# প্রায় ২০ বছর পর সম্মেলন, তাই উৎসব আমেজ
# সভাপতি পদে ২ জন এবং সম্পাদক পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী
# ২২৬ জন কাউন্সিলরের অংশগ্রহণে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গুলো গঠনে সম্মেলনের তোরজোর শুরু বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই। সেই থেকে পুরানো মেয়াদোত্তীর্ণ ও অসম্পূর্ণ কমিটির পরিবর্তে নতুন কমিটি গঠন বলে আশায় বুক বাধে বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের তৃণমূল আওয়ামী লীগ। তবে করোনা মহামারী এর বাধা হয়ে দাঁড়ালে সম্মেলন সম্পন্ন করা আর সম্ভব হয়নি। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বন্দর আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হলে নতুন করে তৃণমূল থেকে এই সম্মেলনের দাবি উঠে।
এর প্রতি সম্মান রেখে এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় সারা দেশের ন্যায় বন্দরের ইউনিয়ন কমিটিগুলোও গঠন করার জন্য জোর তৎপরতা শুরু হয়। সেই সূত্রেই আগামী ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন। দুপুর আড়াইটায় সম্মেলন শুরু হবে বলে আয়োজকসূত্রে জানা গেছে। আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই এবং প্রধান বক্তা হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল থাকবেন বলে প্রাথামিকভাবে জানা গেছে। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান। এছাড়াও বন্দর আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও সম্মানিত নেতৃবৃন্দ অতিথি হিসেবে থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উৎসব মূখর আমেজের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান। এই ইউনিয়নের সভাপতি পদের জন্য আছেন দুইজন প্রার্থী। বর্তমান সভাপতি মুজিবর রহমানের সাথে স্থানীয় আবদুল কাদির নামের আরেকজন প্রার্থী আছে বলে জানা গেছে। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিযোগিতা করছেন ৪ জন। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, পূর্বের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ভেন্ডার (প্রয়াত) এর ছেলে আবুল হাসনাত জনি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য আবদুল কাদির ডিলারের ছেলে মেজবাহউদ্দিন মিলন এবং অন্যজন শিল্পপতি নুরুজ্জামানের ছেলে সাইফুল ইসলাম। সম্মেলনে মোট ২২৬ জন কাউন্সিলর অংশগ্রহণ করবেন বলে আয়োজক সুত্রে জানা গেছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মুসাপুর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং এবারের সভাপতি প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, এবারের সম্মেলন ব্যাপকভাবে হবে। আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এবারের ইউনিয়ন কমিটি ২২৬ জন কাউন্সিলরের ভোটে গঠন করা হবে বলে জানান তিনি। জেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় প্রবীণ ও সম্মানিত আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি অংশগ্রহণমূলক সম্মেলন উপহার দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। এত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেনের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আব্দুল কাদির (কাদির ডিলার) বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস এবারের সম্মেলন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে।
তিনি বলেন যেহেতু দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবত ইউনিয়নগুলোর সম্মেলন হচ্ছে না তাই এই সম্মেলন হওয়াটা খুবই দরকার। এই সম্মেলনের মাধ্যমে যাতে দল চাঙ্গা হয়, দলীয় কর্মীরা চাঙ্গা হয়।
এস.এ/জেসি


