# সুন্দর নাটক দেখছি: শামীম ওসমান
গত কয়েক মাস যাবৎ তর্জন-গর্জন দিয়ে মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপি নেতারা। রাজপথে বিভিন্ন সভা সমাবেশে গরম বক্তব্য দিয়ে নেতা কর্মীদের চাঙ্গা রেখেছে। তারই প্রমান দিয়েছে গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় মহা সমাবেশে। কেননা ওই সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রেখে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এদিকে ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ১০ দফা দাবীর বাস্তবায়নে গতকাল সারাদেশে প্রথম গনমিছিল কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল নারায়ণগঞ্জেও ব্যাপক ভাবে জেলা মহানগর বিএনপি মিলে কেন্দ্রঘোষিত গণমিছিল করে শহরের চাষাঢ়ায়। কিন্তু এই গণ মিছিলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং চমকের বিষয় হচ্ছে বিএনপির মিছিল ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান মুখোমুখি অবস্থান ।
এদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে শনিবার বিকাল ৪ টায় গণমিছিল বের করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। মিছিলকে কেন্দ্র করে দুপর থেকে নেতা কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় নেতাকর্মীরা জমায়েত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে শহরজুড়ে গণমিছিল করেন। বিএনপির মিছিলের কথা শুনে শহরের চাষাঢ়া রনি ফার্মার সামনে অবস্থান নেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। বিএনপির মিছিলটি শহরের মিশনপাড়া পূর্ব দিক থেকে আসে। আর এমপি শামীম ওসমানের গাড়ী পশ্চিম দিক থেকে শহরের চাষাঢ়া রনি ফার্মার সামনে থেকে পূর্বমুখী হয়ে দাঁড়ায়। ওই সময় শামীম ওসমানও তার গাড়ীর চালক ছাড়া আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মী ছিল না।
জানা যায়, গতকালকের বিএনপির গণ মিছিল ছিল নেতাকর্মীতে পরিপূর্ণ। বিএনপি শহরের মিশনপাড়া এলাকা হোসিয়ারি সমিতির সামনে থেকে মিছিল বের করে তা শহরের ২ নম্বর রেলগেট প্রদক্ষিণ করে চাষাঢ়ায় এসে শেষ হয়ে যায়। চাষাঢ়া বিজয়স্তম্ভ গোলচত্বর গিয়ে মিছিল শেষ হয়। তবে বিএনপির মিছিলের সামনে ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান। তিনি যখন চাষাঢ়া রনি ফার্মার সামনে অবস্থান করেন তখন বিএনপির মিছিল র্পুব দিক থেকে চাষাঢ়ার দিকে মিছিল নিয়ে আসছে। এসময় প্রায় আধাঘন্টা অবস্থান করেন এই সাংসদ। তখনি বিএনপি তাদের গণমিছিল চাষাড়া বিজয় স্তম্ভের সামনে এসে সমাপ্ত করেন।
বিএনপির মিছিলের সামনে এসে হতচকিত হয়ে পড়েন সাংসদ। তবে সাংসদের অবস্থানের বিষয়টি টের পাননি বলে দাবি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। তবে মজার বিষয় হচ্ছে সাংসদ শামীম ওসমান এই প্রথম সরেজমিন তার নির্বাচনী আসনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রত্যক্ষ করেছেন নিজ চোখে। অনেকে এতে আগ্রহ বোধ করেছেন। কেননা, ২০০১ সালে এই গিয়াসউদ্দিনের কাছেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান প্রথম রাজনৈতিক পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন।
এরপর যদিও বিএনপি থেকে গিয়াসউদ্দিন মনোনয়ন পাননি আর শামীম ওসমানকেও তার বিরুদ্ধে লড়তে হয়নি। তবে খুব সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক পদে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন মনোনিত হওয়ার পরপরই জেলাব্যাপী চিত্র বদলে গেছে বিএনপির। আর যার দরুণ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছে এই গিয়াসউদ্দিনকেই। তবে গতকাল কী কারণে শামীম ওসমান বিএনপির মিছিল দেখে অবস্থান নিয়েছেন এ প্রশ্ন ছিল প্রায় সবারই। কেননা সম্প্রতি এমপি শামীম ওসমান ঘোষণা দিয়েছিলেন- মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের বিরুদ্ধে ও যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ করতে মাঠে থাকবেন তিনি।
গতকাল বিএনপির গণমিছিলে আচমকা এসে শামীম ওসমান বিএনপির মিছিল নিয়ে মন্তব্য করেন ‘কি সুন্দর নাটক দেখছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ইদানীং মিছিল-মিটিংয়ে খুবই উচ্ছৃঙ্খল মন্তব্য করছে। খুবই নোংরা ভাষা ব্যবহার করছে। পুলিশের উপর হামলা করেছে। একজন মানুষ মারা গেছে। এতে করে শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী না, জনতা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিও ক্ষিপ্ত বিএনপির উপর। তারা বিশৃঙ্খলা করলে পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু আমাদের নিজ দলের বা স্বাধীনতার স্বপক্ষের কেউ যাতে রেগে গিয়ে উল্টা-পাল্টা কিছু না ঘটাতে পারে, তাই দাঁড়িয়ে ছিলাম।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপির মিছিলে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, জেলা মহানগর গণ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ২৭ দফা দাবীতে গণ মিছিল বের করেন। রাজনীতি মহলে আলোচনা রয়েছে গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বকে ভয় পান এই সাংসদ। গিয়াস উদ্দিন জেলা বিএনপির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীনরাও নড়েচড়ে বসেছেন।
গতকাল গণমিছিলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সে আন্দোলনের সফলতা নিয়ে একটি কথা বলতে চাই। এই সরকারে যারা রয়েছে তারা আজকে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে মোকাবেলা করতে পারছে না। তাই তারা প্রশাসনের উপর নির্ভর করছে। প্রশাসন দিয়ে তারা বিএনপির আন্দোলনকে মোকাবেলা করতে চায়। এই সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে।
এদিকে শামীম ওসমানের অবস্থানের সময় ঘটনাস্থলে নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান করছিলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। শামীম ওসমানের অবস্থানের বিষয়টি আমলে না নিয়েই শান্তিপূর্ণভাবেই গণমিছিলের অনুষ্ঠান শেষ করে নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখান থেকে সরে যান সাখাওয়াত।
এস.এ/জেসি


