Logo
Logo
×

রাজনীতি

আটকে গেল মহানগরের ওয়ার্ড কমিটির কার্যক্রম

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫২ পিএম

আটকে গেল মহানগরের ওয়ার্ড কমিটির কার্যক্রম
Swapno

 

# তাড়াতাড়ি ওয়ার্ড কমিটিগুলো করার চেষ্টা করছি : আনোয়ার হোসেন
# সম্মেলনের কার্যক্রম অনেক এগিয়েছে : জিএম আরমান
# আপাতত এই কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে : শাহ নিজাম

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির বয়স প্রায় নয় বছর অতিবাহিত হতে চললেও মহানগর আওয়ামীলীগের আওতাভুক্ত ওয়ার্ড কমিটির বয়স মহানগর আওয়ামীলীগের বয়সের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন ছুঁই ছুঁই। ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনের উদ্যোগ নিয়েও বরাবরই নানাবিধ কারণে সীমাবদ্ধই থেকে যাচ্ছে মহানগর আওয়ামীলীগের আওতাভুক্ত ওয়ার্ড কমিটিগুলো। এতে করে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের যেমন ধার কমেছে এবং দুর্বলতাও তৈরী হয়েছে। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের নির্দেশে চাপের মুখে পড়ে আবারও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করে মহানগর আওয়ামীলীগ।

 

তবে কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করা হলেও ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে দল থেকে নেতাকর্মীদের তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়ে আবারও কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়। এমন সিদ্ধান্তের আবারও হোঁচট খেয়ে হতাশাগ্রাস্ত হয়ে পড়েন মহানগরের আওতাভুক্ত ওয়ার্ডের নেতৃত্ব আসতে চাওয়া নেতারা। এতে করে তৃণমূলের কর্মীরা বলছে এভাবেই যদি ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনের কার্যক্রম বরাবর থমকে যায় আমাদের নেতৃত্বে আসার আক্ষেপ কবে ঘুঁচবে এটা নিয়ে এখন আমাদের সংশয় রয়েছে।

 

সূত্র বলছে, ২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম এমপি। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই সম্মেলন বাতিল ঘোষণা করেন। তবে গত ৩০ অক্টোবর মহানগর আওয়ামীলীগের ১নং সদস্য এমপি শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সেখানে দ্রুত সময়ে কর্মী সভা করার মাধ্যমে তিনটি করে ওয়ার্ডের সম্মেলন করার নির্দেশনা ওঠে আসে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের প্রায় দুমাস হতে চললেও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে আবার বন্ধ হয়ে যায়। কারণ গত ৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের আওতাভুক্ত ১৩,১৪,১৫ নং এই তিনটি ওয়ার্ডের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশের কারণে বিএনপির নৈরাজ্য ঠেকাতে আওয়ামীলীগ নেতাদের তৎপর থাকার নির্দেশনা দেয়া হয় এবং ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়।

 

যার কারণে মহানগর আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম থমকে যায়। এছাড়া ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কাউন্সিল যার জন্য আরও অপেক্ষা করতে মহানগরের ওয়ার্ডে নেতৃত্বে আসা নেতাদের। তবে মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা দাবি করছে খুব শীঘ্রই ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দাবি করছে, ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হবে এমন ঘোষনার পর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অত্যান্ত সরব ভূমিকায় ছিল। পাশাপাশি যারা ওয়ার্ডে নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী তারা ওয়ার্ডের ভোটারদের কাছ থেকে ভোট প্রর্থনা করছিল।

 

কিন্তু হঠাৎ করেই জানতে পারে আপাতত ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এতে তারা অনুমেয় করছে আবারও মহানগরের আওতাভুক্ত ওয়ার্ড কমিটিগুলো আবারও আটকে গেল কবে নাগাদ আবার এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চালু হবে এ নিয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তৎকালীন শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটি গঠনের প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অধীনে থাকা ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। মাঝে মাঝে কমিটি গঠন নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত সেটা আর সফলতার মুখ দেখেনি।বারবার আলোচনার সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটিগুলো।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন যুগের চিন্তাকে জানান, আমরা কোন মিটিংয়ে এইরকম কোন সিদ্ধান্ত নেই নাই যে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আমরা সম্মেলন করব সিদ্ধান্ত হইছিল ওই জায়গায় শামীম ওসমানও উপস্থিত ছিল শামীম ওসমান বলছিল যে বর্তমান সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক থাকবে আপনাদের তাদের উপর আস্থা আছে সবাই বলেছিল আস্থা আছে। পর্যায়ক্রমে আমরা এই ওয়ার্ড কমিটিগুলো করব এখনো আমরা কার্যক্রম শুরু করি নাই এর মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল আছে জাতীয় কাউন্সিলের পর আমরা কমিটি করার চেষ্টা করব।

 

কারে রাখা হবে কারে রাখা হবে না এটা প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারীর ব্যাপার প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারীর মহানগরের রাজনীতি করছে কে ভাল কে মন্দ এগুলো যাচাই প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারীই করবে। তবে ওয়ার্ডে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সবাই হইতে পারবে না হবে দুইজনই যাচাই বাছাই করে যারে ভালো মনে করব তারেই করব। কিন্তু যখন থেকেই মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি দেয়া হয়েছে তখন থেকেই দল থেকে নির্দেশনা ছিল ওয়ার্ড কমিটিগুলো শেষ করার জন্য। তবে করতে পারি নাই এটা আমাদের সফলতাই হোক ব্যর্থতাই হোক সময়ের কারণেই হোক এটা করতে পারি নাই। কিন্তু এখন যত তাড়াতাড়ি হোক ওয়ার্ড কমিটিগুলো করার চেষ্টা করছি।

 

এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিএম আরমান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ওয়ার্ড কমিটিগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি আমাদের ছিল। জাতীয় সম্মেলনের কারণে আমাদের ওয়ার্ড কমিটিগুলোর সম্মেলন করা হচ্ছেনা। বন্দরের প্রায় সবগুলো ওয়ার্ডেই সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পরপরই ওয়ার্ডকমিটিগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম যুগের চিন্তাকে জানান, ‘সম্মেলনের ব্যাপারে আমার যতটুকু জানা আছে সেন্ট্রাল নির্দেশ দিয়েছে দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বিএনপির অরাজকতা বিএনপির বোমা বাজী আগুন সন্ত্রাস এ সমস্ত দিক বিবেচনা করে আপাতত এই কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তীতে আবার সেন্ট্রালের নির্দেশ দিলে কার্যক্রম শুরু হবে।

 

কিন্তু ৯ ডিসেম্বর ১৩, ১৪, ১৫ নং এই তিনটি ওয়ার্ডের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশের কারণে আমাদেরকে সম্মেলন স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে পরবর্তীতে আবার সেন্ট্রাল থেকে নির্দেশনা আসলে প্রত্যেকটি ওয়ার্ড কমিটি হবে কমিটি ঘোষণার ব্যাপারে নির্দেশনা দিবে সেন্ট্রাল কমিটি। তবে ওয়ার্ড কমিটিতে যে যোগ্য হবে কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে হবে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবে।’

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন