Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘সফল’ দাবি বিএনপির

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০১ পিএম

‘সফল’ দাবি বিএনপির
Swapno

 

 # শত প্রতিবন্ধকতা জয় করতে পেরেছে তৃণমূলের কর্মীরা
 

 

ঢাকায় বিএনপির ১০ই ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ বাংলাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। কারণ গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই সমাবেশ ঘিরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে গিয়েছিলেন দেশটির প্রধান দুই দলের নেতারা।

 

 

অপর দিকে এ সমাবেশকে কেন্দ্র করেই নানা হামলা ও মামলার শিকার হন বিএনপি। তারই মাঝে নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাসহ দলের মূল নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হওয়ার পরে ও কোনভাবেই হালছাড়েনি বিএনপি।

 

 

অন্য দিকে কোনভাবেই তাদের সমাবেশের স্থান ঠিক করতে পারছিলো না তারা। অবশেষে নানা জল্পনা কল্পনার অবসর ঘটিয়ে শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) গোলাপবাগ খেলার মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

 

 


সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছিলেন ১০ই ডিসেম্বরের সমাবেশকে বাঞ্চাল করার জন্য কিন্তু কোন ভাবেই বিএনপি তাদের স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি।

 

 

বর্তমান সরকার বিএনপির নয়াপল্টনের সমাবেশ হতে ব্যাঘাত ঘটানোর পরে। বিএনপি চেয়েছিলেন কমলাপুর মাঠ কিন্তু পরবর্তীতে তা ও দেওয়া হয়নি তাদের। পরবর্তীতে গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতির এক ঘন্টার মধ্যেই মাঠ পুরো লোক দিয়ে লোকারন্ন হয়ে যায়।

 

 

যার ফলে অনেকটাই শান্তিপূর্ন সমাবেশ করতে পারে বিএনপি। অপর দিকে সরকারি দলের নানা অঙ্গসংগঠন যেমন, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ ইত্যাদি নেতৃবৃন্দরা পুরো শহরে শহরে মহড়া দেন। এবং ঢাকায় একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন।

 

 

কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের কোন কার্যক্রমে তোয়াক্কা না করেই তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সফল করে এবং ১০ দফার দাবির ঘোষণা করেন। আগামীতে ব্যাপক আন্দোলনের ডাক দেন বিএনপি। ইতিমধ্যে সকলে সমাবেশ শেষ করে। যথাযথভাবে নিজ নিজ বাসস্থানে পৌছাতে সক্ষম হয়।

 

 


 
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বাসায় ফিরে এসেছি। সকল নেতাকর্মী এখনো বাসায় পৌছাইনি। এখন পর্যন্ত কোন ক্ষয় ক্ষতির খবর পায়নি।

 

 

আমরা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে ছিলাম। আমরা যাতে করে সমাবেশে অংশ গ্রহণ করতে না পারি তার জন্য অনেক প্রকারের বাধা দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সকল বাধাকে উপেক্ষা করে নেতকর্মীরা সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। আজকে পুরো ঢাকা শহরে জনস্রোতে পরিনত হয়েছিল।

 

 


তিনি আরো বলেন, আজকে জনগণের বিজয় হয়েছে। আর আপনারা জানেন আমাদের কেন্দ্রীয় সকল নেতা ও মহাসচিব সাহেবসহ প্রায় অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সকলে জেলে আছেন। তার পরেও বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা ও সাধারণ জনগণের মাধ্যমে এ সমাবেশ জনসভায় পরিনত হয়েছে। এই গণজোয়ারের কারণে আমরা মনে করছি আমরা শতভাগ সফল হয়েছি।

 

 


 
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা কোন দেশে বসবাস করতেছি যে দেশে আমরা একটি বিরোধী দল। আমাদের সভা সমাবেশ করার কোন অধিকার নেই।

 

 

আজকে আমরা নারায়ণগঞ্জ শহরের কথাই বলি আমরা দেখলাম বিভিন্ন রাস্তায় রাস্তায় সরকারি দলের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও পুলিশ একাকার হয়ে বিভিন্ন অস্ত্র, সস্ত্র নিয়ে তারা সকল অলিগলি মহড়া দিচ্ছে। এটা খুবই দূভাগ্য জনক।

 

 

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আমরা এ ধরণের আচরণ আশা করিনি। আমরা বলতে পারছি না দেশের গণতন্ত্র, দেশ আজকে কোন পথে যাচ্ছে। আজকে আমরা সরকারের সকল শঙ্কা দূর করে দেখিয়ে দিলাম আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সভা সমাবেশ করতে পারি।

 

 

আপনারা অবগত আছেন ১০ই ডিসেম্বরের এ সমাবেশকে বাধা দেওয়ার জন্য দলের মূল নেতাদের গ্রেফতার করার পরে ও যেভাবে নেতাকর্মীসহ দেশের সাধারন মানুুষ সমাবেশে অংশ গ্রহণ করেছে এটা দেখার মতো।

 

 

সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে আমারা দেখেছি রাস্তায় রাস্তায় সরকারি দল ও পুলিশের তল্লাশি ও মহড়া চলেছে এটা একটা ন্যাকার জনক। আর আজকে আমাদের যে ১০ দফা আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এটা আমরা সফল করবো ইনশাআল্লাহ।

 

 

আর আমরা আজকে সমাবেশ শেষ করে সুস্থভাবে বাসায় ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছি। আজকের সমাবেশকে আমরা সকল বাধা পেরিয়ে সফল করেছি।

 

 


মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, আমার ইতি মধ্যে সুস্থভাবে বাসায় পৌছাতে সক্ষম হয়েছি। আর আমরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর থেকে এতো বাধা পাওয়ার পরে ও পাচঁ থেকে ছয় হাজার লোক নিয়ে সমাবেশেস্থলে অংশ গ্রহণ করেছি।

 

 

আওয়ামী লীগ যে কথা বলে বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে না নাশকতা করে। সেটা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তারেক রহমানের নির্দেশে আজকে বিএনপি দেখিয়ে দিল যে বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে বিশাল আকারে সমাবেশ করতে পারে।

 

 

যেখানে আপনারা অবগত আছেন তারেক রহমান দেশের বাহিরে, খালেদা জিয়া কারাগারে, দলের মূল নেতাকর্মীরা জেলহাজতে থাকার পরে ও আজকে বিএনপির যে গণসমাবেশ হল এটা দেশজাতি আগামীতে এটার ফলাফল নির্ণয় করবে।

 

 

আর যে দলের নেত্রী ভোট চুরি করে তারা আবার বলে ভোট চোরকে প্রতিহত করবে। চোরের মায়ের বড় গলা। আমরা আমাদের এই সমাবেশে সকলকে দেখিয়ে দিয়েছি জনগণ আওয়ামী লীগকে চায় না।

 

 


 
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা ইতি মধ্যে সুষ্টভাবে সমাবেশ শেষ করে নিজ নিজ বাসায় পৌছাতে পেরেছি। এখনো আমাদের অনেক নেতাকর্মী বাসায় পৌছাতে পারেনি। কারণ ঢাকায় পুরো গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই আসতে ব্যাঘাত ঘটছে।

 

 

কিন্তু আশা করছি তারা ও সুস্থভাবে বাসায় ফিরে আসবে। আর আমরা নারায়ণগঞ্জ থেকে দেখার মতো লোক নিয়ে সমাবেশে অংশ গ্রহণ করেছিলাম। এবং ১০ই ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আমাদের নেতাকর্মীদের যে হয়রানি করেছে এ স্বৈরাচারি সরকার। তার পরেও সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে যত নেতাকর্মী সমাবেশে উপস্থিত ছিল। তার জন্য আমাদের সমাবেশ আজকে সফল হয়েছে।

 

 

আর ঢাকার সমাবেশে তিন চার দিন আগে থেকেই ৩০ থেকে ৩৫ হাজার লোক চলে গিয়েছিলেন তার পরে কালকে গিয়েছিল আজকে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে দেখার মতো লোক ছিল।

 

 


 
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল ইসলাম রাজীব যুগের চিন্তাকে জানান, ঢাকার সমাবেশ শেষ করে আমরা বাসায় ফিরার পথে গাড়ি বন্ধ ছিল যার কারণে আমাদের আসতে একটু সমস্যা হয়েছে। কিন্তু আমরা তারপরে ও বাসায় আসতে সক্ষম হয়েছি।

 

 

তার মাঝে আজকে ঢাকার রাজপথে এই স্বৈরাচারি সরকারের নেতাকর্মীরা সকল রাস্তায় রাস্তায় শোডাউন দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের নানা ভয়ভীতি দেখিয়েছি কিন্তু তারপরে ও সকল বাধা পেরিয়ে ঢাকার সমাবেশে লক্ষাধিক নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করেছি।

 

 

যার কারণে আমরা মনে করছি সকল বাধা গ্রেফতারী পরোয়ানার পরে ও আমরা আসতে পেরেছি তার মানে আমাদের সমাবেশ সফল করতে পেরেছি। আর আমাদের ১০ দফা আন্দোলনের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই আন্দোলনে ও ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারবো। আর সকল বাধা পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করেছে তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

 

 


 
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন যুগের চিন্তাকে বলেন, মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া যে আমরা আজকে আমাদের ১০ই ডিসেম্বরের সমাবেশটাকে সফল করতে পেরেছি। মহানগর বিএনপি ব্যাপক লোক সমাগম নিয়ে সমাবেশস্থলে অংশ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছি।

 

 

আমাদের এ কার্যক্রমে আগামী দেশ নায়ক তারেক রহমান খুবই খুশি এবং সে সন্তুষ্ট তারেক রহমান সাহেব একটি বার্তা দিয়েছে প্রতিটা ওয়ার্ড, প্রতিটি ইউনিয়ন সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং বলেছে তারাই আগামী দিনে এ নিশিরাতের সরকারকে পতন গঠাতে পারবে।

 

 

তিনি আর বলেছেন তিনি আমাদের নেতৃত্বের উপরে সন্তুষ্ট। আর এ সরকার যে অত্যাচার করেছে আমি মনে করি সাধারণ জনগণ এর জবাব দিবে। আগামী আরো যত আন্দোলন সংগ্রাম আসছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের যতটুকু দায়িত্ব দিবে সেটা আমরা যথাযথ পালন করবো। এ সরকারে পতন যতদিন পর্যন্ত না হবে আমরা ঘরে ফিরে যাবো না ইনশাআল্লাহ।

 

 


 
রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাহিদ ভূঁইয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, আমি যখন আমার নেতাকর্মীদের সাথে বাহির হয়েছি তার একটুখানি পরে দেখলাম পুলিশ, ডিবি, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নেতাকর্মীদের উপরে হামলা করা শুরু করে। পরে গাড়ি বন্ধ ছিল আমি কোনভাবে সুস্থভাবে বাসায় ফিরতে সক্ষম হই।

 

 

আর আমরা মহাসমাবেশে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করেছি। আমরা এ ১০ই ডিসেম্বরের সমাবেশে শতভাগ সফল হয়েছি। দেশের অবৈধ সরকার চেয়েছিল বিএনপির লোক সমাগম যাতে না হয় তারা সর্বপুরি চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু তারা বুঝতে পারে নাই। বিকেলে পার্মিশন দেওয়ার পরে একঘন্টার মধ্যে মাঠ ভরে যাবে এটা তারা কল্পনা করে পারে নাই। আজকে পুরো সমাবেশে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ লোক জমা হয়েছিল। এটা বিএনপির জন্য অনেকটাই ভালো দিক।

 

 


 
এ বিষয়ে সদর থানা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী নাহিসুল ইসলাম সাদ্দাম যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা সুস্থভাবে বাসায় পৌছাতে সক্ষম হয়েছি। আর আপনারা সকলেই অবগত আছেন আমরা যাতে সমাবেশে পৌছাতে না পারি তার জন্য বর্তমান স্বৈরাচারি সরকারের পুলিশ প্রশাসন আমাদের নানাভাবে হয়রানি করেছে। কিন্তু তারপরে ও আমাদের দমাতে পারেনি।

 

 

আমরা নারায়ণগঞ্জ থেকে ব্যাপক নেতাকর্মী নিয়ে সমাবেশে অংশ গ্রহণ করি। সমাবেশকে সফল করেছি। আর পরবর্তীতে আমাদের ১০ দফার যে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ সেই কর্মসূচি ও আমরা যথাযথভাবে সফল করবো।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন