Logo
Logo
×

রাজনীতি

টালমাটাল জাতীয় পার্টির রাজনীতি

Icon

​​​​​​​যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৫০ পিএম

টালমাটাল জাতীয় পার্টির রাজনীতি
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জে ঢিমেতালে ঝিমিয়ে পড়া রাজনৈতিক দলগুলো আবারও নয়া কমিটির মাধ্যমে নব উদ্যমে রাজপথে নেমে শক্তির জানা দিচ্ছে। পাশাপাশি যারা নেতৃত্বে এসেছে তাদের নেতৃত্বের গুণাবলী থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে শক্তিশালী এবং সংগঠিত করছে।

 

 

তবে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি নয়া কমিটি করেও তাদের সেই নেতৃত্বের বেহাল দশা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছে না। কারণ নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটি বেশ কয়েকমাস আগে গঠিত হলেও নেতৃত্ব বিকাশে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না।

 

 

এছাড়া জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটি নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির দুই এমপির তল্পীবাহকদের দ্বারা গঠিত হওয়ায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি অনেকটা কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে।

 

 

একসময় নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টি ছিল পুরো জাতীয় পার্টির রাজনীতেকে শক্তি সঞ্চারে ভূমিকা রাখত। কিন্তু বর্তমান জাতীয় পার্টি সেই নেতৃত্বের ধারে কাছেও নেই।

 

 

কারণ বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে জাতীয় পার্টির তৃতীয় সারীর নেতারা। যার ফলে বিজয়ের মাসেও নারায়ণগঞ্জের রাজপথে জলে উঠতে পারেনি জাতীয় পার্টি। এতে করে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির রাজনীতি অনেকটা নেতৃত্ব সংকট এবং সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ছে।  

 

 

   
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। সানাউল্লাহ সানুকে সভাপতি ও আবু নাঈম ইকবালকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্য বিশিষ্ট নারায়গঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টি কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

 

 

এছাড়া মোদাচ্ছেরুল হক দুলালকে সভাপতি ও মো: আফজাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্য বিশিষ্ট নারায়গঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে গত ৩ আগষ্ট জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

 

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার অনুসারীদের পদায়ন করা হয়।

 

 

কারণ নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টি নিয়ন্ত্রণ করছে এই দুই সাংসদ। যার ফলে সালাউল্লাহ সানু সেলিম ওসমানের অনুসারী হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি করা হয়। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক করা হয় নাঈম ইকবালকে। আর ইকবাল হচ্ছে জাতীয় পার্টিতে তৃতীয় সারির একজন নেতা।

 

 

তারপরও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা তার বিশ্বস্ত লোক হিসেবে সোনারগাঁ থেকে এনে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক পদে পদায়ন করে।

 

 

এছাড়া সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ থাকাকালে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল ইকবাল। তারপর জাতীয় পার্টির সংসদ সোনারগাঁয়ে এমপি হওয়ায় আবার তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।

 

 

পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির এই সাংসদের কৃপায় সোনারগাঁ থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক পদ ভাগিয়ে নেয়। তবে জেলা জাতীয় পার্টিতে সাধারণ সম্পাদক আসার মত বহু যোগ্য থাকা সত্ত্বেও তাকে ইকবালকেই জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

 

 

তবে জেলা জাতীয় পার্টিকে সানু ইকবালের হাতে তুলে দিলেও তারা জেলা জাতীয় পার্টিকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। কারণ জেলা জাতীয় পার্টিকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তারা এখনো কোন জেলা জাতীয় পার্টিতে কোন সুফল বয়ে আনতে পারেনি। এতে করে আগামী দিনগুলোতে তাদের নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে জেলা জাতীয় পার্টিতে।

 

 

এছাড়াও মহানগর জাতীয় পার্টিতে সাংসদ সেলিম ওসমানের অনুসারী মোদাচ্ছেরুল হক দুলালকে সভাপতি করা হয়। তাকে সভাপতি নির্বাচিত করার পর নগরের অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাদের থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ কেউ তাকে চিনতে পারেনি। কারণ এই দুলাল জাতীয় পার্টিতে তেমন কোন সক্রিয় নেতা বা পরিচিত মুখ না।

 

 

কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টিতে তার থেকে যোগ্য নেতা থাকা সত্ত্বেও তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্বে আসার পর এখনো পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে তার উদ্যোগে কোন কার্যক্রম গ্রহণ করতে চোখে পরেনি।

 

 

তবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক করা কাউন্সিলর আফজাল হোসেনকে। আফজাল দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত এবং নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির দুজন সংসদের বিশ্বস্ত অনুসারী। এছাড়া জাতীয় পার্টির একজন সক্রিয় নেতা তবে কয়েকবছর আগে হঠাৎ করে রাজনীতি থেকেই হারিয়ে যায়।

 

 

তারপর আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হলেও এখন আর আগের মত জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারছে না। এতে প্রতিয়মান হয় যে, নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে থাকা নেতারা নেতৃত্ব বিকাশে ব্যর্থ হচ্ছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টি সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে নেতৃত্ব সংকট তৈরী হওয়ায় উপক্রম হয়েছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন