নতুন বছরে জনগণের দাবি আদায়ে জোড়ালো ভূমিকা রাখতে চায় বাম রাজনীতি
লিমন দেওয়ান
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪৫ পিএম
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের এক সময়ের পছন্দের রাজনীতির নাম ছিল বাম রাজনীতি। কারণ মানুষের সকল দুঃসময়ে পাশে থেকে সকল দাবি আদায়ে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তারা। কিন্তু ২০২২ সালে বাম রাজনীতি বিগত দিন থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।
কারণ তাদের নিজেদের মধ্যে ছিল নানা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। যার ফলে অনেক নেতা-কর্মীই তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু সামনে নতুন বছরে আবারও জেগে উঠতে প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন, বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাবৃন্দরা। সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের জানুয়ারী মাসে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সেই নির্বাচনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নৌকার মনোনয়ন পায়। সেই সময় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতা-কর্মীদের মেয়র আইভীর সাথে ভোটের প্রচার প্রচারণায় সহযোগীতা করতে দেখা গিয়েছে। বামগণতান্ত্রিক জোটের ন্যাপসহ বাম রাজনীতিতে যারা ছিল সকলেই তখন আইভীকে ভোটে বিজয়ী করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে।
শুধু মাত্র গণসংহতি আন্দোলনের সকল নেতা-কর্মী ছিলেন বিএনপির নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের সাথে যুগপৎভাবে। তারপর থেকেই গণসংহতি আন্দোলন পুরোদমে বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে গণসংহতি আন্দোলন গণতন্ত্রমঞ্চের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে বিএনপির সাথে যুগপুৎভাবে আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।
কিন্তু এখন পর্যন্ত যুগপৎভাবে তাদেরকে কোন আন্দোলন সংগ্রাম করতে দেখা যায়নি। অপর দিকে চলতি বছরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আন্দোলন সংগ্রাম বিগত দিন থেকে অনেকটাই কমে গিয়েছে। অপর দিকে তাদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা সংকটের কারণে তাদের আরো বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
কিন্তু নতুন বছরে নিজেদের রাজনীতি আরো শক্তিশালী করতে চান বাম রাজনীতিবীদরা। তাদের ধারণা তারা অতি শীঘ্রই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে আলাদা একটি বিকল্প শক্তি প্রয়োগ করবে রাজপথে।
এ বিষয়ে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, “বর্তমানে যে ভোটারবিহীন সরকার এবং অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। আর আমরা বাম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নিয়েছি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেরুকরণের মাঝে আমরা একটি বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে চাই।
আগামীতে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে যাতে একটি তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে সাধারন মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয় সে লক্ষে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি দেশের শ্রমজীবী মানুষ যাতে ন্যায্য মজুরী পায় এবং তাদের সকল মৌলিক দাবি নিশ্চিত হয় সেজন্য আমরা সর্বদা সচেষ্ট।”
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বাম গণতান্ত্রিক জোটের আহ্বায়ক নিখিল দাস যুগের চিন্তাকে বলেন, “আমরা চলতি বছরে নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সকল আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা পালন করেছি। আর আমরা অন্য দলের মতো না পারলে ও নিজেদের যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে; সেটুকু দিয়েই আমরা চেষ্টা করেছি আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবার।
আর সামনে ২০২৩ সাল থেকে নতুন আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচি আসছে, সে অনুযায়ী আমরা রাজপথে থাকবো। আমরা চাই আগামীতে আমাদের দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হোক। বিরোধী মতামতের অধিকার চাই, যাতে সকল মতের স্বাধীনতা থাকে। আমরা চাই বিগত দিনের চেয়ে নতুন বছরে আন্দোলন সংগ্রাম আরো অনেকটাই বৃদ্ধি করতে। কারণ আমাদের দাবি এ স্বৈরাচারী সরকারের পতন; আর তাদের পতন অনিবার্য।”
এ বিষয়ে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জের সমন্বয়ক তরিকুল সুজন যুগের চিন্তাকে বলেন, “আজকের দিনে গত ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী সরকারের ভোট ডাকাতির দিন ছিল। আর এ ভোট ডাকিতির আজ চার বছর পূর্ণ হলো। আর আমরা এ তারিখকে কালো দিবস বলে থাকি। আর এ কালো দিবস এখন পুরো বছরই চলবে।
বাংলাদেশে এখন যে ফ্যাসিবাদি সরকারের অধীনে রয়েছে; তারা সাধারন মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। আর এখন অপনারা অবগত আছেন বাংলাদেশে ভোট অধিকার একবারেই শূণ্যেস্থানে চলে এসেছে। তাই আমরা ২০২৩ সালে গণসংহতি আন্দোলন; জনগণের ভোট অধিকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করবো। আমাদের দলীয় কার্যক্রম সে লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
আগামী ১১ জানুয়ারী জেলায় জেলায় গণমিছিল কর্মসূচি রয়েছে। সেই কর্মসূচিকে সফল করার জন্য আমাদের সাথে জোট ও যে সমমনা দলগুলো রয়েছে তাদের সাথে আলোচনায় বসবো। ইতিমধ্যে গণসংহতি আন্দোলন বর্তমান সংকট নিরসনের জন্য ৭ দফা আন্দোলনের প্রস্তাব করেছে।
এই ৭ দফা নিয়েই আমরা জানুয়ারীতে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সকল মানুষের সাথে গোলটেবিল বৈঠক হবে। আর ফেব্রুয়ারীতে আমরা আমাদের দলের জেলা সম্মেলন করবো। কিন্তু একটা কথা সকলেরই মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে ২০২৩ সাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আর আমাদের দল গণতন্ত্র মঞ্চ ইতিমধ্যে বিএনপির সাথে যুগপুৎভাবে আন্দোলন সংগ্রামে যাচ্ছে। আর আগামী দিনে আমরা আরো শক্তিশালী হয়ে মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল আন্দোলন সংগ্রাম প্রতিষ্ঠা করবো।” এন.এইচ/জেসি


