Logo
Logo
×

রাজনীতি

সুরাহা হলো না সদর থানা আওয়ামী লীগের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:১২ পিএম

সুরাহা হলো না সদর থানা আওয়ামী লীগের
Swapno

 

# শুধু সভাপতি দিয়ে দল চলে না তৃণমূল নেতৃবৃন্দ

 

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ সহ জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দল গুলো আগামী নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন। ইতিমধ্যে আগমাী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগকে গতিশীল করার লক্ষে মাঠ পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়ে জেলা পর্যায় সম্মেলন শেষে এখন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেননা আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২২ তম জাতীয় সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আর এই সম্মেলন ঘিরে আওয়ামী লীগ নানা প্রস্তুতি গ্রহন করছেন। একই সাথে সরকারি দলের কেন্দ্র থেকে জেলা মহানগর পর্যায়ে যে সকল কমিটি হয় নাই তা সম্মেলন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশা পাশি যে সকল থানা উপজেলা কাউন্সিল এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নিদের্শনা রয়েছে।

 

কিন্তু এই দিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগ সবচেয়ে পিছিয়ে আছে। এখানে ১ বছরের বেশি অতিবাহিত হয়েছে শুধু সভাপতি হিসেবে একজন দায়িত্বে রয়েছেন। তবে ২০১৯ সনে সদর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান নাজির মাদবর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন আব্দুল্লাহ আল মামুন। গত বছরের গোগনগর ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে কাজ করা সহ নৌকা নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করায় তাকে দলের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এর পরে ওই পদ শুন্য থাকে। যা এখনো পুরণ হয় নাই। এছাড়া ইতোমধ্যে এই থানার কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার আগেই তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই তৃনমূল নেতা কর্মীরা এখন নতুন কমিটি নিয়ে ভাবছেন। সেই সাথে তা জেলার শীর্ষ নেতাদের কাছে তার দাবী তুলছেন।

 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য থানা গুলোতে কমিটি থাকলেও সদর থানায় কোন আওয়ামীলীগের কিমিটি নেই। আর এতে করে এখানে নামকাওয়াস্তে দলীয় কার্যক্রম চলে। ১৬ বছর পর ২০১৯ সনের ডিসেম্বর মাসে সদর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়। ডিসেম্বরে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তৃনমূল নেতা কর্মীদের অভিযোগ ১৬ বছর পর এখানে সম্মেলন হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না।

 

অপর দিকে বর্তমান সভাপতি নাজির মাদবরও শারীরিক ভাবে দূর্বল হয়ে পরছে। তাই এখানে দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে জেলার শীর্ষ নেতাদের আলাদা ভাবতে হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন এখানে একজনের কমিটি ভেঙ্গে নতুন করে কমিটি হবে নাকি একজন দিয়ে চলবে। আর যদি এই ভাবে চলতে থাকে তাহলে আগামী নির্বাচনে সরকারি দলকে পস্তাতে হতে পারে।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে একা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে নাজির মাদবর। ৩ বছর আগে সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি এবং সেক্রেটারি পদে আসেন দুজন। তার মাঝে গত বছরে গোগনগর ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় আল মামুন সেক্রেটারি পদ থেকে দল থেকে অব্যাহতি হন। আর এজন্য এখনো পর্যন্ত এই পদ শূন্য রয়েছে। সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সেক্রেটারি পদে আসার জন্য এক ঝাক নেতা মাঠে নেমেছে।

 

তার মাঝে সভাপতি পদে আসতে এবার লড়াইয়ে নেমেছে গোগনগর ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা। তার সাথে প্রতিযোগী হিসেবে রয়েছেন সদর থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসটি আলমগীর সরকার। অপর দিকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে সেক্রেটারি পদে গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম আসতে চান। এছাড়া জসিম উদ্দিনও উকি ঝুকি মারছেন। কিন্তু তৃনমূল থেকে জসিমের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ রয়েছে।

 

সেই সাথে নেতা কর্মীদের কোন খোজ খবর না রাখার কথা জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ। তাছাড়া জসিম দুই বার নৌকা প্রতীক নিয়ে গোগনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচন করে পরাজিত হয়ে নৌকাকে ডুবান বলে অভিযোগ রয়েছে। দলীয় নেতা কর্মীদের অভিযোগ তার মত অযোগ্য ব্যক্তি নৌকা পাওয়ায় এখানে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। যোগ্য ব্যক্তি নৌকা পেলে ঠিকই জয়ী হত। গোগনগরে জসিমের পিছনে কোন কর্মী নেই বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।

 

গোনগর আলীরটেকের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের দাবী তারা ইব্রাহিম মোল্লাকে সভাপতি হিসেবে পেতে চান। কেননা তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পরেন। সেই সাথে তৃনমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের খোঁজ খবর রাখেন। এর আগেও গত বছরের কাউন্সিলে তিনি সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন। তখন অদৃশ্য ইশারায় তাকে বসে পরতে হয়। তবে এবার আট ঘাট বেধে মাঠে নেমেছেন ইব্রাহীম মোল্লা। পাশা পাশি তার সাথে পিছি নেই আরেক সভাপতি প্রার্থী সদর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসটি আলমগীর সরকার। তিনি সাংগঠনিক ভাবে দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল বলেন, সদর থানা সাধারণ সম্পাদক আল মামনুকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এখানকার পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং থানা কমিটির বিষয়ে জেলা সভাপতি আব্দুল হাই সাব বলতে পারবেন। তার সাথে যোগাযোগ করেন। এবিষয়ে আবদুল হাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে কেন্দ্রীয় অফিসে আছেন বলে জানান।

 

সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী ইব্রাহীম মোল্লা বলেন, আমি বর্তমানে গোগনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং জেলা যুবলীগের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। কমিটি বিহীন থাকায় সদর থানা আওয়ামী লীগ হযবরল হয়ে আছে। তাছাড়া এখানে বছর অতিবাহিত হলো অথচ সাধারণ সম্পাদক শূন্যপদে এখনো পুরন হয় নাই। তার চেয়ে বড় বিষয়ে হলো এখানকার কমিটির মেয়ার ইতোমধ্যে শেষ হয়ে আছে। তাই তৃনমূল নেতা কর্মীদের থেকে নতুন কমিটির দাবী উঠেছে। সেখানে আমি দলের সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে আছি। নেতা কর্মীরা আমাকে যোগ্য হিসেবে এই পদে দায়িত্ব দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তাছাড়া আমাদের যুবলীগের কমিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে।

 

আরেক সভাপতি প্রার্থী এসটি আলমগীর সরকার বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন যাবৎ সদর থানা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি দেয়ার দাবী জানিয়েছি। কিন্তু পুর্ণাঙ্গ কমিটির হওয়ার আগে আমাদের সদর থানার সাধারণ সম্পাদক আল মামুনকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ায় এই পদ শূন্য হয়ে আছে। এছাড়া ইতোমধ্যে সদর থানার কমিটির মেয়াধ শেষ হয়ে আছে। তাই আমরা সব কিছু মিলিয়ে সদর থানা আওয়ামী লীগে নতুৃন কমিটি চাই। কেননা আগামী নির্বাচনের জন্য নতুন করে শক্তিশালী কমিটি দেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া সদর থানা যুবলীগে দক্ষতার সাথে আমি দায়িত্ব পালন করেছি।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন