# পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরগরম রাজনীতি
নির্বাচন আসলেই নারায়ণগেঞ্জর রাজনীতির মাঠ গরম হয়ে উঠে। কেননা নির্বাচনে আগে থেকে ক্ষমতাসীনরা চায় ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য, অপর দিকে বিরোধী দল চায় ক্ষমতায় যেতে। ক্ষমতা দখলের জন্য বিরোধী দল এবার একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে নেতা কর্মীদের আন্দোলনের মাধ্যমে জাগ্রত রাখে। সেই সাথে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের নানা অপকর্ম তুলে ধরেন। আর এতে করে বুঝিয়ে দেন ক্ষমতাসীন দলের যারা প্রতিনিধি আছে তারা উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন বেশি করেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে সপ্তাহ খানিক যাবৎ এমপি মেয়রদের বক্তব্যে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। তারা এখন হোন্ডা বাহিনী, জুটসন্ত্রাস বাহিনী নিয়ে মুখ খুলেছেন। এই জায়গা এমপি সেলিম ওসমান ও নাসিক মেয়র একই কথা বলে মন্তব্য করেছেন। মেয়র আইভী গত বছর এক সভায় বলেছেন এই শহরের মানুষ হোন্ডাবাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ। একই কথা গত কয়েক দিন আগে তা ঘুরিয়ে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, লম্বা লম্বা চুল রেখে কারা হোন্ডা নিয়ে শোডাউন দেন কারা। তাদের বিরুদ্ধে তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান নারায়ণগঞ্জ -৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
অন্যদিকে এর আগে গত মাসে এক সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস, ভুমিদস্যুসহ নানা অপরাধীদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া তিনি এ বছর থেকে এই সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষনা দেন। এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার জন্য মাঠে নামবো। আগামী ২১ জানুয়ারির পর আমি মাঠে নামাবো। তিনি বলেন, আমার কোন ফেসবুক আইডি নেই । তবে আমি একটি ফেসবুক আইডি খুলে এলাকার মা বোনদের কাছে দিয়ে রাখবো যাতে করে তারা মাদক সেবনকারী ও ব্যসায়ীদের ছবি তুলে আমার আইডিতে পাঠাতা পারেন। এছাড়া কারা ইভটিজিং, সন্ত্রাস, ভুমিদস্যুতা করে তাদের চিহ্নিত করে ছবি তুলে পাঠাতে পারেন। আর এতে করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
অপর দিকে তার এই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন এখানকার যারা অনির্বাচিত সংসদ সদস্য তারা এখন পত্রিকার বিবৃতিতে কিছু কিছু কথা বলছেন। তারা বলছেন মাদক নিয়ন্ত্রণের কথা। মাদক যাতে না থাকে নারায়ণগঞ্জে এজন্য তারা দিন তারিখ দিয়ে মাঠে নামার ঘোষনা দিয়েছে। তাদের কাছে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই গত ১৪ বছর আপনারা কি করছেন। তাহলে বলা চলে মাদকের ব্যবসা করে কিংবা মাদক কারবারিদের শেল্টার দিয়ে কোটি কোটি টাকা সম্পদ আহরণ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। আর এদিক দিয়ে আমাদের সন্তানদের নষ্ট করে আজকে তারা মাদক মুক্ত করার ঘোষান দিয়ে মাঠে নামবে বলছেন।
১৪ বছর ধরে কি প্রশাসনে বিএনপি ছিল। বিএনপি কি মাদকের ব্যবসার সম্প্রাসারণ ঘটিয়েছিলো। এতো দিন পর এসে কেন এই কথা বলেন। আসলে নির্বাচন আসলেই তাদের এই সকল কথা মনে হয়। যাতে তারা মনে করেন এগুলো বললে মানুষ হয়ত তাদের ভোট দিবে। কিন্তু জনগণ তাদের এই ফাকুবলি কর্ণপাত করেন না। নির্বাচন আসলেই তারা এই করে ফেলবেন সেই করে ফেলবেন বলে বেরান। আর নির্বাচন চলে গেলে তা ভুলে যান। তিনি আরও বলেন, কোন কোন নেতা বলছেন নারায়ণগঞ্জের স্টেডিয়াম র্দীঘদিন ধরে অচল। এ অচল কে করেছে বিএনপি করেছে? নাকি আপনারা ক্ষমতায় আসার পরে এই ১৪ বছরে এটি অচল হয়েছে।
জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বক্তব্য ও দেশের প্রধান বিরোধী দল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনের মুখ খোলা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে ব্যপক আলোচনা হচ্ছে। সেই সাথে তারা বলছেন একজন বলছেন মাদক মুক্ত করার জন্য মাঠে নামবে অপর জন বলছে যারা মুক্ত করার ঘোষনা দিচ্ছে তাদের শেল্টারে এই অপকর্ম চলে। আসলে কে সঠিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন সচেতন মহল। মানুষ কার কথা বিশ্বাস করবে। তাদের মতে নির্বাচনের দিন ক্ষন ঘনিয়ে আসলেই তা পরিস্কার হয়ে যাবে।
এস.এ/জেসি


