# ছোট পরিসরে হলেও আন্দোলনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে বাম রাজনৈতিক দলগুলো। 'অস্তিত্ব সংকটে দেশের বাম রাজনৈতিক দলগুলো দিনে দিনে কথাটির গায়ে ধুলো জমতে শুরু করলে ও এ ব্যাপারে বাম দলগুলোর খুব যে একটা মাথাব্যথা আছে, তা ঠিক লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এক সময় তুখোর রাজনীতিক দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন এই বাম রাজনীতি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সব শেষ হয়ে এখন অস্তিত্ব নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
তারা বিভিন্ন হঠকারী সিদ্ধান্তের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। অপর দিকে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয়পার্টি ইতিমধ্যেই নানা প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছেন। কিন্তু বাম রাজনীতির নেতাকর্মীরা এখন ও কোন প্রস্ততি নিতে সক্ষম হয়নি। যার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ধারণা আগামীতে বাম রাজনীতির নিষ্ক্রিয়তার চান্স বেশি। যার কারণে বোদ্ধা মহলের একটা প্রশ্ন আগামীতে কি হবে বাম রাজনীতির।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বামধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনসমর্থন দিন দিনই কমছে। দলগুলোর নিজস্ব যে আদর্শ বা লক্ষ্য, তা পূরণেও রয়েছে সীমাহীন ব্যর্থতা। দেশে প্রায় বিশটির মতো বাম রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব থাকলেও, এর তিনভাগের একভাগ হয়তো কিছুটা সক্রিয়। তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয়তা করতে পারছে না। দলগুলোর নিজেদের মধ্যেকার মতের অমিল, দলীয় এবং ব্যক্তিস্বার্থের দ্বন্দ্ব, আদর্শের বাইরে গিয়ে চূড়ান্ত হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলোও এসব দলের শক্তি ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর করতে সহায়ক হয়েছে।
যার কারণে দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীই ঝুঁকে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দিকে। অপর দিকে প্রায় এক বছর সময় বাকী রয়েছে জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের তাকে লক্ষ্য করে দেশের বড় বড় দলগুলো ইতিমধ্যেই নানা দফার আন্দোলন ও সম্মেলন করে ব্যাপক সাড়া ফেলছে। এবং সকল দিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু সেখানে বামদের প্রস্তুতি প্রায় শূন্য। এর মূল কারণ হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ধারনা ঐক্যবদ্ধতা ও নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব। এর আগের জোট সরকারের আমলে বাম দলগুলো ঘরে বসে 'দেখি কী হয়' নীতির কথা নিশ্চয়ই আমরা ভুলে যাইনি।
সে সময় এমনও হয়েছে যে, বাম নেতারা নামেমাত্র হরতালের ডাক দিয়ে যার যার ঘরে বসে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা উপভোগ করেছেন। সত্য-মিথ্যা জানি না, তবে বামদের তখন জোট সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার কথাও রাজনৈতিক চায়ের আড্ডায় শোনা গিয়েছে বহুবার। কিন্তু ইতিমধ্যে বিগত নির্বাচনগুলোর থেকে ও বর্তমান নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মাঠে অনেকটাই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এর মাঝে বামদের ভূমিকা না দেখার মতোই। যার ফলে তৃণমূলের প্রশ্ন বর্তমানে বাম রাজনীতিকরা আরো ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় না হতে পারলে আগামীতে এটার দায়ভার কার।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা যুগের চিন্তাকে বলেন, দেশের সকল দিকে সমন্বয় করেই আমরা কাজ করছি। আমরা ইতিমধ্যে সকল রাজনৈতিক দল গুলোর মতোই পূর্ণগঠনের কাজ হাতে নিয়েছি। আমরা কিন্তু সর্বক্ষেত্রেই সাধারণ জনগণের সকল সমস্যায় পাশে এসে দাঁড়াই। বতর্মানে দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দামবৃদ্ধিও প্রতিবাদে আমরা পাশে এসে দাড়িয়েছি। এবং আমরা এ ফ্যাসিবাদী সরকারকে একমুহুর্ত সিটে দেখতে চাই না।
আমরা চাই দেশে আবার শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। আমরা ১৪ দলের সাথে আছি বলে এ নয় যে আমরা আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধভাবে কাজ করছি। আমরা কোন ফ্যাসিবাদী সরকারের সাথে কোনভাবেই যোগবদ্ধতা বজায় রাখতে পারি না। আমরা চাই দেশে একটি আলাদা শক্তি প্রয়োগ করতে যা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে পুরোই আলাদা। আমরা চাই গণতেন্ত্রর মুক্তি মানুষের ভোটের অধিকার।
তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে আমাদের অনেক নেতাকর্মীই আমাদের থেকে আলাদা হয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগ বা রাজনৈতিক দলের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কেউ গেছে বলে আমরা ধারনা নেই। কারণ আমরা এখন সকল কাজ নিজেরা আলাপ আলোচনা করেই শুরু করি। যার কারণে বিগত দিন থেকে এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের সাংগঠনিক যে প্রক্রিয়া রয়েছে আমরা সেটা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা বিগত দিনে যেভাবে মানুষের দুঃখ কষ্টে পাশে এসে দাড়িয়েছিলাম এখন ও মানুষের পাশে সকল সময় আছি মানুষের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারের লক্ষ্যে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করে যাই। ইতি মধ্যে আমাদের জোট থেকে অনেক দল আলাদা হয়েছে আবার অনেক ছোট ছোট দল কিন্তু জোটবদ্ধ হয়ে আমাদের সাথে আন্দোলনে আসছে। এখন আপনরা দেখবেন আমরা কিন্তু আমাদের সকল আন্দোলন সংগ্রাম বিগত দিন থেকে এখন একটু বেশি। আমরা কিন্তু নানা দাবি নিয়ে কাজ করছি। ছোট পরিসরে হলে ও কিন্তু কর্মসূচি কোন বন্ধ নেই। এখন আমরা একটি বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে চাই। আমরা চাই দেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া ও দেশে একটি বিকল্প শক্তি গঠন হোক সেই ক্ষেত্রেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং নানা আলাপ আলোচনা ও প্রস্তুতি নিচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের সারাবিশ্বে একটি বিপর্যয় ছিল সেটার বাতাস যখন বাংলাদেশে লেগেছে তখন আমাদের দল থেকে কিছু বড় বড় এমপি মন্ত্রী নেতারা দল ছেড়ে অন্য ক্ষমতাসীন দলের দিকে ঝুঁকে পরেছিল। কিন্তু এখন আর এমনটাই নেই এখন আমরা যারা প্রকৃতি বামের সাথে জড়িত আছি আমরাই সকল আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে আছি। আর কিছু খুচরা পার্টি আছে তাদের মধ্যে অনেকে ১৪ দলের যোগ দিয়েছে আবার অনেকে বিএনপির সাথে ও গিয়েছে কিন্তু এতে আামদের কিছু আসে যায় না। কারণ আমরা যারা প্রকৃত বাম রাজনীতির সাথে জড়িত আছি আমরা কখনোই জোটবদ্ধ থেকে আলাদা হয়ে অন্য কোন দলের সাথে জড়িত হবো না।
এ বিষয়ে ন্যাপ নেতা এড. আওলাদ হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, বাম রাজনীতির নোতকর্মীরা নিজেরাই শতভাগে বিভক্ত নীতি আদর্শ তাদের এক হলে ও সবাই বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের মধ্যে একবারেই ঐক্য নেই। তাদের এ ঐক্যর অভাবে এ দেশের সাধারণ মানুষের জন্য তাদের যে অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াই, গণতান্ত্রিক লড়াই, সাংস্কৃতির লড়াই সেই লড়াই আজকে থেমে গেছে। এবং সমাজের অসম্প্রাদায়িক গণতান্ত্রিক দ্বারা মানব মুক্তির দ্বারাসহ নানা দ্বারা আজকে তাদের থেমে গেছে। আর সামনে নির্বাচন সেখানে আমরা একবারেই শূন্য অবস্থানে আছি। আর এ শূন্য হওয়ার কারণ হল একটি অংশ চলে গেছে বিএনপির সাথে জোটগত আন্দোলনে আরেকটি অংশ গেছে ১৪ দলের সাথে জোটগত আন্দোলনে আরেকটি অংশ রয়েছে আলাদা অবস্থানে ফলে বামপন্থী ঐক্যবদ্ধ শক্তি থাকলে নির্বাচনে মানুষের সামনে কিছু আহ্বান করতে পারতো।
এ বিষয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক নিখিল দাস যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আমরা মাঠে বাম রাজনৈতিক সকল নেতাকর্মী নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী আছি। আর আপনারা ইতিমধ্যেই অবগত আছেন এখন ব্যাংকে লুটপাটসহ নানা অনিয়ম হচ্ছে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি সকল বিষয়ে কিন্তু আমরা ছোট পরিসরে হলে আন্দোলন সংগাম করে যাচ্ছি। আমরা এ সরকারকে এ মুহুর্তের জন্যও ক্ষমতায় দেখতে চাই না।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের আরো ১ বছর বাকি আছে আমরা আমাদের সামর্থ অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। আমরা যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন পাই তাহলে আমরা নির্বাচনে অংশ নিবো তা না হলে আমরা নির্বাচনে অংশ নিব না। আর আওয়ামীলীগের সাথে যে বাম আছে তারা ২০০৫ সাল থেকেই ১৪ দলের সাথে জোটবদ্ধ অবস্থা আছে নতুন কোন দল তাদের সাথে জোটে যায়নি। আর বিএনপির সাথে এখন আবার চলে গেছে গণতন্ত্রমঞ্চ তারা তাদের থেকেই সেখানে গিয়েছে। তারা চিন্তা করেছে তাদের সাথে আন্দোলন করলে তাদের ভালো হবে। তাই তারা গিয়েছে। কিন্তু তারা কোন জোটবদ্ধভাবে তাদের সাথে নেই যুগপুৎ আন্দোলনে এক আছে। আর এখন আমাদের মাঝে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েই মাঠে কাজ করে যাচ্ছি।
এস.এ/জেসি


