Logo
Logo
×

রাজনীতি

সোনারগাঁ থানা বিএনপির ‘ডায়নামিক’ কমিটি ঘোষণা

Icon

আকিব মাহমুদ

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩৩ পিএম

সোনারগাঁ থানা বিএনপির ‘ডায়নামিক’ কমিটি ঘোষণা
Swapno

 

বহু জল্পনা কল্পানা এবং আলোচনা সমালোচনাকে দূরে ঠেলে দিয়ে প্রকাশিত হল সোনারগাঁ থানা বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কারণ কমিটি প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সোনারগাঁয়ে বিএনপির একটি পক্ষ তীব্র আলোচনা সমালোচনা করতে থাকেন সোনারগাঁ থানা বিএনপিতে নেতৃত্বে থাকা নেতাদের নিয়ে।

 

 

কিন্তু সোনারগাঁ হল নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তাই চলমান আন্দোলন সংগ্রামকে সামনে রেখে সোনারগাঁ থানা বিএনপিকে একটি ডায়মানিক কমিটি রূপ দেয়ার লক্ষ্যে বহু চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট সোনারগাঁ থানা বিএনপির কমিটি প্রকাশ করে।

 

 

এছাড়া সোনারগাঁ থানা বিএনপির নবীণ প্রবীণ এবং বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মূল্যায়িত করে সোনারগাঁ থানা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশিত হয়। এছাড়া সোনারগাঁ বিএনপির হামলা মামলার শিকার ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে সোনারগাঁ থানা বিএনপির কমিটি প্রকাশ করা হয়।

 

 


দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অর্ন্তভুক্ত সোনারগাঁ থানা বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন জেলা বিএনপি। কিন্তু কমিটি গঠনের কিছু দিনের মধ্যেই কেন্দ্র থেকে বড় সড় কর্মসূচী আসতে থাকে। পরবর্তীতে ১ নভেম্বর পরিচিতি সভার মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা দিয়েও এই সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে আসতে হয়।

 

 

কারণ তখন ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশকে ঘিরে সরগরম ছিল বিএনপির রাজনীতি। এরপর সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ঘোষণা দেন ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ শেষ করেই সোনারগাঁ থানা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করব।

 

 

কিন্তু সোনারগাঁ থানা বিএনপির একটি পক্ষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব হওয়া নিয়ে নানা রকম আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিতে থাকে। কিন্তু তাদের আলোচনা সমালোচনার কোন কাজেই আসেনি তাদের সকল আলোচনা সমালোচনা কমিটি প্রকাশের মাধ্যমে আবারও বেস্তে চলে যায়। কারণ ১১ ডিসেম্বর ৯ জনকে উপদেষ্টা করে সোনারগাঁ থানা বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

 

১০১ সদস্য বিশিষ্ট  কমিটিতে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে সভাপতি ও মোশাররফ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয় এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টিটু, সহ-সভাপতি আল মোজাহিদ মল্লিক, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি শফিউদ্দিন ভূইয়া, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম বিডিআরকে করা হয়।

 

 

এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয় হাজী সেলিম হক রোমিকে এবং ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় কামরুজ্জামান ভূইয়া মাসুমকে এবং ২নং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় মজিবুর রহমানকে এছাড়া মো: সেলিম হোসেন দিপুকে প্রচার সম্পাদক করা হয় এবং দপ্তর সম্পাদক করা হয় ফজল হোসেনকে।

 

 

তবে কমিটিতে চমক হিসেবে রয়েছেন সোনারগাঁয়ের প্রবীণ নেতা সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফরকে সোনারগাঁ থানা বিএনপির ১নং সদস্য করা হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা বর্তমান জেলা যুবদলের সংক্রিয় নেতা খাইরুল ইসলাম সজীবকে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সদস্য পদে নির্বাচিত করা হয়।

 

 

কিন্তু ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সকল নবীণ প্রবীণ নেতাদের থেকে শুরু করে অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়। এছাড়া সবচেয়ে বেশী মূল্যায়ন করা হয় হামলা মামলার শিকার দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়।

 

 


এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ১ নভেম্বর একটি আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের আমি কথা দিয়েছিলাম ১০ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় সভা সফল হওয়ার পর আমরা থানা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করবো, আমি আমার কথা রেখেছি।

 

 

তিনি বলেন, কমিটিতে সবাই আসতে পারবেনা এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু তৃনমুল বিএনপির প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকে আমি সম-পরিমাণ ভালবাসা দিয়ে সোনারগাঁ বিএনপিকে আরো শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

 

 

এছাড়া আমি আশা করি বর্তমান সোনারগাঁ থানা বিএনপি আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে সর্বোচ্চ পরিমাণ ভূমিকা রেখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। পাশাপাশি যারা কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত হয়েছে তাদেরকে জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে লালন করে- বিএনপির পতাকাতলে গণতন্ত্র উদ্ধারে বদ্ধপরিকর থাকার আহবান জানাচ্ছি।

 

 


এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন জানান, সোনারগাঁ সবসময়ই বিএনপির ঘাঁটি ছিল যার জন্য দল ক্ষমতায় না থাকলেও বিপুল সংখ্যক বিএনপির নেতাকর্মী সোনারগাঁতে রয়েছে। যার ফলে কমিটি আসার যোগ্য এমন অনেককেই কমিটিতে জায়গা না দিতে পেরে মনে এক প্রকার আক্ষেপ রয়ে গেছে।

 

 

কারণ আগের কমিটি ছিল ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট ছিল এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা এখন মূল দলের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ায় অনেক হামলা মামলায় নির্যাতিত নেতারা ১০১ সদস্য বিশিষ্ট হওয়ায় তাদের কমিটি মূল্যায়িত করতে পারিনি। কারণ বর্তমানে আমাদের বিএনপির সাংগঠনিক নিয়ম হচ্ছে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন