Logo
Logo
×

রাজনীতি

দুই পরিবারের রাজত্ব

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:৫০ পিএম

দুই পরিবারের রাজত্ব
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ জেলাকে ৫টি আসনে বিভক্ত করলেও সকলেই তাকিয়ে থাকেন নারায়ণগগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনের দিকে। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে এই দুটি আসন দখলে নিতে পারলেই নাকি পুরো জেলা জুড়ে রাজত্ব কারাটা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এই দুটি আসনের মধ্যে আলোচনায় থাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি। নারায়ণগঞ্জ সদর এবং জেলার অন্যতম উপজেলা হিসেবে স্বীকৃত বন্দর উপজেলাকে ঘিরে অবস্থান হওয়ায় এখানকার রাজনীতি নিয়ে সব সময়ই নারায়ণগঞ্জসহ দেশবাসীর একটি আলাদা দৃষ্টি থাকে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই আসনে হয়তো ওসমান পরিবার কিংবা হাজী জালালউদ্দিনের পরিবারের দখলে ছিল।

 

অর্থাৎ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে যে ক’জন এমপি হয়েছেন তারা হয়তো ওসমান পরিবার কিংবা হাজী জালাল উদ্দিনের পবিারের সদস্য ছিলেন। মাঝখান দিয়ে মাত্র একবার এই রীতি ভেঙ্গেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এসএম আকরাম। ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এসএম আকরাম। তবে এবার যদি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়া হয় তাহলে এবারও সেই প্রথা ভাঙ্গার সম্ভাবনা বা সুযোগ আছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

 

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে সেময় নারায়ণগঞ্জ ঢাকা জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল এবং বর্তমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি তখন ঢাকা-৩০ আসন নামে পরিচিত ছিল। সেই নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন ওসমান পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের সদস্য একেএম শামসুজ্জোহা। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানের পিতা। এরপর ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি ঢাকা ৩২ নামে পরিচিত ছিল।

 

সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন হাজী জালাল উদ্দিন। যিনি জালাল হাজী নামে পরিচিত এবং সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালামের পিতা। এরপর এরশাদ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় এই নারায়ণগঞ্জকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করার পর ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন একেএম শামসুজ্জোহার বড় ছেলে একেএম নাসিম ওসমান। এর দুই বছর ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই নির্বাচনেও সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন একেএম নাসিম ওসমান।

 

এরপর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন সাবেক সাংসদ হাজী জালাল উদ্দিনের বড় ছেলে এডভোকেট আবুল কালাম। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আবুল কালাম নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন ওসমান পরিবার ও জালাল হাজী পরিবারের বাইরের প্রার্থী সাবেক আমলা এসএম আকরাম। ২০০১ এর ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন এডভোকেট আবুল কালাম।

 

২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। একই বছর তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তার ছোট ভাই একেএম সেলিম ওসমান এই আসন থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও সাংসদ হন সেলিম ওসমান। সব মিলিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে একবার শামসুজ্জোহা, চারবার তার বড় ছেলে নাসিম ওসমান এবং দুইবার তার মেজো ছেলে সেলিম ওসমান নির্বাচিত হন। অন্যদিকে হাজী জালালউদ্দিন নির্বাচিত হন একবার, তার বড় ছেলে এডভোকেট আবুল কালাম নির্বাচিত হন তিনবার।

 

অন্যদিকে এই দুই পরিবারের বাইরে একবার নির্বাচিত হন সাবেক আমলা এসএম আকরাম। তবে এবার যেহেতু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে তৃণমূলের সমর্থকরাও এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। একই সাথে এই আসন থেকে জাতীয় প্রার্থী হিসেবে ওসমান পরিবারের একেএম সেলিম ওসমানের পাশাপাশি একই পরিবারের আরেক সদস্য (নাসিম ওসমানের স্ত্রী) পারভীন ওসমানের নামও শোনা যাচ্ছে তাই এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নতুন প্রার্থী কে হচ্ছেন কিংবা আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী দেওয়া হলে কাকে দেওয়া হবে সেই বিষয়ের উপর নির্ভর করবে আগামীতে এই আসনে কে নেতৃত্ব দিবেন। ওসমান পরিবার থেকেই থাকবেন নাকি আওয়ামী লীগ কিংবা অন্যকোন দল থেকে কোন নতুন প্রার্থী এই জায়গা দখল করবেন। তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ পর্যন্ত।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন