আজ ঢাকায় ব্যাপক ভূমিকা রাখতে চায় জেলা বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:৪২ পিএম
# জেলা বিএনপির উপর ভর করেই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণের ইচ্ছা মহানগরের
বিদায় বছর ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের বছর। সে বছরে তারা নানা সময়, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে রাজপথ অনেকটাই দখল করে রেখেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, তাদের সাথে এখন কর্মীর থেকে ও বেশি সাধারন জনগণ, যার ফলে তারা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু বিদায় বছরে জেলা বিএনপির নবাগত কমিটির পর থেকেই যেন কেন্দ্রীয় ঘোষিত সকল আন্দোলন সংগ্রাম আরো ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং তাদের ঘোষিত সকল কর্মসূচি তারা যথাযথভাবে সফল করতে সক্ষম হচ্ছে।
আজ ১১ জানুয়ারী ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিভাগীয় গণ-অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যে ইতি মধ্যেই নানা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জেলা বিএনপি এবং তাদের দাবি গণ-অবস্থান কর্মসূচির পর থেকেই বিএনপি আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি গণ-অবস্থান কর্মসূচির জন্য আলোচনা সভা করলেও সেই আলোচনা ছিল কর্মীহীন আলোচনা সভা। যার ফলে মহানগর বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ভাবছে বিগত দিনে মহানগর বিএনপি যেভাবে অঙ্গ সংগঠনের উপরে ভর করে রাজনীতি করেছে। এই কর্মসূচিতেও তারা অঙ্গসংগঠন ও জেলা বিএনপির উপরে ভর করেই ঢাকার গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ নভেম্বর গিয়াসউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও খোকনকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। যার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপির যতগুলো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হয়েছে সব কর্মসূচিতেই জেলা বিএনপি ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে।
বিদায় বছরে বড় চেয়ে বড় আন্দোলন সংগ্রামের দিন ছিল ১০ই ডিসেম্বর ঢাকার বিভাগীয় সমাবেশ। সেই সমাবেশে জেলা বিএনপি ব্যাপকভাবে ভূমিকা পালন করেছে। তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছে আর সকল আন্দোলন সফল করেছে। এরই মাঝে নানা চড়াই উতড়াই পেরিয়ে চলে গেল বিদায় বছর।
তারই মাঝে চলে এলো আন্দোলন সংগ্রামের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নতুন বছর। এ বছরে চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য মাঠে নানান ধরনের নয়া কৌশল নিয়ে অবস্থান করছে। যার ফলে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, এ বছর সকল আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করার জন্য অনেকটাই উজ্জ্বীবিত হয়ে আছে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।
আর সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে এবার বিজয় হবে বিএনপির। অপর দিকে জেলা বিএনপি ইতিমধ্যে ১০ দফা নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে আবার ২৭ দফা রাষ্ট্র মেরামতের আন্দোলন ও তাদের আগে থেকেই ঘোষণা করা রয়েছে।
তারই মাঝে জেলা বিএনপির লেজ ধরে এগিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছে মহানগর বিএনপি কারণ মহানগরের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কোন নিজস্ব কর্মী সমর্থন নেই যার ফলে তারা অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন এগুলোর ছত্রছায়ায় এগিয়ে যেতে চাচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, আজ আমাদের যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেটাকে সফল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আমাদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভায় আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা এসে আমাদের দিক নিদের্শনা মূলক বক্তব্য দিয়ে গেছে।
তারই পরিপেক্ষিতে আমরা আমাদের থানা, উপজেলা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল নেতাকর্মীদের অবগত করেছি। তারা আজকের এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মরিহা হয়ে উঠেছে। আমরা আশাবাদী বিগত দিন থেকে আমরা আরো ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারবো। আর এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের সকল নেতাকর্মী আরো উজ্জ্বীবিত ও উৎফুল্ল হয়ে উঠবে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি যুগের চিন্তাকে বলেন, “আমরা ঢাকায় গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য ইতি মধ্যে প্রস্তুতি সভা পালন করেছি। আর আজকের অনুষ্ঠানে আমরা সকাল ৯টায় ঢাকা অবস্থান করবো। আশা করছি ব্যাপকভাবে আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন ও সফল করবো।”
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব যুগের চিন্তাকে বলেন, “আমরা গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য প্রস্তুতি সভা পালন করেছি। আর এখন আমরা বিগত দিন থেকে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে আর এখন আমাদের কর্মসূচিগুলোতে শুধু নেতাকর্মী নয় সাধারন জনগণও অংশ গ্রহণ করে। যার কারণে আমরা সকল বাধা পেরিয়ে, সকল আন্দোলন সংগ্রামে সফল হতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম টিটু যুগের চিন্তাকে বলেন, “আজকের গণ-অবস্থান কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আর সকল নেতাকর্মীকে আরো শক্তিশালী করে তুলছি। আর আমরা কালকে সকল বাধা উপেক্ষা করে কর্মসূচি সফল করবো; সেই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।” এন.এইচ/জেসি


