# আওয়ামী লীগের লোকেরাই বেশি অপকর্মে লিপ্ত থাকে : সেন্টু
#তার এমন বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বর্তমানে আওয়ামী লীগের একজন সদস্য হলেও তিনি বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করে থাকেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার চেয়ারম্যান হলেও এখনো তার রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে উঠাবসা এবং তাদের সাথে গভীর সখ্যতা। শুধু তাই নয় কুতুবপুরে বিজয় দিবসের একটি প্রেগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন যেই দল ক্ষমতায় থাকে তাদের দ্বারাই সকল ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়। আর বিএনপির লোকেরা কি করে অপরাধ করবে তারা তো মামলার কারনে এলাকায় থাকতে পারেনা।
জানা যায়, সেন্টু একসময় ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এবং সর্বশেষ কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি ছিলেন। তাকে দল থেকে দুই বার বহিস্কার করা হয়েছে সর্বশেষ ২০১৮ সালে স্থানীয় একজন প্রভাবশালী সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমানের নির্বাচনী সভায় উপস্থিত থেকে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার কারনে তাকে দল থেকে তাকে স্থায়ী বহিস্কার করা হয়।তবে বহিস্কারের পরপরই তিনি সেই সাংসদের হাত ধরে বনে যান আওয়ামী লীগের সদস্য।তবে তার এই আওয়ামী লীগে যোগদানটা হয় গোপনে যা প্রকাশ পায় ২০২১ সালের ১১ নভেম্বরের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের আগে।আর ওই নির্বাচনের আগে তিন তিনবার সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে কুতুবপুরের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।
তবে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে স্থানীয় সাংসদের আশির্বাদে সেই বিএনপির মনিরুল আলম সেন্টুকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়। আর এই সংবাদ সারাদেশে ছড়িয়ে পরলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচণার সৃষ্টি হয়। এমনকি কেন্দ্রে অনেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কারনে অভিযোগ জানালেও কোন কাজ হয়নি। আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বনে যান আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান।
আর তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান হওয়ার পর কুতুবপুরে তৃনমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনঠাসা করে রেখেছে। শুধু তাই নয় এখনো কুতুবপুর সহ ফতুল্লার বিএনপির এক অংশ তার সাথে প্রতিনিয়তই যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। আর সেই সকল বিএনপি নেতাকর্মীরা তার ইন্দনে কুতুবপুরকে আওয়ামী লীগ নয় বিএনপি প্রতিষ্টা করার পায়তারা করে যাচ্ছে। এমনকি এখনো বিএনপির ঈদ পূর্নমিলনে দেখা যায় এই নব্য আওয়ামী লীগ নেতা সেন্টুকে। আওয়ামী লীগের অনেক প্রোগ্রামে তার ভূমিকা একেবারেই শূন্য তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় ব্যানারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। নির্দলীয় ব্যানার তার কাছে ভালো লাগে।
শুধু তাই নয় যার জন্য তিনি কুতুবপুরের চার চারবারের চেয়ারম্যান সেই সাংসদ শামীম ওসমানের ডাকা গত ২৭ আগষ্টের মহা সমাবেশে তিনি ছিলেন অনুপস্থিত এমনকি তার নির্দেশনায় কুতুবপুর থেকে আসেনি কোন মিছিল। আর তার এই কর্মকান্ড নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের এক সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রশ্ন তুলেন এবং সাংসদ শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান বানালেন সেই সেন্টু তার কোন আওয়ামী লীগের প্রেগ্রামে আসেন না।
আওয়ামী লীগকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করায় নাম অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীরা জানান, সেন্টু খুব চতুড় একজন মানুষ তিনি তার নিজের লাভ ছাড়া কিছুই বোঝে না। বিএনপিতে থাকাকালীন অবস্থায় বারবার চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য তিনি তার দলের নির্দেশনা না মেনেই আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে আতাঁত করে চলতেন। আর তার সকল প্লান সাকসেস করে এখন কুতুবপুরের কুতুব হিসেবে তিনি তার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তার কারনে কুতুবপুর আওয়ামী লীগে এখন ধ্বংসের পথে ত্যাগী তৃনমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের কয়েক ভাগে বিভক্ত করে রেখেছেন।
কুতুবপুর আওয়ামী লীগ নেতাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ রয়েছে কিন্ত ভয়ে তার বিরুদ্ধে কোন নেতাকর্মীরাই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায়না। তিনি বরাবরই আওয়ামী লীগেকে ছোট করে বিভিন্ন সময় বিরুপ মন্তব্য করে থাকে। তার ব্যতিক্রম এবারো ঘটেনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অপকর্ম করে বেড়ায় তাদের দ্বারাই সকল অপকর্ম সংগঠিত হয়। তার এমন মন্তব্যে আমরা আাবারো হতাশ হলাম। একজন আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান হয়ে দলের এ ধরনের কথাবার্তা তার কাছ থেকে আশা করা যায় না। তার বিরুদ্ধে যদি এখনই কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ তা না হলে আওয়ামী নেতাকর্মীরা হুমকির মধ্যে পড়বে। আমরা তার এমন মন্তব্যে তীব্র নিন্দা জানাই।
এস.এ/জেসি


