আরো শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফেরার প্রত্যয় বিএনপির
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৫৫ পিএম
# নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে জেলা ও মহানগর বিএনপি
দেড় যুগের ও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাহিরে অবস্থান করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এই দেড় যুগে বিএনপি কোনো আন্দোলন সংগ্রাম করতে সক্ষম হয়নি। নানা সময় নানা ধরণের মামলা হামলা ও আক্রমনে তারা এগিয়ে আসতে পারেনি। মাঠে উজ্জ্বীবিত ভাব দেখাতে অনেকটাই ব্যর্থ হয়ে পরেছিলেন ।
কিন্তু চলতি বছরে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এবং ব্যাপক ভূমিকা পালন করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর ছিল বিএনপির আরেক চমকের কেন্দ্র বিন্দু। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নানা মামলা হামলার শিকার হতে হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীদের।
যার কারণে তারা নানা কৌশলে যে যার যার স্থানে আত্মগোপনে ছিল। কেউ নিজ নিজ গৃহস্থলে ভালো করে থাকতে পারেনি। যারা কারণে অনেকেই মনে করেছিল ১০ই ডিসেম্বরের মহা সমাবেশ বিএনপি আর সফল করতে পারবে না। কিন্তু সকল কল্পনা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১০ই ডিসেম্বরকে সফল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা এবং সমাবেশে নানা বার্তা ও ১০ দফা আন্দোলনের ডাক পেয়ে অনেকটাই উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছে বিএনপি।
যার কারণে তাদের ধারণা এখন আর তাদের কোন মামলার ভয় নেই। কোন হামলার ভয় নেই এখন আমাদের মনোবল আরো জেগে উঠেছে। আর তৃণমূলের দাবি আগামীতে আমরা কোনভাবেই কাউকে ছাড় দিব না। আর বিগত দিনে আরো শক্তিশালী হবার দাবি বিএনপির।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা বিগত দিনে অনেক মামলা হামলাকে উপেক্ষা করে ও আমরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা বিগত দিনে বর্তমান সরকার যতগুলো আমাদের নামে গায়েবী মামলা দিয়েছে সেগুলো থেকে জামিন পাওয়ার জন্য আমরা শত শত নেতা হাইকোর্টে দৌড়ঝাপ করছি।
আর আপনারা অবগত আছেন বিএনপির মধ্যে এমন কোন নেতা নেই যার কোন মামলা নেই। সকলেই কিন্তু নানা গায়েবী মামলাগুলোকে খালাস করার জন্য অনেকটাই চেষ্টা করে যাচ্ছে। গত চারদিন আগে আমাদের নয়াপল্টন পার্টি অফিস থেকে আমাদের রূপগঞ্জ যুবদলের এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছিলেন পুলিশ।
তিনি পুলিশে গ্রেফতার হওয়ার পরে বলেছিলেন আমার এক সন্তান তিন বছর আমার যদি কিছু হয় তাহলে ছেলের দায়িত্ব নিবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতাকাল কিন্তু আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান তারেক রহমান সাহেব আমাদের দিপু ভূইয়ার কাছে কল করে বলেছেন সেই ছেলের ও তার পরিবারের খোঁজ খবর নিতে।
তারই ধারবাহিকতায় কিন্তু আমরা কালকে তাদের বাসায় খাবার পাঠিয়েছি এবং তাদের পরিবারের নানা খোঁজ খবর নিচ্ছি। আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের এ ধরনের খোঁজ খবর নেওয়ার কারণে কিন্তু নেতাকর্মীরা আরো উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছে। আর এখন কেউ মামালা নিয়ে চিন্তিত না।
বিগত দিনে ও আমি যখন যুবদলের আহ্বায়ক ছিলাম তখনও কিন্তু কোন দায়িত্ব অবহেলা করি না এখন ও করি না। আর আপনারা জানেন বিগত দিনে আমরা কত শক্তিশালীভাবে ও বিশাল নেতাকর্মী নিয়ে সকল কর্মসূচী পালন করেছি। ইনশাআল্লাহ আশা করছি আগামীতে ও সকল বাধাকে উপেক্ষা করে আরো শক্তিশালীভাবে মাঠ গরম করবো।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুর ইসলাম রাজীব যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে দেশের সাধারণ মানুষের সকল অধিকারকে হরণ করে রেখেছে। যার কারণে সাধারণ মানুষের পিঠ এখন পুরোপুরি দেয়ালে ঠেকে গেছে। যার কারণে মানুষ এখন আর এ সরকারকে পছন্দ করে না।
মানুষ এখন চায় স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করার অধিকার। মানুষ চায় নিজের ভোট নিজের দেওয়ার অধিকার। এখন সবাই অবগত আছেন বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের নানা লুটপাটের কারণে দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় মুল্যের দাম এখন হাতের নাগালের বাহিরে। সাধারণ মানুষের এ সকল পরিপূর্ণ রূপ দেওয়ার জন্য জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নানা কর্মসূচি আমরা পালন করছি।
১০ই ডিসেম্বর ছিল আমাদের সেই কর্মসূচির একটি অংশ এই সমাবেশকে বাঞ্চাল করার জন্য বিগত দিনের মতোই নানা মামলা হামলা দিয়ে আমাদের দমানোর চেষ্টা করেছিলেন প্রতিটি পাড়া মহল্লায় বাধা দেওয়া হয়েছে কিন্তু সকল চেষ্টা করেও কোন সফল হতে পারেনি আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। আমরা সকল বাধা পেরিয়ে কিন্তু সমাবেশে সফল করেছি। আর আমরা দেখিয়ে দিয়েছি বিএনপি শান্তিুপূর্ণ সমাবেশে করতে পারে।
ইতি মধ্যে আমাদের ২৪ তারিখের ১০দফা আন্দোলনের কর্মসূচী দেওয়া হয়েছে। তারা মাঝামাঝি যদি আরো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি আমাদের দেওয়া হয়। তাহলে সেটাকে পালন করতি যদি কোন বাধা ও আসে আমরা তা পেরিয়েই সকল কর্মসূচি সফল করবো। এখন আমরা বিগত দিনের থেকে ও আরো শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফিরবো।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম টিটু যুগের চিন্তাকে বলেন, আপনারা অবগত আছেন আমাদের ১০টি বিভাগে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর ১০ই ডিসেম্বর যে জন সমাবেশ হয়েছে তাকে কেন্দ্র করেই ১০দিন আগে থেকেই আমাদের উপরে নানা গায়েবী মামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে চেষ্টা করেছিলেন আমাদের এই সমাবেশকে বাঞ্চাল করতে।
কিন্তু তারা তা করতে পারেনি এটা সমাবেশ থেকে গনজোয়ারে পরিনত হয়েছে। এবং আমাদের এ সমাবেশের পর থেকেই আমরা আগে থেকেও আরো উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছি। আর আমাদের যতগুলো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হবে ইনশাআল্লাহ সবগুলো আমরা ব্যাপকভাবে পালন করবো।
এ বর্তমান সরকার যতই হামলা মামলা নির্যাতন নিপীড়ন করে আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। এখন আগের থেকেও আমাদের মনবল অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আমরা আরো শক্তিশালী হয়ে গিয়েছি এখন আর কোন বাধাকে আমরা বাধা মনে করি না। আমরা সকল বাধাকে উপেক্ষা করেই সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবো।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা বিএনপি করি আর বিএনপি হলো এটা শান্তির দল। আর আমরা দলের যতই কর্মসূচি আশুক না কেন আমরা কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবেই সকল কর্মসূচি পালন করে আসি। বিগত দিনে আমরা সকল নেতাকর্মীরা যেভাবে সকল কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেছি।
আর এখন ও কেন্দ্রীয় যত কর্মসূচি আমাদের আসবে সবগুলোতে আমরা ব্যাপকভাবে অংশ গ্রহণ করবো এটা আমাদের রাজনৈতিক অধিকার। আর ১০ই ডিসেম্বর যে মহা সমাবেশ হয়েছে তার কারণে আমাদের নেতাকর্মীরা আরো উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছে। যার কারণে আমরা আশাবাদী বিগত দিন থেকে এখন সবগুলো কর্মসূচিতে আমরা ব্যাপক ভূমিকা পালন রাখতে পারবো।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, ১০ই ডিসেম্বর আমাদের যে মহা সমাবেশ হয়েছিল তাকে কেন্দ্র করে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা গায়েবী মামলা দিয়েছিলেন।
যার কারণে আমরা এ মামলা হামলা থেকে বাঁচার জন্য আমরা কৌশল অবিলম্বন করেছিলাম। আর আমরা বিগত দিনের সকল প্রোগ্রাম আমরা ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছি। এবং আগামীতে আমরা আমাদের সকল কেন্দ্রীয় প্রোগ্রাম ব্যাপক ভূমিকা পালন করবো ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামীকাল আমাদের কেন্দ্রীয় প্রোগ্রাম রয়েছে আবার ২৪ তারিখ থেকে ১০ দফা আন্দোলনের প্রোগ্রাম রয়েছে।
ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করছি এই দুই প্রোগ্রাম নারায়ণগঞ্জ মহানগরের পক্ষ থেকে ব্যাপকভাবে পালন করবো। আর এখন ১০ই ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানের পর থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি নেতাকর্মীরা আরো উজ্জ্বীবিত হয়ে গিয়েছে। আর আমরা তাই এখন সকল কর্মসূচীতে আগে থেকে আরো শক্তিশালী হয়ে পালন করতে পরবো।
এস.এ/জেসি


