# কেন্দ্রের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কেটে যেতে শুরু করেছে
# আওয়ামীলীগেও নমনীয় সুর
উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কেটে গেছে জাতীয় পার্টিতে। জাতীয় পার্টির দুই কর্ণধার রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হওয়ার আহবান জানান। তবে কিছু দিন আগেও তাদের নিয়ে দুটি গ্রুপ তৈরী হয়। তখন জিএম কাদের কড়া বক্তব্য প্রদান করলেও এখন নমনীয়। আর এতে করে জাতীয় পার্টির নেতা কর্মী থেকে শুরু করে এমপিদের মাঝে যে সংশয় তৈরী হয়েছিল তাও মিটে গেছে। তারা আবারও ক্ষমতাসীন দলের সাথে শরীক দলে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া গত ১০ ডিসেম্বর বিএনপির এমপিরা পদত্যাগের পর তাদের সেই শুন্য আসনগুলো জাতীয় পার্টি নিতে চায়।
এদিকে যতই দিন অতিবাহিত হচ্ছে ততোই আগামী নির্বাচনের মাঠ গরম হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং বর্তমান এমপিদের ব্যাপারেও সকল খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাছাড়া তাদের শরীক দল জাতীয় পার্টির এমপিদের আমলনামাও ক্ষমতাসীন দল সভানেত্রীর হাতে রয়েছে। তাই এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা আগের মত সহজে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছে না। তাদের নিয়েও জটিল সমীকরণ রয়েছে। এই ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের দুই টি আসনের এমপিরা বাদ নেই।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে টানা ২ বার জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন। তার পার্শবর্তী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাবেক এমপি নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর তার শুন্য আসনে ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমান উপ-নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। তিনিও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে দায়িত্বে রয়েছেন। তবে তার আসনে এবার প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানে সহধর্মিনী পারভীন ওসমানও নিজের মত করে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত এবার জাতীয় পার্টি থেকে কে নমিনেশন পান সেদিকে তাকিয়ে আছে তাদের সমর্থকরা।
অপরদিকে জাতীয় পার্টিতে কয়েক দিনের টানাপড়েনের পর এবার সমঝোতার দৃশ্যপট সামনে এসেছে। তারই বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে গতকালকের চিত্রের মাধ্যমে। গতকাল জাতীয় পার্টির এমপি রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সক্ষাৎ। তবে এর আগে মাস খানিক সংসদের বিরোধী দলের নেতার পদ থেকে রওশন এরশাদের পক্ষ থেকে দলের কাউন্সিল আহ্বান, রওশনকে বিরোধী দলের নেতার পদ থেকে সরিয়ে দিতে চিঠি এবং দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় টালমাটাল অবস্থায় পড়ে দলটি।
এই তিন ইস্যুতে দলে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দেয়। পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার হন বেশ কয়েকজন নেতা। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে গতকালের সাক্ষাৎ তাদের সেই বিভক্তির অবসান হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধমহল। এমন অবস্থায় গতকালই হাইকোর্টের এক আদেশে জিএম কাদেরের দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে। সব মিলিয়ে দলে বিদ্যমান বিভেদ কেটে যাচ্ছে বলে আপাতত মনে করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন- জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টি কোন দিকে যাচ্ছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ পার্টি যে সমঝোতার পথে এসেছে সেখানে তৃতীয়পক্ষ সক্রিয় ছিল।
তৃতীয়পক্ষের পরামর্শ ও চাপের কারণেই জিএম কাদেরের অনুসারী নেতারা নমনীয় হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে পরিবর্তন হতে পারে পার্টির অবস্থানও। বিশেষ করে রওশন এরশাদ সরকারের সঙ্গে থেকেই নির্বাচনী মাঠে থাকতে আগ্রহী। কিন্তু জিএম কাদেরের অনুসারীরা পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে। এমন অবস্থায় তৃতীয়পক্ষের চাপ কতটুকু হয় সেটিও বিবেচনায় নিচ্ছেন কাদেরের অনুসারীরা। জিএম কাদেরের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই ওদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ফলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের দায়িত্ব পালনে আর কোনো বাধা নেই।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সনের নির্বাচনের পর ক্ষমাতসীন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জেলার ৫ টি আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন। কেননা গত দুই নির্বাচনেই শরীক দল হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতারাও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। তবে তারা আর তা করতে চান না। তাই ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এবার আর ছাড় দিতে নারাজ। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত মতে জেলার ২ আসনই যদি আবারও জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেয়া হয় তাহলে তাদের আবারও তাদের পক্ষে মাঠে ভোটের জন্য কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক বোদ্ধ মহলের মতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে জাতীয় পার্টির দুই কান্ডারি রওশন এরশাদ ও জিম এম কাদেরের সাক্ষাৎ সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তাই জাতীয় পার্টির নারায়ণগঞ্জের দুই এমপি কয়েক দিন আগে তাদের বিরোধ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও এখন স্বস্তিতে আছে। সেই সাথে তারা আবারও নির্বাচনের মাঠ গুছাচ্ছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ- ৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন নিজের মত করে মাঠ গুছিয়ে নিয়েছেন। সেই সাথে তার নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় পার্টি সাংগঠনিকভাবেও শক্তিশালী হয়ে আছে। এখানে আগামী নির্বাচনে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ থেকে যারা প্রার্থী হবে তারাও জাতীয় পার্টির এই জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে হিসেব নিকেষ কষছেন। তবে এইবারের নির্বাচন আগের দুই বারের মত হবে না তা তারাও বুঝতে পারছে। সব কিছু মিলিয়ে জাতীয় পার্টির জেলার দুই এমপির মাঝে যে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছিল তা সমাধান হয়ে যাওয়ায় তারা এখন স্বস্তিতে আছেন।
এস.এ/জেসি


