Logo
Logo
×

রাজনীতি

চার মাসে বিএনপিতে আমূল পরিবর্তন

Icon

লিমন দেওয়ান

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:১৮ পিএম

চার মাসে বিএনপিতে আমূল পরিবর্তন
Swapno

 

 # জেলা-মহানগর কমিটি পুনর্গঠনই টনিক হিসেবে কাজ করেছে
 # দ্বন্দ্ব-বলয়-পারিবারিকরণ-পরশ্রীকাতরতা কমে এসেছে

 

টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতার বাহিরে অবস্থান করছে দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতীয়তাবাদী বিএনপি। ক্ষমতাচুত্য অবস্থায় থাকার কারণে নানা মামলা-হামলার সম্মূখীন হতে হয়েছে তাদের। যার কারণে তারা কোন আন্দোলন সংগ্রাম করতে সক্ষম হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা ইস্যু নিয়ে মাঠে নামে বিএনপি। তার পর থেকেই নানা সময় নানা বাধার মোকাবেলা হতে হচ্ছে তাদের। অপর দিকে ১০ই ডিসেম্বরের বিএনপির মহা সমাবেশকে কেন্দ্র করে ও বিগত দিনের মতো নানা হামলা ও মামলা দিয়ে দামিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সকল চেষ্টা করে ও সফলতা অর্জন করতে পারেনি আওয়ামলীগ। বর্তমান সরকারের সকল বাধাকে উপেক্ষা করে ও মাঠে দাড়িয়ে বিএনপি।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ইস্যু নিয়ে মাঠে নামে বিএনপি তার পর থেকেই বিরোধী দলের বাধার সম্মূখীন হচ্ছে তারা। প্রথমে তারা দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতিসহ নানা বিষয় নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করে। পরবর্তীতে নানা ইস্যূ নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করে ও পুলিশের কোন বাধার সম্মূখীন হয়নি। কিন্তু ১ সেপ্টম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বাষির্কীতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নং রেল গেইট মিছিল নিয়ে বাহির হয় তারা তখন পুলিশের বাধার মুখে পরে তখনই পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। ফলে যুবদল নেতা শাওন ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

 

তার পর থেকেই চলতি বছরে আবার ও বিএনপির বিপক্ষে বাধার সূত্রপাত শুরু হয়। পরে প্রায় সময়ই দেখা মিলে নানা প্রকারের বাধা ও হামলাসহ নানা বিশৃঙ্খলা। এই সকল বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলায় জেলায় বিভাগীয় সমাবেশের ঘোষণা দেন। যার সর্বশেষ সমাবেশের তারিখ ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। একে একে জেলায় জেলায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ হতে থাকে প্রত্যেকটার মধ্যেই নানা বাধা আসা শুরু করে। সকল বাধাকে উপেক্ষা করে ও মাঠে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছি বিএনপি। তাদের সকল সামবেশই জনসমাবেশে পূর্ণতা লাভ করেছে।

 

কিন্তু ১০ই ডিসেম্বরের দিন যতই ঘনিয়ে আসে পুলিশ ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার তৎপরতা আরো অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। তারা সর্বশেষ সমাবেশকে বানচাল করার চেষ্টায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে নানা গায়েবী মামলা দেওয়া শুরু করে। আর বাসায় বাসায় তল্লাশী চালিয়ে গ্রেফতার করা শুরু করে। তারই ধারবাহিকতায় দলের মহাসচিব সহ দলের মূল মূল নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে তার মাঝামাঝি জেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ভিত্তিক আরো শতাধিক নেতাকমীদের গ্রেফতার করা হয়। তার পরে ও বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীদের আটকিয়ে সমাবেশ বানচাল করতে পারেনি।

 

তারা সকল বাধাকে উপেক্ষা করেই সমাবশেকে জনসমুদ্রের রূপ দেন এবং সকল নেতাকর্মী মিলে সমাবেশকে সফল করেই নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছান। এই সমাবেশকে ঘিরেই বর্তমান সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিটি পাড়া মহল্লায় পাহারা দেন যাতে বিএনপি কোনভাবেই সমাবেশে যোগদান করতে না পারে। কিন্তু তারা কোনক্রমেই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বাধার স্বপ্ন পূরন হয়নি। তারা তাদের সমাবেশ ব্যাপকভাবেই উৎযাপন করেন। তার পরে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা শহরে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এবং আগামীতে ও সকল কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবেই পালন করবে বিএনপি।

 

এই সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাড়ানোর কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধামহল। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমান সরকার দেশের রাজনৈতিক দলগেুলোর সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে রেখেছে। তারা কোনভাবেই চায় না যে অন্য দলের হাতে দায়িত্ব যাক। যার কারণে তারা জনগণের ভোটের অধিকারকে ও হরণ রেখেছে।

 

ইতিমধ্যে আমরা এ সরকারের কারণে পথে পথে বাধার সম্মূখীন হচ্ছি আর তবু ও আমরা ও আমাদের নেতাকর্মীরা হাল না ছেড়ে সকল বাধাকেই উপেক্ষা করে মাঠে সরব রয়েছে। আপনারা অবগত আছেন ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বাষির্কীর দিনে আমাদের উপর পুলিশ বাহিনীরা হামলা চালিয়ে আমাদের ছোট ভাই যুবদলের শাওনকে গুলি করে নিহত করেন। পরবর্তীতে আমরা এ বিষয়ে কোন কর্মসূচি ডাকলে পুলিশ আামদের উপর লাঠিচার্জসহ নানা নির্যাতন করেন যা একটা স্বাধীন দেশে হওয়ার কথা ছিল না।

 

আমরা নানা নির্যাতনের পরে ও পিছু হাটিনি পরবর্তীতে আমাদের ১০ই ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আমাদের নেতাকর্মীদের যেভাবে গ্রেফতারসহ পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে এটা সভ্য দেশের কাজ নয়। কিন্তু কোনভাবেই আমাদের বাধা দিয়ে আটকিয়ে রাখতে পারেনি এ সরকার। আর আগামীতে ও পারবে না। আমরা মাঠে আছি সদাসর্বদা মাঠ গরম করেই রাখবো।

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা সকল সময়ই সকল কর্মসূচিতে বাধার সম্মূখীন হয়ে থাকি। কোন কর্মসূচি আমরা আমাদের নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী করতে পারি না। কিন্তু আমরা থেমে নেই আমাদের যতই বাধা আসছে সকলকে উপেক্ষা করেই আমার সামনে এগিয়ে যাচ্ছি এবং সামনে আমাদের দলীয় যতই কর্মসূচি আসুক না কেন আমরা সকল নেতাকর্মীরা এক হয়ে পালন করবো।

 

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, বিগত দিনে আমরা কোন ভাবেই কোনভাবেই কোন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। সকল ক্ষেত্রেই নানা হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু চলতি বছরে আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পাশে এসে দাড়াই এবং তাদের দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ নানা বিষয় নিয়ে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা মাঠে আন্দোলন সংগ্রাম করতে নামি। তার পর থেকেই আমরা আর শান্তি মত নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করতে পারি না নানা মামলা হামলা শিকার হই।

 

আর সকলেই অবগত আছেন আমাদের ১ সেপ্টেম্বর আমাদের নেতাকর্মীদের উপর পুলিশ বাহিনীর হামলাসহ ১০ই ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে নানা মামলা হামলাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা। কিন্তু এ ধরণের কর্মকান্ড নিয়মিতই ঘটে যাচ্ছে আমাদের রূপগঞ্জে এখানকার বিএনপির নেতাকর্মীরা সর্বক্ষেত্রে জেল হাজতে যাচ্ছে। নানা গায়েবী মামলা খাচ্ছে নানা হামলার শিকার হচ্ছে। এ ধরেনর কর্মকান্ড হওয়ার পরেও বসে নেই। আমাদের নেতাকর্মীরা সর্বক্ষেত্রে সকল বাধাকে উপেক্ষা করেই আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এবং আগামীতে ও ব্যাপকভাবে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়ে সকল সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করার লক্ষ্যে প্রস্তুত রয়েছে।

 

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা বিগত দিনে কোন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে আসতে পারতাম না আসলেই আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনী পুলিশরা আমাদের নানাভাবে হয়রানি করতো। কিন্তু চলতি বছরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই অনেক কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর পুলিশ আমাাদের সাথে যা করে এটা একটা খারাপ কাজ এটাকে আমরা খারাপ চোখেই দেখবো। আর পরবর্তীতে ১০ই ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আমাদের বিরুদ্ধে যে হারে নানা মামলা দেওয়া হয়েছে ও গ্রেফতার করা হয়েছে এটার জন্য আমরা তীব্র নিন্দা আগে ও জানিয়েছে আবার ও জানালম।

 

কিন্তু কি হল কোনভাবেই সমাবেশকে বানচাল করার স্বপ্ন তাদের পূরণ হল না। কারণ বিএনপি একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক দল এ দলের নেতাকর্মীরা কোনভাবেই বিশৃঙ্খলা করে থাকে না ও প্রশ্রয় ও দেয় না। আমরা এটারই প্রমান দিয়েছি আমাদের সমাবেশে। আমরা ১৬ ডিসেম্বর ও জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে শহরে বিজয় দিবস পালন করেছি। আর আগামীতে ও আমরা প্রস্তুত আছি সকল বাধাকে উপেক্ষা করে সকল কর্মসূচিতে ঝাঁপিয়ে পরার জন্য।

 

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব যখন অবগত হন দেশে মানুষ আর ভালো নেই দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিসের দাম মানুষের হাতের নাগালের বাহিরে তখন তিনি আমাদের নানা কর্মসূচি দেন যে আমরা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে যাতে দেশের মানুষের পাশে দাড়াই। তখনই আমরা আগষ্টে শুরু থেকে নানা আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করলাম তখন থেকেই সরকারের প্রশসানের লোক দ্বারা আমাদের নির্যাতিত করা হচ্ছে।

 

তার কারণে বাসায় থাকা যায় না রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা যেত না আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হত। কিন্তু আমরা এ ধরনের নির্যাতনকে কিছুই মনে করিনি। যার কারণে প্রথম থেকেই নানা কর্মসূচি পালন করতেছি। আমরা আমরা ইতি মধ্যে আমাদের অনেক বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে জানিয়ে দিয়েছি আমরা পিছু হাটিনি। আমরা প্রতিটি কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। আর আমরা আমাদের বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিতে চাই। যে পর্যন্ত না সরকারের পতন হয়। আমরা সবক্ষেত্রে প্রস্তুত আছি সকল বাধার মোকাবেলা করতে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন