# বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ
২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর নম পার্কে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারী বাদল-শওকতের নেতৃত্বে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। করোনাকালীন সময় অতিক্রম করার পর চলতি মাসের গত ৭ ডিসেম্বর ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে । ঐ সম্মেলনের আগে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে শুরু হয়েছে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি। বর্তমান থানা আওয়ামীলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ । যে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি বর্তমানে করা হচ্ছে এ কমিটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই আগামী সংসদ নির্বাচন।
আগামী নির্বাচনে ওয়ার্ড কমিটির সাথে সাথে ইউনিয়ন কমিটিগুলো রাজপথে কতোটা শক্তি প্রদর্শণ করতে পারে এ নিয়েও রয়েছে নানা মতানৈক্য। গত ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ মাঠে নেমেছিলেন। তবে তাদের সেই মাঠে নামা শুধু মাত্র শো ডাউন বলে মন্তব্য করেছেন খোদ আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ। অগ্নি পরীক্ষায় বর্তমান থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ কতোটুকু নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারে এ নিয়েও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মধ্যে এক সময় ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের শক্তিশালী অবস্থান ছিলো। সেই অবস্থানের কারনে এবং দলীয় ত্যাগী নেতাদের দলের জন্যে সীমাহীন ভালোবাসায় রাজপথ তাদের দখলে রেখেছিলেন। ১৯৯৬ সালে ছাত্র নেতা একেএম শামীম ওসমানকে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীতা করার ব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের তৎকালীন নেতাদের ছিলো শক্তিশালী ভুমিকা। যদিও শামীম ওসমান ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিলো না, তবুও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের কঠিন আবদারের কারনে সেই সময় শামীম ওসমানকে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
২০০১ সালের নির্বাচনের পর শামীম ওসমান দেশের বাইরে অবস্থান করেছিলেন। ফতুল্লাকে জাগ্রত রাখতে তৎকালীন সময়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রয়াত আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ, পঞ্চবটির আওয়ামীলীগ নেতা প্রয়াত লতিফুর রহমান, নুরুদ্দিন মেম্বার, ধর্মগঞ্জ এলাকার ইউসুফ, গাজী, বিএম শফিকসহ ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ছিলেন সর্বাগ্রে। তৎকালীন সময়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন সভা সমাবেশে শামীম ওসমানের বক্তৃতা মোবাইলের মাধ্যমে শুনিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে রাখতেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে চলচিত্রের নায়িকা সারাহ বেগম কবরী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হয়। এর আগে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কমিটিতে ঘটে নানা নাটকীয় ঘটনা। কবরী সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের মধ্যে শামীম ওসমান পন্থী ও কবরী পন্থী নামের দুইটি বলয়ের সৃষ্টি হয়। যেই বলয়ের দ্বন্ধ এখনো চলছে বলে মনে করছেন অনেকে। বর্তমান ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কমিটিতে পূর্বের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী বাদ পড়েছেন। এনিয়ে ক্ষোভও চলছে ভেতরে ভেতরে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে পাল্টা কারিশমা ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির অনেকেই দেখাতে পারবেন না বলেও বেশ কিছু কথা নেতৃবৃন্দের মধ্যে চাউর রয়েছে। বর্তমান কমিটির বেশিরভাগ নেতা দলীয় সভা সমাবেশে ফটোসেশন নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। দলের দূর্দিনে তারা কতোটা সাফল্য দেখাতে পারবেন তা নিয়েও রয়েছে বিস্তর বিতর্ক। তবে বর্তমানে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের থানা কমিটির চাইতে বিএনপির কর্মীরা আন্দোলন সংগ্রামে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন বলে বিশ্লেষক মহল মনে করেন।
ফতুল্লার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় আওয়ামীলীগের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে হলে কমিটিকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। সেই সাথে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিতে যাতে প্রকৃত আওয়ামীলীগের কর্মী আসতে পারে সেজন্য নেতৃবৃন্দকে মনোযোগী হতে হবে বলেও সূত্র মনে করেন। সূত্রের দাবী, যেহেতু ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, নতুন উদ্যোমে নতুন করে সম্মেলনের মাধ্যমে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন বর্তমান সময়ের দাবী।
বর্তমান কমিটিতে সভাপতি আলহাজ্ব এম সাইফ উল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী রয়েছেন। এছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন, কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি আসাদুজ্জামান, সহ সভাপতি ওয়ালী মাহমুদ খান, একেএম শহিদুল ইসলাম, খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন, গিয়াস উদ্দিন, মো: আশরাফুল আলম, আব্দুল হাকিম চৌধুরী, মো: মঞ্জুরুল ইসলাম, হাজী মোস্তফা কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচএম ইসহাক, ফরিদ আহম্মেদ লিটন, মোমেন শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, মাহবুব রহমান মাসুম, এমএ মান্নান, আইন বিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের রানা, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ইউনুছ দেওয়ান, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান প্রধান, ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক এমএ সাত্তার, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবজাল উন নুর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল হক খোকন।
বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব আলম মাসুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিষয়ক সম্পাদক সফিউল্লাহ সফি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাছিমা আক্তার বিউটি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রমিজ উদ্দিন ঢালী, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন কবির রতন, শ্রম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বেপারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও জন সংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা চৌধুরী, সহ দপ্তর সম্পাদক রাজিব হোসেন মিঠু, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেহান শরীফ বিন্দু, কোষাধ্যক্ষ মো: জাকির হোসেন মেম্বার।
কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন, আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক, শাহ আলম গাজী টেনু, আব্দুল মোতালেব মোল্লা, মমিন মাদবর, মানিক চান, দুলাল হোসেন, আইয়ুব আলী, এমএসাত্তার, লুৎফর রহমান স্বপন, আজগর আলী, ইদ্রিস আলী, সিদ্দিকুর রহমান, আবুল হোসেন প্রধান, বাবুলমিয়া, আলমগীর হোসেন, সালা উদ্দিন আহম্মেদ, রঞ্জিত মন্ডল, মোস্তফা কন্ট্রাকটার, আব্দুল কাদির ব্যাংকার, জাহাঙ্গীর হোসেন, মিছিল আলী, মজিবুর রহমান, মোবারক, বাদশা মিয়া, রেহান শরীফ, মেহেদী হাসান রবিন, আতাউর রহমান নান্নু, সালাউদ্দিন ভুইয়া, আলা উদ্দিন হাওলাদার, জসিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক মেম্বার), শাহীন আলম, আল মামুন মিন্টু।
বর্তমান কমিটির মেয়াদ ও ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি প্রসঙ্গে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী বলেন, গত ডিসেম্বর থানা আওয়ামীলীগের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে দলীয় সভায় আলোচনা করা হবে। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিগুলো যাচাই বাছাই করেই করা হচ্ছে বলে জানান।
এস.এ/জেসি


