছিল। কারণ এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ বিএনপি উভয় দলের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলমান ছিল।

 

 

এছাড়া সমাবেশের দিন আওয়ামী লীগ বিএনপির নৈরাজ্য ঠেকাতে মাঠে থাকার ঘোষণা দেয়া আরও উত্তপ্ত ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আর এই উত্তপ্ত হওয়া দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে সবচেয়ে বেশী ছিল নারায়ণগঞ্জ।

 

 

কারণ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সূতিকাগার এছাড়া ঢাকার পাশ্ববর্তী এলাকা নারায়ণগঞ্জ হওয়াতে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য ঢাকার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

 

 

সে দ্বারায় সমাবেশকে ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতির কম ছিল না আর এই সমাবেশকে ঘিরে বিএনপির নৈরাজ্য ঠেকাতেও প্রস্তুত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

 

 

যার ফলে ৯ ডিসেম্বর থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতারা বিএনপির সহিংসতা নৈরাজ্য ঠেকাতে প্রতিবাদ মিছিল করতে থাকেন।

 

 

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে অবস্থান নেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। ১০ ডিসেম্বর সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপির নৈরাজ্য ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জের মূল পয়েন্ট সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থান নিতে থাকেন।

 

 

তারপর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় আওয়ামী লীগ অবস্থান নেন এবং বিএনপিকে নিয়ে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে নামেন বিক্ষোভ মিছিল শেষে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের অফিসের স্থানে অবস্থান নেন।

 

 

এরপর থেকেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা ওয়ার্ডের থেকে শুরু করে বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতারা একে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সমাবেশ প্রবেশ করতে থাকেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ।

 

 

তবে নারায়ণগঞ্জে জণসাধারণের যে একটা ভীতি কাজ করছিল সমাবেশকে ঘিরে আওয়ামী লীগ বিএনপি মুখোমুখি হতে পারেন। এতে করে আওয়ামী লীগ বিএনপির মধ্যে সংঘাতের শঙ্কা ছিল। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কঠোর অবস্থানে কোথাও কোন রকম আপত্তিকর ঘটনা ঘটেনি।

 

 

যার ফলে সারাদিনই সমাবেশ ঘিরে নারায়ণগঞ্জের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। এতে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা দাবি করছেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির সকল নৈরাজ্য ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যার ফলে বিএনপি নারায়ণগঞ্জে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি এই সমাবেশকে ঘিরে।

 

 


 

বিএনপির এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে অর্ধশতাধিক স্থানে অবস্থান নিয়েছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনরে নেতাকর্মীগণ।

 

 

গতকাল শনিবার সকাল থেকেই শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অবস্থান করেন জেলা মহানগরসহ বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

 

এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে ও প্রতিবাদ সভা করে।

 

 

মিছিলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। এছাড়াও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকেই সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিরোধ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সহসভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমের নেতৃত্বে এই আয়োজন করা হয়। এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও বন্দরের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

 



বিএনপির ঢাকার গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল ব্যাপক তৎপর ছিল নারায়ণগঞ্জ এর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ। নারায়ণগঞ্জের সড়ক ও মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে চৌকি স্থাপন করে পুলিশ। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানের টহলসহ র‌্যাব ও পুলিশ ভাসমান একাধিক টিম কাজ করে এবং সন্দেহভাজন কিছু মনে হলেই তল্লাশি চালায়।

 

 

ঢাকা চিটাগাং সড়কের সাইনবোর্ড, চিটাগাংরোড, মৌচাক, কাঁচপুর ও মদনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয় নিরপত্তা বাহিনী। এ সময় সাজোয়া যান ও জল কামানসহ বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ।

 

 

শহর ও শহরের বাইরের বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণ করা হয় তল্লাশি চৌকি। বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৮ শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন