Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফুরফুরে তিন বন্ধু

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২০ পিএম

ফুরফুরে তিন বন্ধু
Swapno

 

# এক সাথে চলার পথে হোঁচট খেলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তারা

 

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সূতিকাগার খ্যাত নারায়ণগঞ্জ জন্মলগ্ন থেকেই বহু নেতা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই অবিসংবাদিত নেতাদের অনুসারীরাই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে বর্তমান সময়ে যারা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব দিচ্ছে কেউ নেতৃত্ব বিকাশে সক্ষম আবার কেউ নেতৃত্ব বিকাশে অক্ষম ভূমিকা পালন করছে। কারণ বর্তমান সময়ে ওসমান ভ্রাতৃত্বয়ের হয়ে রাজনীতি করা নেতারা অত্যন্ত সফলতার সাথে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব দিয়ে আওয়ামীলীগের গুডবুকে জায়গা করে নিয়েছেন। যার পুরষ্কার স্বরূপ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের পছন্দসই প্রার্থীদেরই মনোনীত করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীলকে মনোনীত করার মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া  নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগরের শীর্ষ পদগুলোতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ওসমান ভ্রাতৃত্বয়ের আদিষ্ট করা হচ্ছে। যার ফলে ওসমান ভ্রাতৃত্বয়ের নেতারা দলের মূল্যায়নকে মাথায় রেখে জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা। তবে বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন অনেকটা ব্যাকফুটে রয়েছেন।

 

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর থেকেই ওসমান ভ্রাতৃত্বয়ের রাজনীতি করা নেতাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে এক প্রকার অনিশ্চয়তা তৈরী হয়। কিন্তু তাদের এই অনিশ্চয়তার কারণে তাদের মধ্যে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয়। কিন্তু তারা সকল চাপকে দূরে ঠেলে দিয়ে রাজনীতির মাঠে পূর্বের মতই দাবড়িয়ে বেড়াতে থাকে। পাশপাশি দলীয় কর্মসূচীগুলোর মধ্যে ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফল করতে থাকেন। যার ফলে আবার চাঙা হয়ে উঠে ওসমান ভ্রাতৃত্বয়ের রাজনীতি করা নেতারা যেটা কেন্দ্রীয় নেতাদেরও নজর করে। যার ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষে থেকে ওসমান ভ্রাতৃত্বয়ের রাজনীতি করা অন্যতম  নেতা চন্দন শীলকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়।

 

পরবর্তীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। কারণ তিনি সবসময়ই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন। যার জন্য ২০০১ সালের ১৬ জুন আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনায় দু পা হাড়ান। এত বড় ত্যাগ করেও রাজনীতি থেকে সরে জাননি। উল্টো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সংক্রিয় নেতা হয়ে উঠেন। এখনো দুই হাতের লাঠিতে ভর দিয়ে কৃত্রিম পায়ে হেঁটে রাজনীতির মাঠ জোরালো স্লোগানে মুখরিত করে রাখেন রাজপথ শুধু রাজপথেই নয় গানে গানে মাতিয়ে রাখেন পুরো দলকে। যার ফলে এখনো তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং জেলা ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বর্তমানে নবনির্বাচিত নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

 

দীর্ঘদিন ধরেই ওসমান ভ্রাতৃত্বয়ের হয়ে সেই ছাত্র রাজনীতি থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে যাচ্ছেন। এছাড়া আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বহু হামলা মামলা ত্যাগ শিকার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যার ফলে তাদের নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে স্বচ্ছ ইমেজ তৈরী হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে অপ্রতিদ্বন্দ্বি নেতা হয়ে উঠায় বরাবরই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের গুরু দায়িত্ব পালন করছেন।

 

ভিপি বাদল ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তোলারাম কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে টানা তিনবারের মত ভিপি নির্বাচিত করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ যুবসমাজের দায়িত্ব দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব দেয়া হয় ভিপি বাদলকে। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হয়ে উঠায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করায় দ্বিতীয় বারের মত আবারও সাধারণ সম্পাদক পদ দেয়া হয় ভিপি বাদলকে।

 

তবে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আব্দুল হাইকে পুনরায় নির্বাচিত করা হলেও ঢিমেতালে নারায়ণগঞ্জ  জেলা আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যার কারণে সেই বাদলের উপর ভিত্তি করেই জেলা আওয়ামীলীগ চাঙা রয়েছে। এছাড়া আদালত পাড়ায় অন্যতম পরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ওসমান ভ্রাতৃত্বয়ের একজন পরিচিত মুখ তিনি শুধু আদালতপাড়া নয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া ছাত্রজীবন থেকেই ওসমান ভ্রাতৃত্বয়ের রাজনীতি করে আসছেন। তবে আদালতপাড়ায় খোকন সাহার ব্যাপক অর্জন রয়েছে যার কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে আইনজীবীরা।

 

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন অনেকটা ঢিমেতালে নেতৃত্ব দেয়ায় খোকন সাহাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব দিয়ে দিচ্ছেন। কারণ দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে খোকন সাহার নেতৃত্বে থাকা কর্মীরাই খোকন সাহার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের কর্মসূচীগুলো সফল করছেন। তাই খোকন সাহার নেতৃত্বেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ বর্তমান সময়ে সকল কার্যক্রম পরিচালিত করছে।

 

এতে রাজনৈতিক বোদ্ধামহল অনুমেয় করছে, ওসমান ভ্রাতৃত্বয়ের নেতারাই নেতারা নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগকে ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলের বিভিন্ন কর্মসূচীগুলো সফল করে যাচ্ছে। যার জন্য তারাই পরবর্তীতে জেলা এবং মহানগরের শীর্ষ পদে আধিষ্ট হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনগুলোতে ভ্রাতৃত্বয়ের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা থাকায় তারাই বরাবর মনোনয়ন ভাগিয়ে নিচ্ছে। এতে করে ওসমান  ভ্রাতৃত্বয়ের নেতারাই বিভিন্ন জায়গায় আধিষ্ট হয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন