# এই একই প্রতিশ্রুতি তিনি বিগত নির্বাচনের আগেও বেশ কয়েকবার দিয়েছেন
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে চেনেন না এমন কেউ নেই। এছাড়া সারাদেশে এই জনপ্রতিনিধির ব্যাপক ফ্যান-ফলোয়ার রয়েছে। তিনি যখন বক্তব্য প্রদান করেন তখন সকলে মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ করেন। কিন্ত তার দেয়া বক্তব্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে সেটি হচ্ছে তিনি যা বলেন তা করেন না। গত ১৪ বছর ধরে তার দল আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় রয়েছে। আর এতে করে টানা দুই বার এমপি হয়ে ৯ বছর যাবৎ জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন। যদিও এর আগেও তিনি এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সম্প্রতি নির্বাচনের এক বছর আগে সাংসদ শামীম ওসমান আবারও মাঠে নামার ঘোষনা দিয়েছেন। আগামী বছরের ২১ জানুয়ারির পর তিনি মাঠে নামবেন বলে জানান। মাঠে নেমে তিনি সন্ত্রাস, ভুমিদস্যু, ইভটিজিং, মাদককারবারি সহ সমাজের সকল অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার জন্য মাঠে নামবো। এছাড়া এই জনপ্রতি ২০১৪ সনে বিনা প্রতিদন্ধিতায় জয়ী হওয়ায় তখন কোন প্রচারণায় নামতে হয়নি। কিন্তু ২০১৮ সনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমী তার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় এমপি শামীম ওসমানকে মাঠে নেমে প্রচারণায় নামতে হয়েছে। সেই সাথে তখন তিনি ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় প্রায় দের’শ উঠান বৈঠক করে গরম বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই এলাকার উন্নয়নের জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তখন বিভিন্ন সভায় সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, নির্বাচনের পর প্রতিটি এলাকায় সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছেন। একই সাথে প্রতিটি এলাকায় সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কমিটি করে মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলবেন। কিন্তু তার সেই বক্তব্য কথার মাঝেই রয়ে গেছে। তার প্রতিফলন ঘটে নাই। শামীম ওসমানের দেয়া কথা কোন জায়গায় কিংবা কোন এলাকায় এখনো পর্যন্ত ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য কমিটি গঠনের মাধ্যমে সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠে নাই। এমনকি এলাকা ব্যাপী তিনি যে কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন তাও হয় নাই। আদৌ তার কথার প্রতিফলন ঘটবে কি না তা নিয়ে ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ বাসির মাঝে সন্দেহ রয়েছে।
সম্পতি সিদ্ধিরগঞ্জে তিনি এক সভায় বলেছেন, আমি নারায়ণগঞ্জটাকে সুন্দর করতে সাংবাদিকদের সাহায্য চাই, রাজনৈতিক অন্য দল গুলোর সাহায্যের পাশাপাশি সবার সাহায্য চাই। আমি জানুয়ারী মাসের শেষ দিকে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে একসাথে ডাকবো সবাইকে। উদ্দেশ্য কি? মাদক-সন্ত্রাসকে বন্ধ করতে হবে। ভুমিদস্যুতা বন্ধ করতে হবে। ইভটিজিং বন্ধ করতে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে তিনি এর আগেও একই কথা গত ১৪ বছর যাবৎ বলে যাচ্ছেন। তার এই কথার বাস্তবায়ন আর হয় না। তাই রাজনৈতিক মহলে তার বক্তব্য এবং প্রতিশ্রুতি নিয়ে নানা সমালোচনা তৈরি হয়। সচেতন মহল মনে করেন তিনি যা বলেন আসলে তা করেন না। বলার জন্য বলেন।
অন্যদিকে জানা যায়, এই সাংসদ শামীম ওসমানের এলাকায় তার নিজের দল এখনো সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হতে পারেনি। কেননা ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নের মাঝে ৪টিতেই দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত কমিটি নেই। তার মাঝে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ গত এক মাস যাবত কমিটি বিহীন হয়ে আছে। আর এতে করে আরও ওই এলাকায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দুর্বল হয়ে আছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ আলীরটেক বক্তাবলী ইউনিয়নের ২২ টি গ্রাম নিয়ে বক্তাবলী পরগনা তৈরী হয়।
এই এলাকার সবচেয়ে কলঙ্কের অধ্যায় হলো এখানে ১৩৯ জন কিংবা তার বেশি ১৯৭১ সনে স্বাধীনতার যুদ্ধে শহীদ হন। তারা এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। এছাড়া নিহতদের পরিবারও কোন সহযোগিতা পাননি। কিন্তু নিহতদের স্বীকৃতি এনে দেয়ার জন্য কথা দিয়েছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান। কিন্তু আজ বাস্তবায়ন হয় নাই। আর এজন্য রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সর্ব মহলে বলাবলি হয়, তিনি যা বলেন আসলে তা করেন না।
এছাড়া এই সপ্তাহে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একের পর এক গরম বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমার কোন ফেসবুক একাউন্ট নাই, তবে আমি একটি একাউন্ট খুলে প্রতিটি এলাকায় এলাকায় দিয়ে দিবো। যাতে আমার মা-বোনেরা আমাকে ছবি তুলে দিয়ে বলতে পারে যে এইখানে মাদক বেচা-কেনা হচ্ছে। আমরা একশনে যাবো। অন্যায়কে সহ্য করাও একটি অন্যায়। তার এই কথা তিনি কতটুকু রাখতে পারবেন তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। কেননা অভিযোগ রয়েছে যারা মাদককারবারি, ইভটিজিং, কিশোরগ্যাং তৈরী করে নানা অপরাধ করে তারা এই জনপ্রতিনিধির অনুসারি। তাদেরকে তিনি কতটুকুই বা প্রতিহত করতে পারবেন। তাই বলাবলি হচ্ছে, আসলে তিনি যেই কথা বলেন তা রাখেন না।
এস.এ/জেসি


