# বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিএনপির
আগামী ১০ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে ২৪ ডিসেম্বর সারা দেশে গণমিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে সরকারবিরোধী সমমনা দলগুলোকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করবে বিএনপি। তারই প্রেক্ষিতে আজকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি গণমিছিল করবে। এই গণমিছিলকে সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন দলটি। কর্মসূচিটি সফল করার লক্ষে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রেখেছে ও তাদের এ ঘন ঘন কর্মসূচিগুলোর কারণে নেতাকর্মীরা বিগত দিন থেকে আরো উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছে।
অপর দিকে আগের কর্মসূচিগুলো জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপি আলাদা আলাদা পালন করলে ও এবার এক সঙ্গে পালন করবে। তাই দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধারনা রেকর্ডসংখ্যাক নেতাকর্মী হবে। আর সকল নেতাকর্মীই বলছে তারা তাদের এ কর্মসূচি বিগত দিনের মতোই শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে। কিন্তু অনেক নেতাকর্মী বলছে ১০ই ডিসেম্বরের মতো এবারের ও কর্মসূচি নিয়ে মহানগর ও জেলার নানা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশী ও গ্রেফতার করছে পুলিশ যা তাদের কাছে ঘৃনিত বিষয়। কিন্তু তারা বলছে আমরা সকল বাধাকেই উপেক্ষা করে আজকের সমাবেশ সফল করবো। এখন আমরা তিক্ত হয়ে গেছি যার কারণে কোন বাধাকেই আমাদের বাধা মনে হয় না। তাই আজকের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার আশ্বাস তাদের।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুুগের চিন্তাকে বলেন, ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় আমাদের যে মহা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে আমাদের ২৪ তারিখের গণমিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল এটা আমাদের জাতীয় কর্মসূচি। ইতি মধ্যে আমরা আমাদের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়ের যতগুলো নেতাকর্মী আছে সকলকে কালকের শান্তিপূর্ণ মিছিলে থাকার আহ্বান জানিয়েছি। আশা করছি বিগত দিনের ১০ই ডিসেম্বরে আমরা নারায়ণগঞ্জ থেকে যেভাবে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে সমাবেশে অংশ গ্রহণ করেছিলাম তার পর থেকেই আমাদের সকল নেতাকর্মী বিগত দিন থেকে অনেক বেশি উজ্জ্বীবিত হয়ে গিয়েছে। যার কারণে আমরা আশা করছি আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আমরা ব্যাপকভাবে সফল করতে পারবো। আর আমরা আশা করছি গতকালের পোগ্রামে আমরা কোন বাধার সম্মূখীন হবো না। কারণ আমরা সকল নিয়মনীতি মেনেই মাঠে নামবো আর আমাদের মিছিল সফল করবো ইনশাআল্লাহ।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা আমাদের দলীয় কর্মসূচি যেভাবে পালন করে থাকি আগামী কালের কর্মসূচি ও আমরা সেভাবে পালন করবো। তার জন্য আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু এখন ও প্রসাশন আমাদের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করছে। আজকে ও দু্ইজনকে গ্রেফতার করেছে শেখ স্বপন ১৭ নং ওয়ার্ডের ও গোগনগরের জুলহাস মেম্বারকে। তাছাড়া ও অনেকের বাসায় পুলিশ গিয়ে হয়রানি করছে। একটু আগে ও খবর পেলাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুনের বাসায় গিয়ে পুলিশ তল্লাশী চালিয়েছে।
আমরা এ সকল গ্রেফতার ও বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বাড়ি তল্লাশীর তীব্র নিন্দ্রা ও প্রতিবাদ জানাই। বর্তমান সরকারের কি যে একটা অবস্থা হয়েছে সে চোরের মতো ছায়া দেখলে ও ভয় পায়। আমাদের এটা শান্তিপূর্ণ মিছিল এটা নিয়ে ও যদি পুলিশ নেতাকর্মীদের হয়রানি করে এটা কি ভালো। কারণ এ সরকারের পায়ের তলায় মাটি নাই। তাই তারা ভয় পায়। তারা চাচ্ছে বিএনপি এ শান্তিপূর্ন মিছিল ও যাতে না করতে পারে। আর সরকারের এ স্বভাবটা চেঞ্জ করা দরকার তা না হলে সে খারাপ কি সেটা ও বুঝবে না। ভালো কি সেটা ও বুঝাবে না। কিন্তু আমরা আশাবাদী কালকে আমরা ব্যাপকভাবে সকল নিয়মনীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ গণমছিল সফল করবো।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ বর্তমান সরকারের নানা নাটকীতার পরে ও আমরা সফল করতে পেরেছি। কোন বাধাকে আমরা বাধা হিসেবে দেখিনি সকল বাধাকে উপেক্ষা করে আমরা আমাদের পদ চলছি এবং বিগত দিন থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছি। ১০ই ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশে ২৪ তারিখের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে সেটাকে আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার লক্ষে ইতিমধ্যেই আমরা আমাদের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা পর্যায়ের সর্বক্ষেত্রের নেতাকর্মীদের অবগত করেছি ও অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দদের বলা হয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।
তারপরে ও বর্তমান সরকার আমাদের সকল কর্মসূচিকে বানচাল করার লক্ষ্য নিয়ে উত পেতে থাকে। তারই প্রেক্ষিতে আজকে ও খবর পেলাম নারায়ণগঞ্জ মহানগরের ও রূপগঞ্জের ও অনেক নেতাকর্মীর বাসায় পুলিশ তল্লাশী ও হয়রানি করছে। আর আমরা আজ পর্যন্ত কোন প্রোগ্রামই বাধা ছাড়া করতে পারিনি। কিন্তু সকল বাধাকে উপেক্ষা করেই কিন্তু আমরা সকল কর্মসূচি পালন করে আসছি। আর এ কর্মসূচি ও আমরা ব্যাপকভাবে পালন করতে পারবো কারণ বিগত দিন থেকে ১০ই ডিসেম্বরের সম্মেলনের পর থেকেই আমাদের নেতাকর্মীরা অনেকটাই উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছে। যার ফলে আমরা আশাবাদী আমরা ভালো কিছু একটা করতে পারবো।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল রাজিব যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামী কাল আমাদের যে জাতীয় কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল আগামী ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় আমাদের বিভাগীয় সমাবেশে প্রতিটি জেলায় এ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তার পর থেকেই আমরা আমাদের সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা পর্যায়ের সকল নেতাকর্মীদের বলেছি ২৪ তারিখের মিছিলে অংশ গ্রহণ করার জন্য। সকলেই অবগত আছে এবং সকলেই আশা করছি উপস্থিত থাকবে। আর এটা আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল যার কারণে আমরা আশাবাদী কোন বাধার সম্মূখিন আমরা হবো না।
আমরা সকল নিয়মনীতি মেনেই কার্যকালাপ চালিয়ে যাবো। আর এখন আমাদের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই আগে থেকে বেশি উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছে যার কারণে আমরা ভালো কিছু করতে পারবো বলে মনে করছি। আমরা এ সমাবেশে পুলিশ প্রশাসনের ও সাহায্য কামনা করছি। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম টিটু যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামী কালের পোগ্রামের জন্য আমরা ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন প্রতিকূল উপেক্ষা করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আর আমাদের বিভিন্ন দিক থেকে অনেক চাপ আছে সব কিছুকে উপেক্ষা করেই আমরা পোগ্রাম সফল করবো ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা আগামী কালের সমাবেশকে নিয়ে ইতিমধ্যেই ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের অবগত করেছি। কালকে যেহেতু মহানগর ও জেলা যৌথ উদ্যোগে হবে তাই আমি মনে করছি সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। আর বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যই হল এখন বাধা দেওয়া যার কারণে তারা এখনও আমাদের বাধাই দিয়ে যাচ্ছে আজকে ও আমার বাসায় পুলিশ আসছিল আমি বাসা থেকে শুনতে পারলাম আমার নাম্বার নিয়ে গেছে বাসা থেকে। কিন্তু যতই বাধা আসুক সকল বাধাকেই উপেক্ষা করে আমরা আগামী কালের গণমিছিল সফল করবো।
এস.এ/জেসি


