আগামী ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনের তারিখটি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ। তবে এই কাউন্সিল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবন্দের মধ্যে।
এর আগে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্য থেকে ৮টি ওয়ার্ড থেকেই সম্মেলনের কাউন্সিলর বা ভোটারদের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। সেই অভিযোগ জেলা কমিটিকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। এরই মধ্যে গত মাসের শেষের দিকে বেশ কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
যার ফলশ্রুতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির পক্ষ হতে জানানো হয়েছিল আপাতত একটি খসড়া কাউন্সিলরের তালিকা প্রকাশ করা হবে। তাতে কোন প্রকার অভিযোগ থাকলে তা সংশোধন করার পর কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে সেই তালিকা দিয়েই সম্মেলন করার জন্য হুট করে এই তারিখ নির্ধারণ করায় ফুঁসে উঠেছে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে।
কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ও থানা আওয়ামী লীগের সদস্য ইশতিয়াক আহাম্মেদ জারজিস বলেন, যাদেরকে ভোটার নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা নিজেরাই যদি প্রার্থী হন তাহলে সেই জায়গায় নির্বাচন বা কাউন্সিল সঠিক হয় কি করে।
এখানে ইউনিয়ন কমিটির বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কারা ভোটার বা কাউন্সিলর হবেন সেই তালিকা তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তারা নিজেরা এবারের কাউন্সিলেও এই পদ ধরে রাখতে আগ্রহী এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইতেছেন, সে অবস্থায় তারা অবশ্যই চাইবেন নিজেরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন সেই অনুযায়ী ভোটার বা কাউন্সিলরের তালিকা করতে।
তাই এই কাউন্সিল ধারা কোন অবস্থায়ই তৃণমূলের চাহিদা অনুযায়ী সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা নাই। এরই মধ্যে প্রায় সকল ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন কাউন্সলর বা ভোটারের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়েছে। আমরাও যেহেতু মাত্র কাউন্সিলের তারিখ জানতে পেরেছি। তাই বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল সবার সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে আমাদের করনীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদ জানান, কলাগাছিয়া আওয়ামী লীগের কাউন্সিল করার জন্য আগামী ২০ ডিসেম্বর আমাদের কাছে সময় চেয়েছে তারা (ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সম্পাদক)। আমরা তাদের জানিয়েছি তারা যদি এত অল্প সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে পারে তাহলে আমাদের পক্ষ হতে কোন সমস্যা নেই।
আমি তাদের হ্যা বলে দিয়েছি। কাউন্সিলর নির্ধারণে অনিয়মের বিষয়ে এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে বেশ কয়েকটি দরখাস্ত (অভিযোগ) এসেছে এবং আমরা কাউন্সিলর নিযুক্ত করার দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাধ্যমে তা সংশোধন করেছি।
আমি চাইতেছি এই কাউন্সিলরটা স্বচ্ছভাবে করার জন্য। যাতে তৃণমূল থেকেই এখানকার নেতৃত্ব আসে। এর আগে একটি খসড়া কাউন্সিলরের তালিকা করা এবং এর মধ্যে কোন অভিযোগ থাকলে তা সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করার কথা উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে বলা হয়েছে সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সেখানে ছিলাম না, আমাদের সম্পাদক এই কথা বলেছে এবং ঠিকই বলেছে।
আমরা যদি কাউন্সিল করি এবং ভোটের মাধ্যমে যাই, তাহলে কমপক্ষে ভোটার তালিকাটায় স্বচ্ছতা থাকতে হবে, আমরা সেটা করবো। যারা প্রার্থী হবেন, আমরা তাদের কাছে কাউন্সিলরের তালিকা দিয়ে দিব। তবে এখানে অনেকেই অতি উৎসাহিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ দেয়, অথচ আমাদের কাছে বললে আমরা সংশোধন করতেই পারি।
এস.এ/জেসি


