Logo
Logo
×

রাজনীতি

কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে সেমিফাইনাল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৩ পিএম

কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে সেমিফাইনাল
Swapno

 

# মানসিক সমস্যা থেকেই এসব বলে যাচ্ছেন : সাখাওয়াত
# মাঠে নামেন দেখি কতটুকু খেলতে পারেন : টিপু
# তারা যে খেলার কথা বলে সেটা মানুষ হত্যার খেলা : খোকন

 

 

গত সোমবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গায় জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন,  বিএনপির কত হাঁক ডাক সরকার পতনের কত দিবা স্বপ্ন সব খতম। এই খেলা শেষ হয়ে গেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের বিজয় হয়েছে। সামনে সেমিফাইনাল, তার পর জাতীয় নির্বাচনে ফাইনাল খেলা হবে।

 

 

বাংলাদেশের আন্দোলনে যারা হারে, নির্বাচনে তারা বিজয়ী হতে পারে না। বিএনপির সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা হয়েছে। এরপর সেমি ফাইনাল হবে। নির্বাচনে হবে ফাইনাল খেলা। সব খেলায়ই তারা হারবে। ১০ ডিসেম্বর গেলো। শুধু আতঙ্ক সৃষ্টি ছাড়া কিছুই করতে পারেনি। সব অচল করে দেওয়ার ছক এঁকে বিএনপি এখন নিজেরাই অচল। তাদের ১০ দফা দাবির মধ্যে নতুন কিছু নেই।

 

 

এরপরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে মেনে নেওয়ার মতো কোনো দাবি আছে কি না। কত হাঁক ডাক সরকার পতনের কত দিবা স্বপ্ন সব খতম। এই খেলা শেষ হয়ে গেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের বিজয় হয়েছে। সামনে সেমিফাইনাল, তার পর জাতীয় নির্বাচনে ফাইনাল খেলা হবে।

 

 

বাংলাদেশের আন্দোলনে যারা হারে, নির্বাচনে তারা বিজয়ী হতে পারে না। তার এ ধরনের বক্তব্যকে রাজনৈতিক বক্তব্য না বলে পাল্টা বক্তব্য রাখলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

 

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, মাথায় মানসিক সমস্যা থাকলে যেভাবে মানুষ বক্তব্যে দেয় তার বক্তব্যটা আমরা তেমনই মনে করি।

 

 

ওবাইদুল কাদের সাহেব সকলকে যেভাবে বুঝাতে চেয়েছে যে ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ সফল হয়নি। আমরা সর্বক্ষেত্রে সরকারকে বলতেছি আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে চাই। কিন্তু তারা তা চাচ্ছে না তারা আমাদের নাম দিচ্ছে জ্বালাও পোড়াও সংগঠন। কিন্তু বিএনপি তা করেনি বিএনপির নেতাকর্মীরা সব সময় ধৈর্য্যর পরিচয় দিয়ে রাজনীতির সকল কর্মসূচি চালিয়ে গিয়েছে।

 

 

আমরা কিন্তু যে ১০ টা বিভাগীয় সমাবেশ করলাম এটার মধ্যে ও বলি নাই এটা আমাদের চূড়ান্ত আন্দোলন আমরা ও আমাদের সকল মূল নেতাকর্মী বলেছে এটা আমাদের আন্দোলনের প্রথম ধাপ। আর সরকারের নেতাকর্মীরা বার বার আবল তাবল বলে চাচ্ছে আমাদের উত্তেজিত করতে। তারা খেলা হবে এটা কিসের খেলা আমি আওয়ামী লীগের নানা নেতাকর্মীকে বলতে চাই রাজনীতি কোন খেলা না।

 

 

আর তারা যে বার বার বলতে চায় বিএনপির সমাবেশ সফল হয়নি। তারা কত বাধা দিয়েছে আমাদের কত মূল মূল নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু দেখেন যখন আমাদের স্থান ঠিক হয়েছে তার ১ থেকে ২ ঘন্টার পরেই পুরো মাঠ লোক দিয়ে লোকারন্ন হয়ে গেছে।

 

 

আর তারা বলে সফল হয়নি এ ধরনের বক্তব্য ওবাইদুল কাদের সাহেবের মতোই লোকদের মুখে শোভা পায়। কারণ তারা ক্ষমতায় আসছেই জনগণের ভোট দূনীতি করে।

 

 

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ করে এ দেশকে স্বাধীন করেছে।তারা কিন্তু অনেক স্বপ্ন নিয়েই এ দেশকে স্বাধীন করেছে। তারা তা উপভোগ করতে পারছে না। আজকে জনগণের ভাগ্য নিয়ে খেলছে আওয়ামী লীগ। রাজনীতি কি রাজনীতি হলো মানুষের সেবা করা এইটাই কিন্তু রাজনীতি হওয়ার কথা ছিল।

 

 

কিন্তু আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি রাজনীতির মাঠে খেলা শব্দটা বেশি উচ্চারন হচ্ছে। কাকে নিয়ে হবে এ খেলা জনগণের টাকা ব্যাংক থেকে লুটপাটের খেলা। কিছুদিন আগে আপনারা দেখতে পেয়েছেন যে রূপগঞ্জের এক যুবদল নেতা না সারফারাজ তাকে গ্রেফতার করেছিলেন পুলিশ তখন তিনি বলেছিলেন আমার যদি কিছু হয় আমর সন্তানের দেখা শোনা করবে তারেক রহমান।

 

 

কিন্তু আপনারা দেখেন লন্ডনে বসে কর্মীদের এ আর্তনাদ শুনতে পেয়েছে তারেক রহমান আর তিনি এখন তাদের পরিবারের পাশে এসে দাড়িয়েছে। আর প্রতি নিয়মিত বার বার ফোন করে তিনি খোঁজ খবর নিচ্ছে। ওবাইদুল কাদের সাহেব যে খেলার কথা বলে সেটা মানুষ মারার খেলা ওরা মানুষ হত্যা করছে।

 

 

দেখেন তারা নয়াপল্টনে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জে, ভোলায় বিভিন্ন জেলায়। আর তারা এটাকে বলে থাকে খেলা মানুষ হত্যার খেলা বিএনপি খেলে না। বিএনপি মানুষের ভাগ্য উন্নয়ণের জন্য চিন্তা করে। আর আমরা আগামীতে কোন ছাড় দেব না। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশে পূনরায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।

 

 

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন,  একটা দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতা তারা এগুলো যা বলে তা কখনো শোভা পায় না। তারা যে ভাষায় কথা বলে তা হল গ্রাম দেশের ঝগড়া হলে যে ভাষায় কথা বলে তাদের ভাষা এখন পুরোপুরি এ ধরণের।

 

 

কারণ উনি বলেছে কোয়ার্টার ফাইনাল, ফাইনাল খেলা কিন্তু আমি তাকে মনে করিয়ে দিতে চাই রাজনীতি কোন খেলা না। যদি খেলা হয়ে থাকে তাহলে দুই পক্ষ দুইদিকে থাকবে মাঝখনে রেফারি থাকবে। কিন্তু তারা পুলিশ প্রশাসন র‌্যাব এগুলোকে ব্যাবহার করে কেন।

 

 

আমি তাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই আপনারা মাঠে আসেন পুলিশ, র‌্যাব, আর অবৈধ অস্ত্র রেখে আমরা আপনাদের দেখাবো খেলা কাকে বলে। আর তিনি বলতেছে বিএনপির আন্দোলন শেষ এটা বলে তিনি তার আত্মাকে তিপ্তি পাওয়াতে পারে। কিন্তু উনি যে ভয় পেয়েছে উনার দলের নেত্রী যে ভয় পেয়েছে। এটা তাদের কথা বার্তা আর কার্যকালাপে আমরা বুঝতে পেরেছি।

 

 

যদি তারা বিএনপিকে কোন ফ্যাক্টর মনে না করতো তাহলে বিএনপিকে নয়াপল্টনে সমাবেশ দিলে কোন সমস্যা তো হতো না। তারা আগে ও বিএনপির নানা সমাবেশ বানচাল করেছে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আর এখন তারা করতেছে তাদের পালিত পুলিশ বাহিনী দ্বারা।

 

 

উনাকে যদি তাদের পালিত পুলিশ ও অবৈধ অস্ত্র রেখে মাঠে নামে তাহলে দেখা যাবে তারা কতটুকু খেলতে পারে তারা কত বড় মাপের খেলোয়াড়। ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু যখন ভাষন দিয়ে ছিল তখন কি কোন অনুমতি নিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের কাজ থেকে আর তারা এখন বলে সমাবেশ করতে হলে পুলিশের প্রসাশনের অনুমতি নিতে হবে।

 

 

আমি আশা করবো ওবাইদুল কাদের সাহেব একজন ভালো নেতা উনি রাজনীতি ভাষায় যাতে সকল কথাবার্তা বলে কোন সন্ত্রাসীদের ভাষায় না। এবং বিএনপি রাজপথে ছিল এখন ও আছে ভবিষ্যতে ও থাকবে। বাংলাদেশের সাধারণ জনগন এখন সদাসর্বদা বিএনপির সাথে আছে এবং থাকবে।

 

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন যুগের চিন্তাকে বলেন, ওবাইদুল কাদের সাহেব এক্সপায়ার হয়ে গেছে। তার আর রাজনীতিতে থাকাটা আমি মনে করি উচিত না। তার থেকে আরো অভিজ্ঞ নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে আছে। কারণ তিনি কখন কি বলে তার কোন বেলু নাই। তিনি বলতেছে কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে গেছে এখন সেমিফাইনাল।

 

 

আমার মনে হয় উনি খেলা বুঝে না। কোয়ার্টার ফাইনালে যদি একটি দল হারে তাহলে সে আবার সেমিফাইনালে কিভাবে যায়। তাই আমি মনে করি তাকে ভালো একটি হসপিটালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া উচিত। আমরা বলতে চাই তাকে দিয়ে আর হবে না আওয়ামী লীগ একটি বড় দল আর তারা যদি এ ধরনের মানসিক রোগীকে সাধারণ সম্পাদকের পদ দিয়ে রাখে তাহলে এটা তাদের জন্য ভূল।

 

 

অতএব আমি অনুরোধ করবো তাকে যাতে একটি ভালো হসপিটালে নিয়ে ভর্তি করে। এখন দেখেন তার কিন্তু কোন ভাষা হাটাচলা কিছুর মধ্যেই মিল নাই। দেখেন এখন দেশের কি অবস্থা দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি মানুষ না খেয়ে বসে আছে আর উনি এ সব কিছুকে খেলার সাথে মিলাচ্ছে। জনগণ এখন নাবিশ্বাস হয়ে গেছে তাই আমি মনে করি এ সরকারের পতন অবশ্যই হবে।

 

 

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান খোকা যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা ওবাইদুল কাদের সাহেবের কোন বক্তব্যকে আমলে নেই না। আমাদের পথে আমরা হাটতেছি আমরা গণতন্ত্র এবং ভোটের অধিকারের জন্য কাজ করতেছি। উনি বেদিশা হয়ে নানা কথা বলছেন। এতে বিএনপির কিছু আসে যায় না। দেশের ১৬ কোটি মানুষ এখন বিএনপির সাথে চলে এসেছে।

 

 

নিত্য প্রয়োজনীয় মূল্যের উর্ধ্বগতি ও জীবন যাপনের যে কঠিনতম পাঠ শুরু হয়েছে। এর ভিতর থেকে এ দেশের জাতি আর তাদের মুখোমুখি হতে চায় না। আপনারা জানেন ১৯৭১ সালে এ দেশে যুদ্ধ হয়ে ছিল দেশকে পাকিস্তানিদের হাত থেকে মুক্তি করানোর জন্য। সেই ধরনের আরেকটি যুদ্ধ চালু হয়েছে।

 

 

বিএনপি এখন তার নেতৃত্ব দিচ্ছে জনগণকে সাথে নিয়ে যার কারণে জনগণেরই বিজয় হবে। আবার বিএনপি দেশের ভোটের অধিকার চালু করবে। আর মানুষের গণতন্ত্র মানুষকে ফিরিয়ে দিবে। আমাদের সংগ্রাম চলবে তার মাঝে তারা যতই আবল তাবল বলুক না কেন।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন