বিদায়ী বছরেও সুরাহা হলো না ছাত্র রাজনীতির
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:৫৬ পিএম
বিদায় বছরে দেশের রাজনীতি অনেকটাই উত্তপ্ত ছিল। বিদায় বছরে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বেশিরভাগ সময় রাজপথে নানা কর্মসূচি পালন করেছে এবং মাঠ পুরোপুরি গরম রাখতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতির বড় মূল দুই দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি এই দুই দলেরই সব চাইতে সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছাত্র সংগঠন। অতীতে এ ছাত্র সংগঠনগুলো সকল পর্যায়ে মাঠে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। কিন্তু এখন নারায়ণগঞ্জের ছাত্র সংগঠনগুলো অনেকটাই ছন্নছাড়া অবস্থায় পরে রয়েছে। তার ফলে তারা আর আগের মতো সহাযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করতে পারছে না।
ইতি মধ্যে এই দুই দলের দুই সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ দুটোই এখন বিলুপ্ত অবস্থায় পরে রয়েছে। সংগঠনের নেতৃত্ব কোন দায়িত্ববানের হাতে না থাকার কারণে সংগঠনে সৃষ্টি হচ্ছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব যার ফলে দলের নাম খারাপ হচ্ছে। চলতি বছর পেরিয়ে গেল কিন্তু কোন সুরাহ হলো না। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্র সংগঠনগুলো নিয়ে অনেকটাই চিন্তিত হয়ে পরেছে তৃণমূল। তাদের ধারনা নতুন বছরে যদি নতুন করে ছাত্র সংগঠন আবার প্রতিষ্ঠা না করা হয় তাহলে আগামী দিনে সহযোগী সংগঠন থেকে পিছিয়ে পরবে সংগঠনগুলো।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ২০১৮ সালের ১০ মে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আজিজ ও সদস্য সচিব আশরাফুল ইসমাইল রাফেলকে দিয়ে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয় পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই জেলা ছাত্রলীগে আজিজকে সভাপতি ও রাফেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৮৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। আর ২০১৫ সালে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়।
যে কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও যুগ্ম, আহ্বায়ক ছিলেন হাসনাত রহমান বিন্দু। পরবর্তীতে দীর্ঘ তিন বছর পর ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীক কমিটি কর্তকৃ রিয়াদকে সভাপতি ও বিন্দুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৬১ বিশিষ্ট মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। নবাগত কমিটি গঠন হওয়ার পর থেকে কোন দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেননি এ ছাত্রলীগ। অপর দিকে বিদায় বছরের প্রথম দিকেই নারায়ণগঞ্জে শুরু হয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সেই নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে মহানগর ছাত্রলীগ প্রচার প্রচারনায় বাহির হয় না।
এক কথায় তারা তখন মেয়র আইভী দলীয় হলে ও তাকে সমর্থন করেননি যার কারণে রাজনৈতিক অঙ্গণে একটি বিতর্কের সৃষ্টি করে। এ অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগকে মেয়াদউত্তীর্ণ ইস্যু দেখিয়ে ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা দেন। কিন্তু বছরের শেষ প্রান্তে এসে ও নবাগত কমিটি দিতে ব্যর্থ হন দলের নেতৃবৃন্দরা। অপর দিকে দেশের আরেকটি বড় দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদল ২০১৮ সালের ৫ জুন মশিউর রহমান রনিকে সভাপতি ও খাইরুল ইসলাম সজিবকে সাধারন সম্পাদক করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ আরিফুর রহমান মানিককে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও খাইরুল ইসলাম সজিবকে সাধারন সম্পাদক করে জেলা ছাত্রদলের ৫৯২ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। অপর দিকে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক কমিটি ২০১৮ সালের ৫ জুন শাহেদ আহম্মেদকে সভাপতি ও মমিনুর রহমান বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। পরবর্তীতে এ কমিটি দীর্ঘদিন মেয়াদ উত্তীর্ণ অবস্থায় পরে থাকে যার কারণে কোন আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে না। তার কারণে ১৫ নভেম্বর কমিটিকে বিলপ্ত ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি শ্রাবন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল।
কিন্তু মাস গড়িয়ে বছর এখন শেষ প্রান্তে চলে এসেছে কিন্তু কোনভাবেই ছাত্রদলের নবাগত কমিটি গঠন করা হয়নি। এখন বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের সময় তারা সরকার পতনের আন্দোলনে দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের বিগত দিনে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপিকে অনেকটা সহযোগীতা করেছেন ছাত্রদল। কিন্তু ইতিমধ্যে তাদের এ ছন্নছাড়া অবস্থায় থাকার কারণে তাদের মধ্যে ও একটা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হচ্ছে এবং সবাই এখন সবাইকে নেতা ভাবছে যার ফলে তাদের সংগঠনের অনেকটাই সমস্যা হচ্ছে। তারা এখন বিগত দিনের মতো এখন আর ছাত্রদলের মিছিল শহরে দেখা মিলে না।
অপরদিকে ছাত্রদলের নবাগত কমিটিতে আসতে চাওয়া পদ প্রত্যাশীরা তাদের লবিং নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছে। অপর দিকে আগামী কাল নতুন বছরের প্রথম দিনেই ছাত্রদলের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুষ্ঠানে ও তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে একত্রিত হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। তারা যার যার সামর্থ মত আলাদা আলাদাভাবে মিছিল নিয়ে ঢাকায় উপস্থিত হতে হবে। সেখানে একটি বিশৃঙ্খলার দেখা যেতে পারে। যার ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ধারনা অতি শিগ্রই যদি ছাত্রদলের নবাগত কমিটি গঠন হয়ে যায় তাহলে নিশ্চই দল আরো শক্তিশালী হবে আর সকল কার্যক্রমে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারবে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান যুগের চিন্তাকে বলেন, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন হবে কিনা এটা কেন্দ্র জানে আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ১৫ নভেম্বর ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করেন কেন্দ্র। কারণ তারা অতি শিগ্রই কমিটি গঠন করার জন্যই এ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। আমরা আশা করছি নতুন বছরেই ছাত্রদলের নতুন কমিটি চলে আসবে এবং যোগ্য নেতৃত্ব দ্বারাই কমিটি গঠন হবে।
এস.এ/জেসি


