Logo
Logo
×

রাজনীতি

কলাগাছিয়ার অভিযোগ কেন্দ্রে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫৬ পিএম

কলাগাছিয়ার অভিযোগ কেন্দ্রে
Swapno

 

# বিষয়টি জেনেছি, বন্ধ করার জন্য বলে দিয়েছি : আবদুল হাই
# কাউন্সিল কিংবা ভোট হলে স্বচ্ছ তালিকায় হবে : এমএ রশিদ
# কোন প্রতিকার না পেয়ে জেলা ও কেন্দ্রকে জানিয়েছি : কুতুব উদ্দিন

 

দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হবে জেনে সেখানকার নেতৃবৃন্দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল উৎসাহ, উদ্দীপনার। বহু হতাশা ও না পাওয়ার মাঝেও সেখানকার নেতৃবৃন্দের মধ্যে তৈরি হয়েছিল চাঞ্চল্যের। কিন্তু সেই উৎসাহ ও উদ্দীপনায় মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন অভিযোগ। কাউন্সিল করার জন্য যে কাউন্সিলরের তালিকা তৈরি হচ্ছে তাদের মধ্যে বিএনপি জামায়াতসহ বিতর্কিত ও হাইব্রীড এবং সংগঠন বহির্ভূত নিয়মে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে এই বিষয়ে উপজেলা কমিটির বরাবর অভিযোগ করা হলেও বিষয়টির কোন প্রতিকার না নিয়েই কাউন্সিলের পায়তারা করা হচ্ছে অভিযোগ করছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

তাদের দাবি দীর্ঘ ১৯টি বছর যারা এই এই কমিটি পদ দখল করে বসে আছে তারাই এখন আবারও এই পদে থাকার জন্য প্রার্থী হচ্ছেন। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, যারা এতদিন যাবত এই পদ আগলে রাখছেন এবং এই পদে পুনরায় থাকার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাদের হাতেই দেওয়া হয়েছে কাউন্সিলর বা ভোটার তৈরির তালিকা করার দায়িত্ব। তাই তারা তাদের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য নিজেদের পছন্দের লোককে তালিকায় রেখেছেন। সেখানে কে সত্যিকারের আওয়ামী লীগের কর্মী এবং কে বিএনপি বা জামায়াতের লোক সে বিষয়ে কোন দৃষ্টি দেওয়া হয়নি বলে জানান তারা। বিষয়টির কোন প্রতিকার না পেয়ে তা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। যার অনুলিপি আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক কমিটিকেও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

 

স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সম্মেলন না হওয়ার কারণে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘদিন যাবত এই পদে বহাল আছেন। এবারও আবার তারা এই পদে থাকতে চাইছেন। অন্যদিকে এই কাউন্সিলে কারা কাউন্সিলর হবে তার তালিকা করার দায়িত্বও পেয়েছেন তারা। তাই তারা একই পরিবার থেকে ৩/৪জন করেও কাউন্সিলর করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। সবচেয়ে বড় যে বিষয় তাহলো, তালিকায় থাকা বেশ কিছু কাউন্সিলরের নাম আছে যারা নাকি বিএনপি এবং জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে বিষয়টিতে হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুবউদ্দিন বলেন, তারা কাউন্সিলরের যে তালিকা তৈরি করেছেন সেখানে বেশ কিছু জামাত বিএনপির নেতার নাম আছে। আমি যে এলাকার সভাপতির দায়িত্বে আছি, সেই এলাকার কাউন্সিলরদের তালিকা তৈরি করার জন্য কার কার নাম দেওয়া যেতে পারে সেই বিষয়ে পরামর্শ করবেতো দূরের কথা আমাকে জানায়ওনি। যা সংগঠনের নিয়ম বহির্ভূত। তিনি বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান যে সভাপতি, তিনি তার বাড়িতেই পাঁচজন ভোটার (কাউন্সিলর) করেছেন। তারা ব্যাংকে চাকরি করে।

 

তারা কখনও আমাদের কোন কার্যক্রমে ছিলেন না। এরকম আরও বহু হয়েছে, একটি পরিবার থেকেই যদি পাঁচজনের নাম তালিকায় দেওয়া হয়। এই অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদককে প্রথমে জানিয়েছি, পরে আবার লিখিত অভিযোগও করেছি। তারা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তাই আমরা নিরূপায় হয়ে জেলা কমিটিকে লিখিত অভিযোগ করেছি এবং কেন্দ্রীয় কমিটিকেও এর অনুলিপি পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, আমরা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ কাউন্সিল চাইছি। যারা উপযুক্ত, এখানকার আওয়ামী লীগের তৃণমূল সত্যিকার অর্থেই যাদের নেতা হিসেবে চায়, তারাই যেন দায়িত্বে আসে। এই ওয়ার্ডে বাস করা বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনের নামটি পর্যন্ত কাউন্সিলরের তালিকায় দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

এরই মধ্যে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ জানিয়েছেন, তার কাছে বেশ কয়েকবার অভিযোগ এসেছে এবং তিনি কয়েকটি নামের অশোভনীয়তা দেখে বেশ কয়েকবার কয়েকটি নাম ঠিক করিয়েছি। তবে সম্মেলনের তারিখের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা আমাদের একটি তারিখ দিয়েছে। আমি বলেছি এত অল্প সময়ের মধ্যে যদি তারা করতে পারে, সব ধরণের প্রস্তুতি নিতে পারে তাহলে আমাদের কোন সমস্যা নেই। তিনি জানান, কাউন্সিল যেন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয় তারা সেটিই চান। কমিটি গঠন যদি কাউন্সিল কিংবা ভোটের মাধ্যমে হয় তবে সেটা স্বচ্ছ তালিকায় হবে। আমরা সেটা করবো। যারা প্রার্থী হবেন, আমরা তাদের কাছে কাউন্সিলরের তালিকা দিয়ে দিব।

 

বিতর্কিতদের নিয়েই কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে সেই ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। সাধারণ সম্পাদককে (বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) আমি বলে দিয়েছি বন্ধ করার জন্য। বিষয়টি যদি সত্যি হয় তাহলে ঠিক করার জন্য। আমি বলে দিয়েছি যেন তালিকাটি ঠিক করে যে যে বিষয়ে অভিযোগ আছে সেগুলো দেখে যাচাই বাছাই করার জন্য। কমিটিতে যেন বিতর্কিত কেউ না আসে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন