ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শরীকদল জাতীয় পার্টি নিয়ে সব সময় নারায়ণগঞ্জে আলোচনায় থাকেন। আর এই আলোচনার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। ২০১৮ সনের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জেলার ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন। সর্ব শেষ ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও সেই দাবী জোরালো ভাবে জানানো হয়। কিন্তু তাদের এই দাবী কতটুকু আমলে নিবে ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে ২টি আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর এই আসনে সেলিম ওসমান উপ নির্বাচনে জয়ী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তারই ধারা বাহিকতায় জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক মনোনয়ন নিয়ে ২০১৮ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন। অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ ৩ আসন ২০১৪ সনে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পর পর দুই এমপি নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধত্ব করছেন। ক্ষমতাসীন দলের শরীক দল হওয়ায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতারাও তাদের পক্ষে কাজ করেন। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দাবী ৫ টি আসনে যেন নৌকার প্রার্থী দেয়া হয়।
দলীয় সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান থাকা কালিন জেলায় জাতীয় পার্টি বুক ফুলিয়ে রাজনীতি করেছেন। সেই সাথে তখন শহরেও তারা রাজত্ব চালিয়েছেন। কেননা তখন শহরের মধ্যবর্তী বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশেই নাসিম ওসমানের বাড়িতে জাতীয় পার্টির অফিস ছিল। কিন্তু নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর তাদের সেই অফিস বন্ধ হয়ে যায়। আর এতে করে শহর থেকে জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিস্তেজ হতে থাকে। সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির এমপি হয়েও শহরে একটা অফিস ব্যবস্থা করতে পারেন নাই বলে জানান স্থানীয় নেতারা। তবে সব শেষে সকল জল্পনা কল্পনা কাটিয়ে মাস খানিক আগে শহর ছেড়ে এবার বন্দর নবীগঞ্জ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় জেলা মহানগর কার্যালয়ে অফিস করা হয়।
গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে সেই অফিসে আলোচনা সভা করা হয়। আনুষ্ঠানিক ভাবে এই প্রথম সভা করা বন্দরে জাতীয় পার্টির জেলা মহানগর কার্যালয়ে। আর এতে করে শহরের তথা জেলার রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে জাতীয় পার্টির এখন শহর ছেড়ে বন্দরে পাড়ি জমিয়েছে। সেই সাথে তাদের নাসিম ওসমান থাকা কালিন শহরের দাপটও হারিয়েছে। তবে স্বাভাবিক ভাবে সকল রাজনৈতিক দল গুলো শহরে আধিপত্য বিস্তার করে। কিন্তু জাতীয় পার্টি তা হারিয়ে শহরের বাইরে তারা অফিস করেছে। আর এতে করে আরও স্পষ্ট নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তাদের দাপট কমেছে। সেই সাথে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে শহরময় আলোচনা হচ্ছে জাতীয় পার্টি তাহলে এবার শহর ছেড়ে বন্দরে নিজেদের দলীয় অফিস খোলার মাধ্যমে অবস্থান শক্তিশালী করছেন।
এস.এ/জেসি


