Logo
Logo
×

রাজনীতি

জেলার প্রত্যেকটি এলাকায় ঘরে ঘরে ভয়-ভীতির আতঙ্ক আছে : তরিকুল সুজন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৫২ পিএম

জেলার প্রত্যেকটি এলাকায় ঘরে ঘরে ভয়-ভীতির আতঙ্ক আছে : তরিকুল সুজন
Swapno

 

গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সূজন বলেন, নতুন করে বলার কিছু নেই বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ জানেন আজকে বাংলাদেশের হাল হাকিতদ কি। কি ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে মানুষের জীবন যাপন করতে হচ্ছে। আর আমদের কষ্ট নিয়ে ও প্রধানমন্ত্রী তামাশা করতে ছাড়েন না। আমরা দেখলাম গত দুই থেকে তিনদিন আগে তিনি বাংলাদেশের মানুষকে বিশেষত উচ্চবিত্তকে তিনি পরামর্শ দিলেন মাংসের দাম যেহেতু বেশি আপনারা কাঁঠালের বার্গার খাবেন। আর তিনি বলেন কাঁঠালের বার্গার স্বাস্থ্য সম্মত আর বেজিটেরিয়ান।

 

আমরা দেখেছি শুধু মাত্র মাংস নয় কাঁঠাল নয় বাংলাদেশের মানুষকে কুমড়োর বেগুনী খাওয়ার ও পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমরা তার এ তামাশা আরো ভংয়করভাবে দেখি বাংলাদেশের রাজনীতিক দলগুলোর উপরে। গাজীপুরের বিএনপির নেতা আলী আজম তাকে সরকার গ্রেফতার করে। গত ১৮ তারিখ তার মা ইন্তেকাল করেন তখন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি যখন জানাযা দিতে আসেন তার হাতে হাতকরা পরানো ছিল। যার কারণে তিনি তার মায়ের কবরে নামতে পারেননি। এটা একটা সন্তানের জন্য ভয়ংকর যন্ত্রণা কষ্ট আর কষ্ট কোনভাবেই লাগব হওয়ার নয়।

 

আমরা দেখেছি ১০ তারিখ যখন বিএনপি সমাবেশ করতে চায় তখন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি তাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে যায়। তাকে গ্রেফতার করতে না পেরে তার কিশোর সন্তানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় এটা কতবড় মানবাধিকার লঙ্গন এটা অতীতের ইতিহাসে নেই। আবার যুবদলের নেতাকে তার বাসাবাড়িতে না পেয়ে তা পিতার উপর হামলা চালায় আর এ হামলায় তিনি মারা যান। এ নির্মমতা শাসন ব্যবস্থা এটা হচ্ছে জালিমের শাসন।

 

গতকাল বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সপ্তম সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অতীতে ও কোন জালিমের শাসন টিকেনি ও বর্তমানে ও এ জালিমের শাসন টিকবে না। বাংলাদেশের মানুষকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভয় দেখান তিনি বলেন যে ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশে দূর্ভিক্ষ চলে আসবে। আমরা তাকে বলতে চাই তাহলে আপনারা এতো উন্নয়ন কোথায় গেল। প্রধানমন্ত্রী জারিজুরি, ঠান্ডা ভ্যারি, প্রশাসন ও চোখ রাঙ্গিয়ে  বাংলার মানুষকে আপনি আন্দোলন সংগ্রাম থেকে পিচপা করতে পারবেন না।

 

বাংলাদেশের মানুষ আপনার পতন চায়। বাংলাদেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক ভোট অধিকার চায়। তার জন্য বাংলাদেশের জনগণ রক্ত দিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে ও বিএনপির সমাবেশে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। সেখানে ও মানুষ মারা গিয়েছে। মুন্সিগঞ্জে, ভোলায়, ব্রাহ্মনবাড়িয়া গিয়েছে সর্বশেষ ঢাকায় গিয়েছে। আমি আপনাদের বলতে চাই গুলি চালিয়ে গদি রক্ষা করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, আমরা এ নারায়ণগঞ্জে বসবাস করি এ নারায়ণগঞ্জ একটি গুম, খুন, সন্ত্রাসের জনপদ।

 

আজকে নারায়ণগঞ্জের প্রত্যেকটি এলাকায় ঘরে ঘরে ভয়ভীতির আতঙ্ক আছে এ আতঙ্ক থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষ বের হতে চায়। আমরা দেখেছি নারায়ণগঞ্জের যে সরকারি সম্পত্তি রয়েছে সেটার উপর প্রশাসনের দখল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখল তারা জনগণের সম্পত্তি দখল করে আছেন। নারায়ণগঞ্জ শহর হিসেবে কিন্তু বড় শহর নয় ছোট শহর কিন্তু প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই যে পরিমান জ্যামের মধ্যে নারায়ণগঞ্জবাসীকে পরতে হয়। তার কারণে নারায়ণগঞ্জবাসীর জীবন অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছেন।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে ৫টি স্ট্যান্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেবল মাত্র নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ার মধ্যেই প্রায় ৮টি স্ট্যান্ড বহাল আছে এ স্ট্যান্ডগুলো বহাল আছে কারণ হচ্ছে পরিবহন মাফিয়া নারায়ণগঞ্জে বাস ও পরিবহন খাদ থেকে কারা কত টাকা লুটপাট করছে নারায়ণগঞ্জবাসী জানেন। সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা সেতুর অজুহাতে নারায়ণগঞ্জের ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হল। আমরা বলতে চাই এ পরিবহন বন্ধের জন্য কেন তারা কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেননি। কেন ফতুল্লাবাসীকে এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হল।

 

ছাত্র ছাত্রী  যারা কর্মরত আছেন তারা কিভাবে আসবেন তারা কি এগুলো একটু ভাববে না। আর এ সকল কর্মকান্ডের মূলহোতা হচ্ছেন পরিবহন মাফিয়ারা। নারায়ণগঞ্জে সরকারি পরিবহন বিআরটিসি যেটা জনগণের পরিবহন সেটাকে ও আমরা দেখি এখানকার মাফিয়ারা তাদের সন্ট্যান্ডের ভিতরে তারা যেখানে টিকেট কাউন্টার করেছে সেটার উপরে হামলা চালান। আমরা এগুলোর সমাধান চাই। আমি আরো বলতে চাই সময়ের এক ফোর অসময়ের ১০ ফোর অর্থাৎ যে আজকে যে বাস্থবতা এসেছে সেখানে যদি নারায়ণগঞ্জের মানুষ লড়াই সংগ্রামে নামে তাহলে খুনী, গডফাদার, মাফিয়া যারা ভোট অধিকার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। তারা কেউ টিকবে না।

 

তার জন্য দরকার মানুষের ঐক্যবদ্ধ শক্তি দরকার মানুষের একসাথে আন্দোলন মিছিল। আমি আজকে এ সমাবেশ থেকে প্রতিজ্ঞা করছি। লড়াই চলছে সেই লড়াইয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী লড়বে। এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র ভোট অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে লড়াই সেখানে আামদের জোট আমাদের দল নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমরা আমাদের কাছে মিনতি করছি দল করতে হবে। মনে রাখবেন দলই আপনাকে আপনাদের কাঙ্খিত মুক্তি ফিরিয়ে দিবে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন