দীর্ঘ ১৯ বছর পর মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:৫৭ পিএম
# এখানে আমরা নৌকার প্রার্থী চাই : ভিপি বাদল
অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে অনুষ্ঠিত হলো বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন। আর এরই মধ্য দিয়ে শুরু হলো বন্দর উপজেলায় অবস্থিত পাঁচটি ইউনিয়ন এর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া। এর আগে ২০০৩ সালে সর্বশেষ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে বন্দরের ইউনিয়নগুলোর সম্মেলন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কাউন্সিলর তালিকা নিয়ে কিছু অভিযোগ ওঠায় তা সংশোধনের মাধ্যমে পরবর্তীতে করা হবে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে জানানো হয়।
সম্মেলনে সভাপতি পদে সদ্য সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান পুনরায় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ভেন্ডার (প্রয়াত) এর ছেলে আবুল হাসনাত জনি। গতকাল শনিবার বিকেলে মুসাপুরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল)।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে মোট ২২৬ জন কাউন্সিলর। সভাপতি পদে নির্বাচিত প্রার্থী মজিবুর রহমান ১৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল কাদির পান ৪০ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল হাসনাত জনি ৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল ইসলাম পান ৫৩ ভোট। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী আবদুল কাদির ডিলারের ছেলে মেজবাহউদ্দিন মিলন পান ২৩ ভোট এবং সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন পান ১৮ ভোট।
সভাপতি পদে দুই জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে চার জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় গোপন ব্যালটে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ প্রত্যেক প্রার্থী ও তাদের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের ডাকেন।
তাদেরকে বসে আলোচনার মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা যায় কি না তার জন্য তাদের কিছু সময় নিতে বলেন। কিন্তু প্রত্যেকে তাদের সিদ্ধান্তে অটুট থাকায় সেই প্রচেষ্টা আর সফল হয়নি। সে সময় উপস্থিত সকল নেতা কর্মীগণও নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্ধারণ করার আওয়াজ তুলতে শুরু করেন। যার ফলে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের প্রথম পর্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এই আসন থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী চান বলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জোর দাবি জানান এবং এখানকার আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তারা এই আসন থেকে আর কোন জাতীয় পার্টির প্রার্থী চান না বলে মিছিল শ্লোগান দিতে থাকেন।
তাদের দাবির সাথে তাল মিলিয়ে প্রধান অতিথি আবদুল হাই ও প্রধান বক্তা ভিপি বাদলও বলেন, আমরাও চাই এখান থেকে এবার জাতীয় পার্টি না আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। দলীয় সর্বোচ্চ ফোরামে বিষয়টি জানিয়েছি। আবারও আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিষয়টির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করব।
এখানে জাতীয় পার্টির কতগুলো ভোট আছে উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে জানতে চেয়ে আবদুল হাই বলেন, বন্দর ও সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের উপর ভর করে নির্বাচিত হয়। আমরা এবার দলীয় নীতিনির্ধারকদের বলবো এবারও যদি জাতীয় পার্টির সাথে জোটগতভাবে নির্বাচন করা হয় তাহলে তারা যেন এই দুটি আসন জাতীয় পার্টিকে না দিয়ে রংপুর বা অন্য কোথাও দেয়। কিন্তু এবার নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই আমরা নৌকার প্রার্থী চাই।
সভাপতির বক্তব্যে মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি (এবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি) মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের দলের কিছু বেইমানের কারণে বিভিন্ন সময় নির্যাতিত হয়েছি।
আওয়ামী লীগের মতো শক্তিশালী দলের এত নেতা কর্মী থাকতেও এখানে রাজাকারের বংশধরেরা রাজত্য করে। আমার বাড়িতে আওয়ামী লীগের নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করার সাহস পায়। আমরা আগামীতে এখানে যেকোন অবস্থায়ই আওয়ামী লীগের প্রার্থী চাই।
অন্যান্য ইউনিয়নের আসন্ন সম্মেলনসহ মুসাপুরের এই সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর যাবত বন্দর উপজেলায় অবস্থিত পাঁচটি ইউনিয়নে কাউন্সিল হয় না। এত বছর যাবত কাউন্সিল না হওয়ায় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দ মতো নেতা নির্বাচিত করতে না পারায় দলীয় কার্যক্রম অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছিল।
তাই আমাদের বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করার পর যখন এমএ রশিদ সভাপতি এবং আমি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই তখন থেকেই আমাদের ইচ্ছে ছিল তৃণমূলের চাহিদার সম্মান জানানোর। তাই যখন ইউনিয়নগুলোর কাউন্সিলের বিষয়টি সামনে আসে তখন আমি সভাপতির সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি।
আমি প্রথম থেকেই বলে এসেছি যদি কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকে তাহলেতো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যদি একাধিক প্রার্থী থাকে তাহলে সেখানে আমরা কোন হস্তক্ষেপ করবো না। সেখানে গোপন ব্যালটে নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সভাপতি এবং সম্পাদক নির্বাচন করব।
আজ মুসাপুর ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন দিয়ে তার শুরু হলো এবং আমরা নেতাকর্মীদের চাহিদা মতো কোন প্রশ্নবিদ্ধ ছাড়াই গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এখানকার সভাপতি এবং সম্পাদক নির্বাচিত করতে পেরেছি। এন.এইচ/জেসি


