সোনারগাঁয়ের গ্রুপিং রাজনীতির বাইরে নতুন মুখ দীপ
যুগের চিন্তা রিপোর্র্ট
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৫৮ এএম
সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পর্যলোচনা করলেই গ্রুপিং বিভেদ যত সব বিতর্কিত রাজনীতির প্রতিচ্ছবি উঠে আসে। দলীয় হাইকমান্ড থেকে এই বিরোধ গ্রুপিং এর রাজনীতি নিরসণ করে সোনারগাঁয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হলেও সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগে আন্তঃকোন্দল বরাবরের মত আবারও প্রকাশিত হচ্ছে। এতে করে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের স্বচ্ছ রাজনীতি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা এই গ্রুপিং বিরোধের রাজনীতি দুরে থেকে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগে স্বচ্ছ রাজনীতি ফিরাতে অবিচল কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনী বছর চলে এসেছে এর মধ্যে আবারও সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগে প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মধ্যে কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে বহু চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম সোনারগাঁয়ের নেতাদের পূর্বের কর্মকান্ড নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। মির্জা আযম সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের বক্তব্যে বলেন, আপনারা সোনারগাঁয়ের নেতারা নৌকার মনোনয়ন মনোনয়ন করেন আমরা প্রার্থী দিলাম আপনারা দ্বিধা বিভক্তি হয়ে নৌকা ডুবানোর নজির স্থাপন করেন। আবার নৌকা দিবো আপনার নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ করে নৌকা ডুবাবেন তার চাইতে সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টিই ভালো। এই বক্তব্যের পর স্পষ্ট হয়ে যায় আওয়ামীলীগ নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কেন্দ্রীয় নেতারাও হতাশ। সেই হতাশা থেকে আওয়ামীলীগ থেকে জাতীয়পার্টিকে সোনারগাঁয়ের জন্য পারফেক্ট বলে মনে করছেন। তবে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগে আবারও মির্জা আযমের বক্তব্য স্পষ্ট রূপ নিচ্ছে। কারণ সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন কমিটিগুলো কর্মী সভাগুলোতে আবার নিজেদের ভেদাভেদের চিত্র প্রকাশ্যে রূপ দিয়েছে। কারণ সাদিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কর্মী সম্মেলনে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কালাম একটি বক্তব্য রাখেন যে ‘সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগ বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় সোনারগাঁ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় না। সোনারগাঁয়ে বাইরের একটি ছাঁয়া আছে এই ছাঁয়া যেদিকে পড়ে সেইদিকেই সবকিছু থাকে আর না হয় কিছু থাকে না।’ বক্তব্যে কালাম এই লাইনটি শেষ করার সাথে সাথেই সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসু ‘কেন’ বলে প্রতিক্রিয়া জানায় তখন কালাম সামসুকে উদ্দেশ্য করে কালাম বলেন আরে সামসু ভাই কেন কেন কইরেন না আমরা সব বুঝি। এছাড়া তিনি আরও মন্তব্য করেন সোনারগাঁ আওয়ামীলীগে রাজাকারের নাতি পুতিরা এখন কলকাঠি নারেন।
এই বক্তব্যের পর আবারও সোনারগাঁয়ের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে কালামের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূইয়া এক গণমাধ্যমে বলেন, তার কোন কুল নাই দলের কোন পদে নেই বহিষ্কার হয়েছে। তার এসব বক্তব্য দেয়া ঠিক হয় নাই। আমরা কত সুন্দর করে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন করেছি সে সম্মেলনে কালামের লোকজন আমার সমর্থক বিরুর সমর্থক দিপুর সমর্থকদের মারছে আরে তারা দলকে ভালবেসে সম্মেলনে আসতেই পারে এরা বঙ্গবন্ধুর অনুসারী এই জন্য মাইর দিবে। কালামের এই বক্তব্যের পর সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুমের অনুসারীরাও সামাজিত যোগাযোগ মাধ্যমে কালামকে ইঙ্গিত করে এই বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানায়। তবে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি কায়সার এসকল ঘটনার পর সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানিয়ে নীরব ভূমিকায় রয়েছেন।
তবে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের কমিটির বাইরে থেকেও কোন রকম গ্রুপিং রাজনীতিতে না জড়িয়ে সোনারগাঁয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করার প্লাটফর্ম তৈরী জন্য কাজ করছে এরফান হোসেন দীপ। যার কারণে সোনারগাঁয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীবীদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন দীপ। কারণ তারা বাবা ছিলেন সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সাবেক সাংসদ মোবারক হোসেনের সুযোগ্য পুত্র। এরফান হোসেন দীপ তার বাবার মত দল মত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করছেন। যার কারণে দীপ এখনো কোন রকম সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতে কারো সাথে কোন রকম বিভেদ এবং গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে না জড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। পাশাপাশি সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির কাছে হাড়িয়ে যাওয়া আসনটি ফিরে পেতে অবিচল কাজ করছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগ নেতা এরফান হোসেন দীপ জানায়, এখন যে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগে যে বিরোধ বিরোধ করে অর্জনটা কি তাদের অর্জনটা হচ্ছে আমাদের চোখের সামনে সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির এমপি যে সোনারগাঁয়ের মানুষের সাথে পরিচিতই ছিল না। সোনারগাঁ হল আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক স্বাধীনের পরও সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের তিনজন এমপি ছিলেন। দুরভাগ্য জনক হলেও সত্য গত কয়েক ট্রামে বিরোধের কারণে এই ধারাবাহিকতা বিরোধের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে আমি চাই আমার বাবার মত রাজনীতিটা করতে কারণ আমার বাবা ছিলেন দল মত নির্বিশেষে সকলের প্রিয় ছিল এবং সকলকেই নিয়েই কাজ করার চেষ্টা করেছে। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করব বাবার যে আদর্শটা সে আদর্শটা ধারণ করেই কাজ করার চেষ্টা করব। যার কারণে আমি গ্রুপিংয়ের রাজনীতিটা বিশেষ করে পছন্দ করি না সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রাজনীতিটা করার চেষ্টা করি। রাজনীতিতে বিরোধ করে কখনো কাউকে নামানোও যায় না উঠানো যায় না। বিরোধ করে কিছুই হয় না আসলে সবাইকে নিয়েই রাজনীতিটা করা উচিত।


