# অভিযোগ সহ্য না হওয়াতেই এতো লম্ফঝম্ফ
বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া আওয়ামীলীগের সম্মেলনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা কাউন্সিলর তালিকাকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগের বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দর ফরাজীকান্দায় অবস্থিত আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি আমিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম কাশেম। কলাগাছিয়া আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি আমিরুজ্জামান বলেন, আমরা উপজেলা কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক কাউন্সিলরদের তালিকা প্রস্তুত করেছি। আমরা প্রায় ২০/২৫ দিন আগে তালিকাটি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের নিকট জমা দিয়েছি।
পরে তা সভাপতির নিকট যায়। সভাপতির কার্যালয় থেকে তা যেকোন উপায়েই হোক ফাঁস হয়ে যায়। যা ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে বিভিন্ন নেতাদের মোবাইলে ঘুরতেছে। কিন্তু সেটি নিয়মানুযায়ী সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ছিল যথাযথ সংরক্ষণ করা। তারা অনুমোদন দেওয়ার আগেই তালিকাটা ফাঁস হয়ে যায়।
আমার কাছে প্রমাণ আছে যে, তালিকাটি সভাপতির রুম থেকেই ফাঁস হয়েছে। তালিকাটি ফাঁস হওয়ার পরে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অভিযোগ আসতেছে। তিনি বলেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতিগণ কি বলেছেন সে বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে কুতুবউদ্দিন সাহেব দাবি করতেছেন তিনি ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি।
ওনি হয়তো জানেন না, এই ওয়ার্ড কমিটি উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করার আগেই ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। সে একজন জ্ঞানপাপী, আমার মনে হয় সে আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রের বিষয়ে সে কিছুই জানে না এবং বুঝে না। যেখানে তিন বছর আগেই ওয়ার্ড কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে, আর আমরা মাত্র ২০/২৫দিন আগে এই তালিকা তৈরি করেছি, তাই তাকে জিজ্ঞেসে করার কোন কারণ নাই।
আমরা সেখানকার যারা সত্যিকারের আওয়ামীলীগ করে এবং আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক সেসব মুরুব্বীদের সাথে আলাপ করে পরামর্শ করে তালিকা তৈরি করেছি। উপজেলা আওয়ামীলীগের কাছে অভিযোগ করে থাকলে তাদের উচিৎ ছিল ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করা তারা এর সমাধান করেন কি না।
এ সময় তিনি তার পরিবারের সদস্যদের কাউন্সিলর বানানোর যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাদের সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি একসাথে মিলে ওরা ১৭ জন লোক আছে, যারা মিলে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক একসাথে বসেই আমাদের সম্মেলনের তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করেছেন।
আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, আমরা ২০ তারিখের জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের কাউন্সিল হবে আমরা আশাবাদি। তিনি বলেন ব্যবসায়িক বা অন্যান্য কারনে উপজেলা সভাপতির সাথে যোগাযোগটা কম হয়। আমার অনুমতি নিয়ে সমস্ত কাজই কাজ করেন সাধারণ সম্পাদক।
কলাগাছিয়া আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম কাশেম বলেন, পত্রিকায় যা প্রকাশিত হয়েছে তার সাথে বাস্তবের মিল নেই। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কিন্তু বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসছে না। নিশ্চয়ই আমরা সেই ওয়ার্ডটি মাইর দিয়েই তালিকা তৈরি করেছি।
গঠনতন্ত্রের কোন জায়গায় উল্লেখ নেই যে অঙ্গ সংগঠনের কাউকেই আমরা কাউন্সিলর করবো। তবে এখানে তার কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তারা দেখে নাই। দেখলেই বুঝতে পারতো যে তালিকাটা কত সুন্দর হয়েছে। এই বিষয়ে কুতুবউদ্দিন জানান, আমি দীর্ঘ নয় বছর যাবত ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি এবং এখন পর্যন্ত আছি।
অথচ তারা বলতেছেন তারা নাকি কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছেন। কিন্তু আমার জানা মতে কমিটি ভাঙ্গার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কোন প্রকার নোটিশ, চিঠি বা কোন প্রকার সম্মেলনও হয়নি। আমি গত সপ্তাহ দু’এক আগেও উপজেলার সম্পাদকের সামনেই সভাপতিকে জিজ্ঞেসে করলাম, বললাম রশিদ ভাই, ওয়ার্ড কমিটি কি ভেঙ্গে দিয়েছেন? তিনি বলেছেন, না আপনারা বহাল আছেন।
তখন আমি সম্পাদককে সাক্ষি রেখেছি। সে সময় সেখানে আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলনের জন্য তৈরি করা কাউন্সিলর তালিকার অভিযোগের বিষয়ে প্রায় মাস খানেক আগেই বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর প্রকাশ করা হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামীলীগের নজরেও আসে।
তাই বিষয়টি নিয়ে কাউন্সিলরদের একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করার পর তাতে কোন অভিযোগ থাকলে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু সেই তালিকাটি গোপনে রেখে তারা হঠাৎ তড়িঘড়ি করে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করে দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের তৃণমূলে তৈরি হয় ব্যাপক সমালোচনা।
বিষয়টি নিয়ে যে উপজেলা আওয়ামীলীগের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে এই বিষয়টি নিয়েও এর আগে একাধিক মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মী সমর্থকদের মতে, যেখানে বিষয়টি নিয়ে প্রায় একমাস আগে থেকেই অভিযোগ করা হচ্ছে সেখানে বিষয়টির কোন সুরাহা না করে দ্রুত সম্মেলনের কাজ সেরে ফেলার তাগিদ কোন শুভকর্ম হতে পারে না।
এমনকি তালিকা ফাঁস হওয়ায় তাদের জ্বালা ধরার বিষয়টি এখন সবার মাঝে কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, একটি কমিটি গঠন করা হয় তিন বছরের জন্য। সেখানে তারা প্রায় দুই দশক যাবত এই একই পদে থেকেও এখন আবারও নতুন করে পদে থাকার জন্য তালিকা যাচাই বাছাই করার কোন সুযোগ না দিয়ে তাদের করা তালিকা দিয়েই দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে পদটি কুক্ষিগত করতে চাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও অভিযোগ করেছেন যে, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। পত্রিকায় কারও বক্তব্য এবং দলিল ছাড়া কোন সংবাদ প্রকাশ করা হয়নি এবং এখানে মিথ্যের কোন অস্তিত্ব নেই। বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। এন.এইচ/জেসি


