Logo
Logo
×

রাজনীতি

বন্দরে লাঙ্গল প্রার্থীতে আ’লীগের ক্ষোভ  

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫৯ পিএম

বন্দরে লাঙ্গল প্রার্থীতে আ’লীগের ক্ষোভ  
Swapno

 

# লাঙ্গলের প্রার্থী রংপুরে নিয়ে দেন : উপস্থিত নেতাকর্মী
# কিছু কুলাঙ্গার লাঙ্গল কাঁধে নিয়ে নৌকা করে : মুজিবর

 

যদিও আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে বিভিন্ন মহল থেকে জানা গেছে তবে চলতি বছরই যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই আওয়ামী লীগ যদি জাতীয় পার্টির সাথে জোটগতভাবে জাতীয় নির্বাচন করতেও চায় তাহলে নারায়ণগঞ্জের কোন আসন থেকে যেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেওয়া না হয়। বিশেষ করে বন্দর থেকে যেন কোন প্রার্থী দেওয়া না হয় তার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন বন্দর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ।

 

গত ৩১ ডিসেম্বর বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়নের সম্মেলন উপস্থিত হওয়া বন্দরের বিভিন্ন এলাকার নেতৃবৃন্দ এমন দাবি জানান। সেখানে উপস্থিত থাকা নেতাকর্মীরা বন্দরে জাতীয় প্রার্থী দেওয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের মতে লাঙ্গলের ভারে আওয়ামী লীগ কর্মীদের কাধে ঘা হয়ে গেছে। লাঙ্গলের কারণে এখানকার আওয়ামী লীগ অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দিতেছে। তারা বলেন, এখানে লাঙ্গলের ভোট ১০ হাজারের বেশি হবে না। আবারও কেউ বলেন, পুরো বন্দরে লাঙ্গল ১৮ হাজার ভোট পায়। এখানে পুরো পাঁচটি আসনেই নৌকার প্রার্থী চাই। লাঙ্গলের প্রার্থী রংপুরে নিয়ে দেন।

 

এর আগেও বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বিভাগ থেকে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসন থেকেই নৌকার প্রার্থী দাবি উঠে। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকায় গত ইউপি নির্বাচনে বন্দরের পাঁচটির মধ্যে মাত্র একটিতে নৌকা বিজয় লাভ করে। বাকি চারটি দখলে নেয় জাতীয় পার্টি। এছাড়াও এখানকার প্রশাসনিক কাজসহ সকল রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ ভক্তদের কোন পাত্তা না দিয়ে তারাই মাঠ দখল করে নেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্যাতিত হন আওয়ামী লীগে সমর্থকগণ। আর এতে আওয়ামী লীগেরই কিছু নেতা তাদের স্বার্থের জন্য জাতীয় পার্টির হয়ে দেশবিরোধী শক্তির হয়ে কাজ করছে বলেও অভিযোগ আসে বিভিন্ন সময়। তবে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ। এর আগে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ব্যাতীত অন্যকোন ইউনিয়ন থেকে এমন সরাসরি প্রতিবাদ না আসলেও এবার তারাও মুখ খুলেছেন।

 

zএ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি (এবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন) মজিবুর রহমান বলেন, আমাদের মুসাপুর ইউনিয়নে এখন রাজাকারের পুত্র নেতা হয়েছে। আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে, লুটপাট চালিয়েছে। আজকে মুসাপুর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যবসা করার জন্য লাইসেন্স (ট্রেড লাইসেন্স) পায় না, জন্ম নিবন্ধন পায় না, তাদের সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করতে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। এই জন্যই কি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন? এই জন্যই ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছে, এর জন্যই কি ২ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন? আজকে সেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এখানে আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন আমি সভাপতির পদ চাই না, এমন একজন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন, যার মাধ্যমে মুসাপুরের মাটি কলঙ্কমুক্ত হয় এবং আওয়ামী লীগের সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করার জন্য তিনবার নির্বাচন করে সর্বস্ব হারিয়েছি। আজকে আমাদের এখানে কিছু কুলাঙ্গার আছে, যারা বিএনপি জামায়াতের সাথে একত্রিত হয়ে সেই লাঙ্গলের সাথে গিয়ে আওয়ামী লীগ করে।

 

জনগণের দাবির প্রতি আস্থা রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, ২০১৮ সালে কাঁচপুরের একটি জনসভার প্রধান অতিথি বেগম মতিয়া চৌধুরী কাছে আমিই প্রথম দাবি করেছিলাম নারায়ণগঞ্জের দুইটি আসনে লাঙ্গল আছে, আমরা পাঁচটি আসনেই নৌকা চাই। আমরা লাঙ্গল চাই না। তবে গত নির্বাচনে হয়তো কৌশলগত কারণে লাঙ্গল দেওয়া হয়। তবে এবার আমরা জোরালো দাবি করব নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই যেন নৌকার প্রার্থী দেওয়া হয়।

 

ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য গ্যারান্টার লাগে আমরাও তেমন গ্যারান্টার হবো যাতে পাঁচটি আসনেই নৌকা বিজয় লাভ করে। লাঙ্গলের বোঝা আর আমরা বইতে চাই না, আমাদের সংগঠন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহর বন্দরসহ পুরো নারায়ণগঞ্জই এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কারণ এখানে নৌকার ভোটই লাঙ্গলের ভোট। তাই নির্বাচনী জোট কিংবা কৌশল থাকলে আপনারা তাদেরকে বাগেরহাট, খুলনা কিংবা রাজশাহীতে দেন আমাদের কোন আপত্তি নাই।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন