# কোন আহ্বায়ক কমিটি হবে না : জাহাঙ্গীর
দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার পরেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম হযবরল হয়ে আছে তৃনমূলে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দিকে তাকালেই বুঝা যায়। এখানে ৫টি ইউনিয়নের ৪ টিতে কমিটি নেই ১৮ বছর হয়ে গেছে।
তার মাঝে বক্তাবলীতে বর্তমানে কমিটি বিহীন হয়ে আছে। এতে করে নেতা কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ জন্মে আছে। আর এতে করে নতুন নেতৃত্ব তৈরীতে বাধা হয়ে আছে। তবে সম্প্রতি সময়ে ফতুল্লার ইউনিয়ন গুলোতে কমিটি গঠন নিয়ে সরগরম হয়েছে জেলা এবং থানার শীর্ষ নেতারা।
তারাই ধারাবাহিকতায় মাস কয়েক আগে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। পর্যায় ক্রমে বাকি ইউনিয়ন গুলোতে সম্মেলন হবে বলে জানান স্থানীয় নেতারা।
এদিকে ঢাকঢোল পিটিয়ে জাকজমক ভাবে গত মাসের ২৬ নভেম্বর বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের মাঝে সমজোতা না হওয়ায় ভোট গ্রহনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন শুরু হয়। ভোট গ্রহনের এক পর্যায়ে হট্রগল শুরু হয়। পরবর্তিতে তা চেয়ার নিয়ে মারামারিতে পরিনত হয়। যা এক পর্যায়ে শীর্ষ নেতারা সম্মেলন স্থগিত করেন।
বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন ২ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই নেমেছে ৩ জন প্রার্থী। সভাপতি প্রার্থীরা হলেন বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক মাহমুদ, আবুল হোসেন প্রধান।
এখানে আবুল হোসেন প্রধান বক্তাবলী ইউপির চেয়ারম্যান শওকতের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত। তবে একাধিক নেতা কর্মীদের অভিযোগ আবুল হোসেনকে জয়ী করার জন্য সেদিন সম্মেলন বন্ধ করার জন্য নাটক মঞ্চ তৈরী করা হয়। করশু চেয়ারম্যানের ইন্ধনে সেই নাটক তৈরী হয়েছে।
অপর দিকে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই করেন আনোয়ার হোসেন, কামরুল ইসলাম, বাবুল হোসেন। তৃনমুল নেতাদের মতে সম্মেলন বন্ধ করার মত তেমন মারা মারি হয় নাই। আবার কেউ কেউ বলছেন রাতের ভোট গ্রহন বন্ধ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু এখন পুনরায় নিরাপদ স্থানে ভোট গ্রহনের মাধ্যমে বক্তাবলীর সম্মেলন করে নেতাদের প্রমান করতে হবে আওয়ামী লীগে সুন্দর ভাবে কমিটি হয়। এছাড়া বক্তাবলীর ঘটনা ফতুল্লার এনায়েত নগর, কুতুবপুর, ফতুল্লা ইউপি আওয়ামী লীগ সম্মেলনে যেন না ঘটে সেদিকে লক্ষা রাখার জন্য আহবান করা হয়।
দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, ২৬ নভেম্বর বক্তাবলী আওয়ামী লীগের পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সাথে সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় নতুন কমিটি আটকে আছে। এতে করে এখন কমিটি বিহীন হয়ে আছে বক্তাবলী আওয়ামী লীগ। এই ভাবে আর কত দিন কমিটি বিহীন থাকবে বক্তাবলী আওয়ামী লীগ তা নিয়ে এখন সমালোচনা চলছে।
তাছাড়া কবে নাগাত কমিটি হবে তাও জানেন না নেতা কর্মীরা। তবে আহ্বায়ক কমিটি হবে না বলে সাফ জানান ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। তাই খুব শিগ্রই আবারও নিরাপদ স্থানে ভোটের মাধ্যমে সম্মেলন চান নেতা কর্মীরা।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, অতি শিগ্রই জেলা আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনা করে বক্তাবলী সম্মেলন করা হবে। তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বক্তাবলী আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রসঙ্গে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা চাই বক্তাবলীতে একটি স্বচ্ছ কমিটি হোক। সেই সাথে এখানে কোন বিতর্ক কমিটি চাই না। তিনি জানান, আমি চাই বক্তাবলীতে একটি শক্তিশালী কমিটি হবে।
যাদের নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে এমপি শামীম ওসমানকে আবারও জয়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনা হবে। বক্তাবলীতে যেহেতু ওয়ার্ড পর্যায়ের কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে চায় তাই তাদের ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন হোক।
এখানেতো আর বিএনপি থেকে এসে আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিযোগিতা করবে না। তাহলে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে আমি কোন সমস্যা দেখছি না। আমি চাই এখানে যেন নিরাপদ স্থানে সম্মেলনের মাধ্যমে দ্রুত কমিটি দেয়া হয়।
কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই কমিটি চাই। সেই সাথে বক্তাবলীতে কোন আহ্বায়ক কমিটি হবে না। আমি এমপি শামীম ওসমানকে বলব এখানে যেন সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হবে।
বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী শফিক মাহমুদ জানান, আমাদের দাবী হলো তৃনমুল নেতা কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে বক্তাবলীতে শক্তিশালী কমিটি চাই। সেই সাথে নিরাপদ স্থানে ভোটের প্রতিফলনের মাধ্যমে সম্মেলন হতে হবে। নেতা কর্মীদের মতে কানাই নগর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ হলো সঠিক স্থান। এখানে কোন পকেট কমিটি কেউ চায় না।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা চাই আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলের সাথে লড়াইয়ের জন্য শক্তিশালী কমিটি প্রয়োজন। সেই সাথে যার বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুপ্রেরণা যুগিয়ে কর্মীদের জাগিয়ে রাখে তাদের মত দক্ষ নেতৃত্ব আসুক বক্তা আমরা তা চাই। তাছাড়া বক্তাবলীতে বেশি দিন কমিটি বিহীন থাকলে তা দলের জন্য ক্ষতি হবে। তাই আমরা নিরাপদ স্থানে দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে তৃনমূল কর্মীদের ভোটের ভিত্তিতে নেতা নিবার্চনের প্রতিফলন ঘটুক।


