শুরু হয়ে গেছে বিএনপির কঠোর আন্দোলন এবং নির্বাচনের বছর। আর এই কঠোর আন্দোলন মোকাবিলায় অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিএনপি। এই আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপি সফলতা ছাড়া কিছুই দেখছে না। তবে এই সফলতা ব্যত্যয় ঘটার বর্তমানে উপক্রম হতে চলছে। কারণ এখনো নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির ১১৮ জন নেতাকর্মী কারাবন্দী রয়েছে তাদেরকে জামিনে মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত পাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলা আসামী হয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মূলধারার নেতাকর্মীদেরও আগাম জামিন এবং হাজিরা দিতে আদালত পাড়ায় ব্যস্ত সময় পাড় করতে হচ্ছে। এতে করে বিএনপির সিনিয়র আইনজীবীরাও নেতাকর্মীদের জামিনে মুক্ত করতে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। এভাবে হামলা মামলা জামিনে মুক্তির বেড়াজালে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকলে পুরো বছরই এভাবে অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার উপক্রম তৈরী হয়েছে। যার কারণে নতুন বছরে আন্দোলন সংগ্রাম এবং চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে পৌছাতে অন্যতম বাঁধা হিসেবে কাজ করবে।
সূত্র বলছে, গত বছরের শেষ দিক থেকেই বিএনপি কঠোর আন্দোলন সংগ্রামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির গণসমাবেশের কর্মসূচী ঘিরে সারাদেশ ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। আর এই ১০ ডিসেম্বরের আগে নাশকতা বা বিষ্ফোরক আইনের মামলার আসামী হন নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির কয়েকশত নেতাকর্মী। আসামী হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির কয়েকশত নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। তবে এখনো নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির ১১৮ জন নেতাকর্মীসহ এর মধ্যে বিএনপির বেশকিছু শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার রয়েছে। আর এসব নেতাকর্মীদের জামিনে মুক্ত করতে বিএনপির সিনিয়র আইনজীবী থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের আদালত পড়ায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতে হচ্ছে। এতে করে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে ব্যত্যয় ঘটার মত একটি উপক্রম তৈরী হয়েছে।
কারণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী বছর। আর এই বছরই বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। পাশাপাশি এই আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপি সফলতা ছাড়া কিছুই দেখছে না। তবে এভাবেই যদি সারাবছর নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হন এবং জামিনে মুক্তি লাভে সারাবছরই আদালত পাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। এতে করে চূড়ান্ত আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপি শক্তি যোগাতে ব্যত্যয় ঘটতে পারে। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করছে যেকোন আন্দোলন সংগ্রামকে সফল করতে বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে। কারণ বর্তমান বিএনপির নেতৃত্ব এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে। বিএনপির এক ধাপের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হলে আরেক ধাপের বিএনপির নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব দিবে। বিএনপির অগ্রভাগের নেতারাও যদি গ্রেপ্তার হয়ে যায় কর্মীরা বিএনপিকে নেতৃত্ব দিবে এমনটাই দাবি করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারা। তবে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায়ই নয় নেতাকর্মীদের জামিনের জন্য হাইকোর্ট পর্যন্ত তাদের দারস্ত হতে হচ্ছে। কিন্তু তারা দাবি করছে শীঘ্রই আইনি ভাবে মোকাবিলা করে কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্ত করবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, এই সরকার আমার দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা মামলা নির্যাতন করতেছে। গত ডিসেম্বরে আমাদের নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির কয়েকশত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে এখনো ১১৮ জন কারাবন্দী রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে আমরা জামিন পাচ্ছি না তারপরও আমরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের জামিনে মুক্ত করতে চেষ্টা করছি। তারপরও আমাদের আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের তেমন কোন অসুবিধা হচ্ছে না কারণ যখনই আমাদের দল থেকে আন্দোলন সংগ্রামে ডাক আসছে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম সফল করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং আমাদের নেতাকর্মীরা সবসময় প্রস্তুত।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন বলেন, আসলে আমাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতৃত্বকে এমনভাবেই দেশ নায়ক তারেক রহমান তৈরী করেছে। আমাদের কয়েকটা ধাপে ধাপে আন্দোলন সংগ্রামকে সফল করতে নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। একটা ধাপকে দাবায় রাখতে হলে এর পরের ধাপ নেতৃত্ব দিবে এইভাবে যদি ধারাবাহিকভাবে সব নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হয়ে যাবে। তারপর কর্মীরাই বিএনপিকে নেতৃত্ব দিবে। বিএনপি এভাবেই চলবে এতে করে এই সরকার গ্রেফতার হুমকি ধামকি হত্যা এগুলো করে কোনভাবেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোভাব নষ্ট করতে পারবে না। এতে আন্দোলন সংগ্রামে কোন রকম প্রভাব পড়বে না। আর এসব কর্মকান্ডের ফলে আরো বেশী শক্তিশালী হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এইচ মামুন বলেন, এভাবে চলতে থাকলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবেই গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের পরিবারের তাদের মানবতর জীবন যাপন করতে হবে। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। পাশাপাশি আমাদের যে নেতাকর্মী আছে পুরো নারায়ণগঞ্জে এক সেট গ্রেপ্তার হলে আরেক সেট নেতৃত্ব দিবে এই সক্ষমতা আছে বিএনপির। এটা কোন বিষয় নয় বড় বিষয় হল গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের পরিবার কষ্টে আছে। সরকার যে দমন নিপীড়ন শুরু করেছে এই দমন নিপীড়ন আর কত দিন সবকিছুরই একটা শেষ আছে।
এস.এ/জেসি


