# কর্মসূচিতে রাজপথে উত্তপ্ত বিরোধী দল
# মাঠ ছাড়েনি ক্ষমতাসীন দল
সরকারের পদত্যাগসহ অভিন্ন দাবিতে সমমনাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ২৪ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির সাথে জামাত সহ সমমনা ৩৩ দল একমত পোষন করেছে। তার আগে আজ জেলা মহানগরে বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তার সহ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সভা করবে। এছাড়া ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা কর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠছে।
একই সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে এই বছরের শুরুতে নানা ইস্যুতে সভা সমাবেশ করে কর্মীদের চাঙ্গা রেখেছে। তবে পিছিয়ে নেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তারাও রাস্তায় নেমে বিএনপিকে ছাড় দিবে না বলে হুঙ্কার দিচ্ছে।
বিশেষ করে গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশ গিরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগও মাঠে নেমেছে। তারাও বিএনপির নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে গরম বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। দুই দলের পাল্টা পাল্টি কর্মসূচিতে রাজনীতির মাঠ এখন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাঠ পর্যায়ে অবস্থান শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক দলগুলো মাঠ দখলের জন্য প্রস্তুত। বড় দলগুলো ইতোমধ্যেই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে জাতীয় নির্বাচনের আগেই শক্তি প্রদর্শনের মহড়া দিতে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র মতে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার রাজপথ আন্দোলনকে বিভিন্ন স্তরের বড় রাজনৈতিক দলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে। ছোট দলগুলোও নিজ নিজ সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কৌশলে আগাচ্ছে।
দলীয় সূত্রমতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ কটি বড় রাজনৈতিক দল প্রার্থী বাছাইসহ সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে তারা এ প্রস্তুতি জোরদার করছে। বিএনপি নেতারা মুখে বলে যাচ্ছে আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে না। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের আপত্তি নেই।
তবে আওয়ামী লীগ তাদের নিয়ন্ত্রনে নির্বাচন করবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলার জন্য বলে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।তাছাড়া এবার ১ বছর আগে থেকেই নির্বাচনের ঢামাঢোল বাঝতে শুরু করেছে। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গুলো নির্বাচন শুরুর আগেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে।
তারা প্রায় প্রতিদিনই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করছেন। আর সরকারী দল আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের অভিযোগ নাকচ করে সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে বলে জানান।
জানা যায়, কেন্দ্রের নির্দেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ কিছু রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যেই তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করতে শুরু করেছেন। প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছেন তারা। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের ২ টি আসনে জাতীয় পার্টির এমপিরা আবারও নির্বাচন করতে পারে এমন ঘোষনা দিয়েছে।
সেই সাথে সোনারগাঁ ৩ আসনের এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা তার এলাকায় সাংগঠনিক ভাবে দলকে গুছিয়ে নিচ্ছেন। এতে করে তার নির্বাচনী মাঠও গোছানো হয়ে যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক ভাবে তারা তেমন একটা সক্রিয় নেই।
সেই সাথে আওয়ামী লীগের শরীক দল হিসেবেও তাদের কর্মসূচিতে তাদের দেখা যায় না। এই ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ভাবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপিও মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তারাও তাদের মত করে নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, আজ বিএনপি জেলা মহানগরে বিক্ষোভ সভা করবে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর ১০ দফা দাবী সহ যুগপৎ আন্দোলনে নামবে। পাশা পাশি সরকার পতনের আন্দোলন আরও জোরদার করবে। পর্যায়ে ক্রমে তারা তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন চেয়ে সরকারর পদত্যাগের দাবীতে যাইবেন।
যা কিনা এক দফা এক দাবীতে মাঠে নামবে। ১০ ডিসেম্বর বিএনপির নৈরাজ্যকে ঠেকানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্র লীগ সহ সকল উপজেলায় মিছিল করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে তারা এবার আর বিএনপিকে ছাড় দিবে না বলে বক্তব্য প্রদান করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন বলেন, বিএনপি আজ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে নেমেছে । আর এজন্য জনগণ আমাদের আন্দোলনে নিজ উদ্যোগে এসে অংশ গ্রহন করছেন। আমরা বিশ্বাস এই জালিম সরকার আর বেশি দিন টিকবে না। তাদেরকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।
কেননা সব অত্যাচারের একটা শেষ আছে। তাদেরকেও একদিন ক্ষমতা ছাড়তে হবে। সেদিন আর বেশি দুরে নয়। আমরা মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য হামলা মামলা খেয়ে মাঠে ময়দানে সরকারের নানা দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছি। এবং তা করে যাবো।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিকাল ৩ টায় চিটাগাংরোডে বিক্ষোভ করবে। মানুষ এখন এই সরকারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। বিএনপির সাথে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য এখন মানুষও মাঠে নেমেছে।
তারা অবৈধ ভাবে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তাছাড়া যে ভাব দ্রব্যমূল্যের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে গেছেগা তাতে মনে হচ্ছে এই সরকারের এখন সময়ের বেপার। আমরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি গুলোর মাধ্যমে নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত রাখছি।
ফতুল্লা বিএনপি নেতা রিয়াদ চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় নিতী নির্ধারকরা যখন যে কর্মসূচি প্রদান করেন আমাদের নেতা কর্মীরা হামলা মামলা খেয়েও তা পালন করে যাচ্ছেন। শত বাধা দিয়েও ক্ষমতাসীন দলের প্রশাসন বাধা দিয়ে বিএনপি নেতা কর্মীদের আন্দোলন ঠেকাতে পারছে না।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন জানান, আমরা মামলা হামলা বাধার পরেও ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। আজকের বিক্ষোভ সভা সহ কেন্দ্র থেকে যে কোন কর্মসূচি আসবে তা পালন করার মাধ্যমে রাজপথে নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করে যাচ্ছি। তাছাড়া মানুষের অধিকার আদায়ের পাশা পাশি ভোটাধিকারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অংশ হিসেবে বিকেল ৩ টায় হোসিয়ারী সমিতিতে ১০ দফা দাবী মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য বিক্ষোভ সভা হবে। পাশাপাশি বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হবে।
অপর দিকে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, বিএনপি আবারও জালাও পোড়াও করার মাধ্যমে মানুষকে পুরিয়ে মারতে চায়। তাদেরকে আর ছাড় দেয়া হবে না। তাছাড়া আন্দোলনের নামে অরাজাকতা সৃষ্টি করতে চায়। যা মানুষ মেনে নিবে না।
জেলা যুবলীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এস এম জিল্লুর রহমান বলেন, বিএনপি বাহিরের কিছু রাষ্ট্র এবং জামাতের অর্থ পেয়ে মাঠে ফাঁকা বুলি আওয়াজ মেরেছে। যা মানুষ বিশ্বাস করে নাই। তারা বলেছে ১০ন ডিসেম্বরের পরে খালেদা জিয়ার কথায় নাকি দেশ চলবে। যা হস্যকর। তারা যে ফাকা বুলি করে চলে আমরা আগেই থেকেই বুঝতে পেরেছি।
তবে এবার মানুষও বুঝতে পেরেছে। কই ১০ ডিসেম্বর পার হয়ে যাওয়ার পরেওতো আওয়ামী লীগ্রে সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুন্দর ভাবে দেশ চলছে। বিএনপি ফাকা মাঠে গোলা পানিতে মাছ সিকার করতে চাইছে। কিন্তু তাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাদের নৈরাজ্য প্রতিহত করার জন্য আমরা সব সময় শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং আমাদের এমপি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে প্রস্তুত রয়েছি।
তারা কিভাবে দেশ চালাবে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে সাজা প্রাপ্ত আসামী, তার পুত্র তারেক জিয়া দুর্নীতি মামলায় আসামী হয়ে দেশের বাইরে আছে। তাহলে তারা কিভাবে দেশ চালাবে। তারেক জিয়াতো তার মায়ের পাশে নেই। মানুষের পাশে কি করে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা বিএনপি ষড়যন্ত্র করেও বাধা তৈরী করতে পারবে না।
এস.এ/জেসি


