বিজয়ের মাসে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছে বিএনপি। চুরান্ত বিজয়ে আগ পর্যন্ত তারা মাঠ না ছাড়ার ঘোষনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শরু করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এই বছরের শুরুতে একের পর এক কর্মসূচিতে তৃনমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের চাঙ্গা করে তোলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি। বছরের শুরুতে মাঝা মাঝি পর্যন্ত জেলা মহানগর বিএনপি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সভা সমাবেশ করেছে। একই সাথে এই সরকারের নানা দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করেছে।
আর এই সকল কর্মসূচিতে নেতা কর্মীরা অংশ গ্রহন করে রাজনীতির মাঠে বিএনপি চাঙ্গা হয়েছে। সম্প্রতি মাস তিনেক আগে থেকে বিএনপি সারাদেশের বিভাগীয় শহরে মহা সমাবেশ করা মাধ্যমে নেতা কর্মীদের সক্রিয় করে তুলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ গোলাপবাগ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। যদিও এই সমাবেশ ঢাকার নয়াপল্টনের করতে চেয়েছেন। কিন্তু সকল নাটকীয়তার পর তা গোলাপবাগ মাঠে অনুমোদন পেয়ে সেখানে অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, ঢাকার ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি সবচেয়ে বেশি ভুমিকা পালন করেন। আর এজন্য জেলা বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যপক প্রশংসিত হন। কেননা ১০ ডিসেম্বরের আগে ৭ ডিসেম্বর থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঢাকায় অবস্থান করে মিছিল করতে থাকে। সর্বশেষ ঢাকার সমাবেশ গোলাপবাগ মাঠে অনুমোদন পাওয়ার পর ৩ ঘন্টার মাঝে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সেখানেও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ব্যপক ভূমিকা পালন রাখেন।
১০ ডিসেম্বর বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার সহ আওয়ামী লীগের পদত্যাগের দাবীতে ১০ দফা দাবী তুলে ধরেন। কিন্তু বিরোধী দলের এই দাবীতে পাত্তা দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন দল। এই ১০ দফা বাস্তবায়নের জন্য গত ১৩ ডিসেম্বর বিএনপি জেলা মহানগর শহরের কর্মসূচি ঘোষনা করেন। ওই কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা কয়েক হাজার কর্মীদের উপস্থিতি সমাগম মিলে। তারা সাইনবোর্ড এলাকায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকনের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল বের করেন। প্রশাসন বাধা দিয়ে তাদের ব্যপক সমাগম ঠেকাতে পারে নাই। একই দিনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিও শহরের হোসিয়ারি সমিতি থেকে মিছিল বের করেন।
জানা যায়, ১০ ডিসেম্বরের পরে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা করে ২৪ ডিসেম্বর আবার জেলা মহানগরে বিএনপি নেতাদের মুক্তি দাবী সহং ১০ দফ দাবী বাস্তবায়নের জন্য বিক্ষোভ মিছিল করেন। ওই দিন জেলা মহানগর বিএনপি যৌথ ভাবে মিলিত হয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন। ২২৪ ডিসেম্বরের মিছিলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এই মিছিলে বিশাল লোকের সমাগম হয়। সেই সাথে কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতারা জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রদান করেন। এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে ফেলার হুঙ্কার প্রদান করেন।
তবে এই মিছিলে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে তারা যখন মিছিল নিয়ে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে পৌছায় তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের মুখোমুখি হন। আর এতে করে তারা দ্রুত মিছিল শেষ করে মিছিল শেষ করেন। ওই মিছিলেও জেলা বিএনপির কয়েক হাজার নেতা কর্মীর সমাগত হয়। সেই সাথে অল্প দিন আগের কর্মসূচির ঘোষনায় বিএনপি নেতারা সরকারকে হটানোর জন্য আন্দোলনে ঝাপিয়ে পরেন। তাদের এই সরকারকে হটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে।
সর্বশেষ গতকাল ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশে জেলা মহানগর বিএনপি পৃথক ভাবে বিশাল বড় মিছিল নিয়ে যোগদান করে কয়েক হাজার লোকের সমাগম গটিয়ে ঢাকার কর্মসূচি সাফল্য মন্ডিত করেন। এই সমাবেশেও নেতা কর্মীরা ফুরফুরে মেঝাজে অংশ গ্রহন করে বিএনপির কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। এই সমাবেশ থেকে আগামী ১১ জানুয়ারি এবর যুগপৎ আন্দোলনের পর আগামী ১১ জানুয়ারিতে গণ অনশনের অবস্থানের কর্মসূচি ঘোষনা দিয়েছে বিএনপি। সেখানেও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ব্যপক ভুমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু বলেন, স্বৈরাচার সরকারকে মানুষ আর দেখতে চায় না। আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারে পতন ঘটবে। আর এজন্য এখন বিএনপি রাজপথে সক্রিয় হয়ে একের পর এক আন্দোলন করে যাচ্ছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন বলেন, কেন্দ্রীয় ঘোষিত একের পর এক কর্মসূচিতে বিএনপি নেতা কর্মীরা রাজপথে চাঙ্গা হয়েছে। সেই সাথে কর্মীরা এবার সরকারের পতন না দেখে ঘরে ফিরবে না। ঢাকার গতকালকের কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ১ নম্বারে রয়েছেন। যা কেন্দ্রীয় নেতারা ফোন করে আমাকে বলেছে।
আমাদের মিছিলে এখন বিএনপি নেতাদের পাশা পাশি জনগণও সম্পৃক্ত হচ্ছে। আমাদেরকে দেশ নায়ক তারেক রহমানের পক্ষ হতে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। আগামী দিনের কর্মসূচিতেও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ব্যপক ভাবে সক্রিয় ভাবে ভূমিকা পালন করে যাবে। আমাদের ১০ দফা দাবী বাস্তবায়ন হলে এই সরকার আর থাকতে পারবে না। এই ১০ দফা বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বাত্বক আন্দোলন করে যাবো।
বিএনপির আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। সেই দিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে সবার আগে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। কেননা ঢাকার সবচেয়ে নিকটতম জেলা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। তবে সচেন মহল মনে করেন বিএনপি যদি এই ভাবে একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে চাপে রাখে এক পর্যায়ে তাদের আন্দোলন সফল হবে। এছাড়া বিএনপির কর্মসূচিতে কর্মীরাও এখন ফুরফুরে আছে। তা ধরে রাখার জন্য তাদের এই ভাবে লাগাতার কর্মসূচিতে থাকতে হবে।
এস.এ/জেসি


