Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও সরব

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:৪১ পিএম

বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও সরব
Swapno

 

শুরু হয়ে গেল বিএনপির কঠোর আন্দোলন এবং নির্বাচনের বছর। যার ফলে একপ্রকার অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিএনপি। এছাড়া আন্দোলনে সফলতা ছাড়া কিছুই দেখছে না বিএনপি। যার কারণে নতুন বছরে আন্দোলনে চূড়ান্ত বিজয়ের পরিকল্পনা নিয়ে চুলচেড়া ছক কষা হচ্ছে। কারণ এবারের আন্দোলনে ব্যর্থ হলে কঠোর মাশুল দিতে হবে বিএনপিকে। সে লক্ষ্যে  নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও রাজপথে থেকে বিএনপির শক্তির জানান দিতে সহায়াতা করছে।

 

নারায়ণগঞ্জে গেল বছর যোগ্য নেতৃত্বকে বাছাই করে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির শক্তিশালী করে কমিটি গঠন করা হয়। যে কারণে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা  ঐক্যবদ্ধ এবং উজ্জীবিত হয়ে মাঠে নামছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাবেক এমপি এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে  বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশারীও মাঠে সরব ভূমিকায় রয়েছে। সূত্র বলছে, ২০২২ সালের আগষ্ট মাস থেকে কেন্দ্রীয় ঘোষণা মোতাবেক ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলনে মাঠে নামেন। এরপর থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপি কঠোরভাবে আন্দোলন মুখি হয়ে পড়ে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরও রাজপথে থাকার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএরপির সাথে সাবেক এমপি থেকে শুরু করে বর্তমান মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ধীরে ধীরে রাজপথে সরব হতে থাকে।

 

পাশাপাশি জেলা এবং মহানগর বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে পূর্বের চেয়ে শক্তিশালী করা লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। সে লক্ষ্যে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এড. সাখাওয়াত হোসন খানকে আহবায়ক এবং এড. আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপুকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। জেলা বিএনপির কমিটিতে নারায়ণগঞ্জের-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন আহবায়ক এবং গোলাম ফারুক খোকনকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকেই বিএনপির দলীয় কর্মসূচীতে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা  ঐক্যবদ্ধ এবং উজ্জীবিত হয়ে মাঠে নামতে শুরু করে।

 

পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এবং সাবেক সাংসদরা মাঠে নামতে থাকে। কারণ নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী মনির দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে নিশক্রিয় ছিল। হঠাৎ আচমকা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঠে থাকার নির্দেশনা আশার পর থেকেই কাজী মনিরকে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। কাজী মনির সক্রিয় হলেও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিরোধীদের সাথে রাজনীতি করছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু সর্বদাই দলের আন্দোলন সংগ্রামে বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচীগুলোতে অংশগ্রহণ করছেন।

 

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের তিনবারের সাংসদ আতাউর রহমান আঙ্গুর আড়াইহাজারে বিএনপির রাজনীতিতে সরব হয়েছে। সে তার মতো করে আড়াইহাজারের কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচীগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তবে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। বিগত সময়ে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকলেও বর্তমান জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটি হওয়ার পর থেকেই হঠাৎ নিশক্রিয় হয়ে পড়ে। কারণ বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি তার নিয়ন্ত্রণে ছিল অনেকটা কিন্তু নবগঠিত কমিটি হওয়ার পর জেলা বিএনপির নিয়ন্ত্রণ তার হাতছানি হয়ে যাওয়ায় বর্তমান জেলা বিএনপির কর্মসূচীগুলোতে অনেকটা নিশক্রিয় হয়ে পড়ে।

 

তবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলোতে ঢাকায় সে তার মতো করে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পূর্বের মতই দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকলেও সোনারগাঁ থানা বিএনপির কমিটি নিয়ে বিতর্ক তার পিছু ছাড়ছে। তবে এবার নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ রেজাউল করিম আবার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন। কারণ বিএনপির ধারাবাহিক কর্মসূচী ঘোষণার পর রেজাউল করিমকেও কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়াহিত বিন ইমতিয়াজ বকুল নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে যাচ্ছেন।

 

কারণ বর্তমান সময়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলোতে সোনারগাঁ থানা বিএনপির পক্ষে ব্যাপক সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিনকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক করার পর চলমান আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যেই দলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। যার ফলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিএনপির শক্তিশালী হতে পারেন আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন। তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে চাচ্ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ। বিগত সময়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক সক্রিয় থাকলেও নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক পদ পাওয়ার থেকেই জেলা বিএনপির রাজনীতি এবং দলীয় কর্মসূচী থেকে হারিয়ে যান। তবে মাঝে মধ্যে জেলা বিএনপির আলাদা ব্যানারে দলীয় কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে সক্রিয়তার জানান দিচ্ছে।

 

এতে প্রতিয়মান হয় যে, বিএনপির কঠোর আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির সাথে পূরোদমে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি আসনের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও মাঠে থাকছে। যার ফলে আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির জয়ের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি অত্যান্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন