Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান ‘আমাকে মেরে শান্তি হলে মারতো’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪৮ পিএম

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান ‘আমাকে মেরে শান্তি হলে মারতো’
Swapno

 

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, আমি এই অনুষ্ঠান আসার আগে আমাকে সাংবাদিক রাজু জিজ্ঞাসা করেন আপনি বিএনপির মিছিলে দাড়িয়েছেন কেন।তার কারন আমি তাকে বলেছি। সাংবাদিকরা দেখলো জিজ্ঞেস করলো আপনি এখানে কেনো? বললাম কোনো উদ্দেশ্য না। যদি কোনো উদ্দেশ্য থাকতো তাহলে একা যেতাম না ৫০০ লোক নিয়ে যেতাম।

 

অনেকে বললো আপনাকে যদি মেরে ফেলতো, আমি বললাম আমাকে মেরে যদি ওদের শান্তি হয় তাহলে মারতো। আমার উদ্দেশ্য ছিলো ওইখানে যেনো কেউ ঘটনা না ঘটাতে পারে। আমরা যে খবর পেয়েছিলাম সেটা তারা করতে পারে নাই। গতকাল এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।  তিনি বলেন, সর্ষের মধ্যে ভূত থাকে। প্রায় ১৩ বছর আমরা ক্ষমতায় আছি। আমাদের উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। আমাদের নেতা কমীরা ঘরে থাকতে পারে নাই। আমরা কোন প্রতিশোধ নেই নাই। মাস খানিক আগে বিএনপি শহরে মিছিল করলো, আর সেখানে একজন মারা গেল। তারা বলবে সে বিএনপির কর্মী আবার কেউ বলবে আওয়ামী লীগের কর্মী।

 

আল্টিমেটলি সত্য কোনটা, সত্য হলো সে একজন মানুষ। শনিবার সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও বিএনপির মিছিল হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের খৃুনিরা এখন একটি দলের নেতৃত্বে চলে আসছে। তারা একটি সিনক্রেট তৈরী করতে চায়। আমিও বিএনপির সমাবেশের সময় চাষাড়ায় ছিলাম। তখন অনেক সাংবাদিক এসে আমাকে প্রশ্ন করেন আপনার উপর হামলা হলে কি করতেন। আমি তাদের বলেছি হলে হত আমি তাতে ভীত নয়। কিন্তু ওই দিন শুধু বিএনপি মিছিল করেছে কোন নৈরাজ্য করে নাই। কিন্তু রাজনীতিতে ভাষানর শালীনতা থাকতে হবে। বিএনপির নেতা কর্মীরা ইদানিং অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলে যা তাদের উচিৎ নয়। গতকাল ফতুল্লার এক সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

এদিকে এর আগে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১০ দফা দাবী বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি শহরের মিশন পাড়া হোসিয়ারি সমিতি হতে গণ মিছিল বের করেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে শনিবার বিকাল ৪ টায় গণমিছিল বের করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। মিছিলকে কেন্দ্র করে দুপরে থেকে নেতা কর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় নেতাকর্মীরা জমায়েত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে শহড়জুড়ে গণমিছিল করেন।

 

কিন্তু মিছিলটি ২ নম্বর রেলগেট প্রদক্ষিন করে চাষাড়ায় এসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয় নাই। চাষাঢ়ার এসেই শামীম ওসমানের গাড়ি দেখে তারা মিছিল সমাপ্ত করেন। বিএনপির মিছিলের কথা শুনে শহরের চাষাঢ়া রনি ফার্মার সামনে অবস্থান নেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। বিএনপির মিছিলটি শহরের মিশনপাড়া পূর্ব দিক থেকে আসে। আর এমপি শামীম ওসমানের গাড়ি পশ্চিম দিক থেকে শহরের চাষাঢ়া রনি ফার্মার সামনে থেকে পূর্বমুখী হয়ে দাঁড়ায়। ওই সময় শামীম ওসমানও তার গাড়ীর চালক ছাড়া আওয়ামীলীগের কোন নেতা কর্মী তার সাথে ছিল না।

 

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে বিএিনপির মিছিলে কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, জেলা মহানগর গণ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ২৭ দফা দাবীতে গণ মিছিল বের করেন। তবে ২০০১ সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসন থেকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করে পরাজিত হন ক্ষমতাসীন দলের এমপি শামীম ওসমান। রাজনীতি মহলে আলোচনা রয়েছে গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বকে ভয় পান শামীম ওসমান।

 

বিএনপির মিছিলে বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সে আন্দোলনের সফলতা নিয়ে একটি কথা বলতে চাই। এই সরকারে যারা রয়েছে তারা আজকে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে মোকাবেলা করতে পারছে না। তাই তারা প্রশাসনের উপর নির্ভর করছে। প্রশাসন দিয়ে তারা বিএনপির আন্দোলনকে মোকাবেলা করতে চায়। এই সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন