‘ঢাকায় ৩০ তারিখের খেলায় বিএনপি বিজয়ী হবে’
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৫২ পিএম
# মিথ্যা অপপ্রচারে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না : জয়নাল আবেদীন
# ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই : আব্দুস সালাম
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার ২৪ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবীতে ও ১০ দফা দাবী বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে শহরের মিশনপাড়ার হোসেয়ারী সমিতির সামনে গণমিছিলের আয়োজন করা হয়। আর এই মিছিলকে কেন্দ্র করে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিশাল জমায়েত হয়। সেই সাথে তারা মিশনপাড়া এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, আপনারা জানেন গত ১০ তারিখের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আমাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীর দলের অফিস থেকে ৪৫০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তার পরবর্তীতে আমাদের জাতীয়তাবাদী দলের মহা সচিব এবং জনাব মির্জা আব্বাসকে ডিবি অফিসে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় তারই প্রতিবাদে আজকের এই সভা। এই সরকার একজন অবৈধ সরকার নিশিরাতের সরকার এই সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে নিয়ে গিয়েছে । এ সরকার বাংলাদেশের মানুষকে একটি কারাগারে পরিণত করেছে।
বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে না। তারা আামদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার গায়েবী মামলা দায়ের করেছে। আর তারা বিচার বিভাগকে তাদের আওতায় রেখেছে যাতে করে নেতাকর্মীরা কোন অবস্থাতে জামিন না পায়। আমি অতন্ত্র আনন্দিত খুশি হয়েছি নারায়ণগঞ্জের এ গণজমায়েত দেখে। আমি অনেক জায়গায় শুনেছি পুলিশ গুলি করে আমাদের নেতাকর্মীদের আহত করেছে গণমিছিলও করতে দিচ্ছে না অর্থাৎ এ সরকার গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে না। এ সরকার চিন্তা করেছে তারা এ দেশের সব সম্পদ লুট করে নিয়ে আবার আগামী নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো ২০১৮ সালের মতো ভোট চুরি করে নির্বাচিত হয়ে দেশের সমস্ত সম্পদ বাহিরে পাঁচার করে দেবেন কিন্তু এ দেশে জিয়ার সৈনিকেরা বেঁচে থাকলে তা হবে না।
তিনি আরো বলেন বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলেকে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের মানুষ শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বিশ্বাস করে। তারা বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের নেতা তারেক রহমানের দলের আদর্শকে বিশ্বাস করে। তাই তাদেরকে এ নিশিরাতের সরকার যত অত্যাচার ন্যায় করুক না কেন। তাদেরকে কোন অবস্থাতেই দাবিয়ে রাখতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। বর্তমান সরকার সম্মেলন সম্মেলন করে তারা মনে করেছি আগামী দিনে যে নির্বাচন হবে আগে যে নির্বাচন কমিশন করেছে এবারও তারা করবে।
আজকে আমি বলে দিতে চাই বাংলাদেশে এ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। হতে পারে না। আর যে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল সেই নির্বাচন কমিশন তার থেকে ও খারাপ তাই কোন নির্বাচন কমিশনকে আমরা মানি না। আপনারা অবগত আছেন প্রতি বছরে লক্ষ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাঁচার করেছে। তারা বাংলাদেশের ব্যাকগুলো খালি করে দিয়েছে। তাই মানুষ চিন্তা করছে আগামী দিনে কিভাবে এ সরকারকে হটিয়ে জাতীয়তাবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়। আমি কিছুক্ষন আগে শুনতে পেলাম নারায়ণগঞ্জে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আমি আরো বলতে চাই আপনারা জানেন যে একজন ব্যাক্তি রাজনীতি বিপর্যিত বক্তব্য রাখেন। তিনি মাঝে মাঝে বলেন মাঠে খেলা হবে। আমি সেই নেতার উদ্দেশ্য বলতে চাই ১০ তারিখের খেলায় বিএনপি জিতেছে আগামী ৩০ তারিখে ঢাকায় যে খেলা হবে ইনশাআল্লাহ এই খেলায় ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিজয়ী হবে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বলা হয় উনি এতিমের টাকা আত্মসাত করে খেয়ে জেলে আছেন আমি তার আইনজীবী হিসেবে বলতে চাই বেগম খালেদা জিয়া এতিমের একটি টাকা ও তিনি খাননি। এতিমের টাকা আগে যেখানে তিনকোটি ছিল সেখানে এখন ১০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে। তাই এ মিথ্যা অপপ্রচারে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।
বিশেষ অতিথি বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, আজকের দাবি আজকের এই গণমিছিল বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবি ও আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসসহ সারা বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের মুক্তি কামনা করে ও ১০ দফা সফল করার জন্য আজকের এ গণমিছিল তারই মধ্য দিয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষ যে গণমিছিলের জন্য রাস্তায় নেমেছে।
আজকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারেক রহমান আমাদেরকে আহ্বান করেছেন এ স্বৈরাচারি সরকারের পতন না হলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র আসবে না। তাই আমাদের বিগত দিন থেকে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ স্বৈরাচারি সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য এক দলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের লক্ষে আগামীতে দিনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে এ স্বৈরাচারি সরকারের পতন ঘটাবো।
সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ আজকের এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিসহ যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন তাদের সবাইকে। যে ১০ দফা আদায়ের জন্য আজকের এ গণমিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ দাবি শুধু বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নয় এই দাবীগুলো সম্পূর্ণভাবে এ দেশের মেহেনতি মানুষের থেকে শুরু করে সর্ব শ্রেনীর মানুষের দাবী তাই আজকে যারা এখানে সমবেত হয়েছেন।
এখানে শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয় সকল শ্রেনীর মানুষ এ গণমিছিলে অংশ গ্রহণ করেছেন। সরকারের যারা রয়েছে আজকে তারা রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে মোকাবেলা করতে পারছে না। তাই তারা প্রশাসনের উপরে নির্ভর করছে প্রশাসন দিয়ে আজকে তারা জনগণের এ আন্দোলনকে মোকাবেলা করতে চায়। তাতেই বুঝা যায় প্রাথমিকভাবে তাদের পরাজয় হয়ে গেছে। আর মাত্র একটু সময় এই সময়ের মধ্যে অবশ্যই অগণতান্ত্রিক এই সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে করে দিতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আজকে সারা বাংলাদেশে এই সরকারের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। আজকে আমাদেরকে এই সরকারের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দূরবার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই সরকার অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে এই সরকার জণগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। তাই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। ১০ তারিখে এই দেশের মানুষের মুক্তির জন্য ১০ দফা আন্দোলনের ঘোষনা করা হয়েছিল। সেই ১০ দফার শপথকালে আজকের থেকে যে আন্দোলন শুরু হল। সেই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও জেলা বিএনপির সকল নেতাকর্মী ভাই ও বোনেরা ঐক্যবদ্ধ থেকে এই সরকারকে বিদায় করে এ দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার করা হবে ইনশাআল্লাহ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন বলেন, আমাদের মূলদল সহ প্রত্যেক জেলায় জেলায় হাজারো নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অবৈধ নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই ও তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবী জানাই। এবং অবিলম্বে দেশ নায়ক তারেক রহমান এ দেশে এসে বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং ১০ দফার যে কর্মসূচি দিয়েছেন একটাই দাবি তা হল এ সরকারের পতনের আন্দোলন শুরু হয়েছে। পতনের যে ডাক দিয়েছেন দেশ নায়ক তারেক রহমান এই পতনের ডাককে ইনশাআল্লাহ নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনিপ সবসময় ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে ভবিষ্যাতে ও ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে কর্মসূচি দিয়েছে। যেহেতু আমি বিএনপির একজন কর্মী সেই হিসেবে সকল কর্মসূচি আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। আর জীবন থাকতে আমাদের নেতা তারেক রহমান যতগুলো কর্মসূচি দিবে সকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবো। আর এ সরকারের পায়ের তলায় মাটি নাই তাই সরকার পুলিশের উপর নির্ভর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। আজকে জেলা ও মহানগরের উদ্দ্যোগে যে গণমিছিল সেই গণমিছিলেই আমরা প্রমাণ করে দিবো যে এ মিছিলে জনগণ সম্পৃক্ত হয়েছে।
আসলে আমি বলতে চাই আওয়ামী লীগের কোন অস্তিত্ব নেই তারা এখন লাইভ সাপোর্টে আছে। আর শতশত নেতাকর্মীকে আমি আহ্বান করছি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার পতনের আন্দোলন আরো জোরদার করবো। এ আওয়ামী লীগের সরকারের পতন বিএনপি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে। আর এ গণমিছিল থেকে আমি দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর, মির্জা আব্বাস ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রনিসহ হাজারো নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবী জানাচ্ছি।
এস.এ/জেসি


