Logo
Logo
×

রাজনীতি

আ.লীগ নির্বাচনে, বিএনপি আন্দোলনে

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৫৬ এএম

আ.লীগ নির্বাচনে, বিএনপি আন্দোলনে
Swapno


# সুযোগের অপেক্ষায় জাতীয় পার্টি

# মাঠে নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

 

হাতে সময় মাত্র ১১ মাস। ইতোামধ্যে নির্বাচনের ঢামাঢোল বাঝতে শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী থেকে শুরু করে বর্তমান সংসদ সদস্যরা মাঠ গুছানোর কাজে নামছেন। সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এই মাসের শেষের দিকে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

 

বিভিন্ন সভা সমাবেশেও আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য এখন থেকে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে চলতি বছরের শেষ সপ্তাহে অথবা আগামী বছরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের জনসভা থেকে আভাস দিয়েছিলেন ২০২৪ সালের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত শুক্রবার সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি চলতি বছরের শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ারও আভাস দেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাও একই ইঙ্গিত দিচ্ছেন।  

 

 

তাই এই ১১ মাসকে নির্বাচনী মাস হিসেবে ধরে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এজন্য রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনকে টার্গেট করে এখন থেকে সব ধরনের কর্মসূচি পালনে নামছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

 

 

এদিকে ক্ষমতাসীন দলের বিপরীতে নির্বাচন ঘিরে তৎপর অন্যান্য রাজনৈতিক দল গুলোর পাশা পাশি দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে থাকা বিএনপি’র চোখ এখন নির্বাচনে। নানা ইস্যুতে সরকারবিরোধী আন্দোলন করলেও এখন দলটির লক্ষ্য সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করা।

 

 

এজন্য যুগপৎ আন্দোলনও শুরু করেছে বিএনপি। সামনের সময়ে দলগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে সরকার পতনের এক দফা বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি নিয়ে মাঠে থাকতে চায় দলটি। এজন্য একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে ক্ষমতাসীন দলকে চাপে রাখতে চায়।

 

 

এদিকে নেতারা বলছেন, এতদিন ইস্যুভিত্তিক নানা কর্মসূচি পালিত হলেও সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব আন্দোলন ও কর্মসূচি হবে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। একইসঙ্গে দেশব্যাপী গণসমাবেশ, গণমিছিলের মতো নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা চলছে দলটির।

 

 

নির্বাচনী বছরে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে তারা শহীদ মিনার সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সভা করে কর্মীদের জাগ্রত করে তুলেন।

 

 

সেই সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতারা গরমব বক্তব্য দিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা রাখার পাশা পাশি বিরোধী দলের নানা অনিয়ম তুলে ধরছেন। যা আগামী নির্বাচনের তাদের সহায়ক হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

 

দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, গত মাস দুয়েক আগে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এক সভায় গিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এই মাসের শেষের দিকে মাঠে নামার ঘোষনা দেন।

 

 

তিনি ওই সভায় বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাদাঁবাজ,ইভটিজিং, ভুমিদস্যু মুক্ত করার জন্য মাঠে নামবো আমি। এছাড়া এলাকার মা বোনরা যেন মাদককারবারি, ভুমিদস্যু চাদাঁবাজদের ছবি তুলে আমার ফেসবুক আইডিতে দিতে পারেন। কিন্তু তার কোন ফেসবুক আইডি নেই।

 

 

১০ জানুয়ারির স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে একাধিক আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানান মানুষের প্রতি।

 

 

মঙ্গলবার দুপুরে গোগনগর ইউনিয়নে সদর থানা যুবলীগের কম্বল বিতরণে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনার জন্য বলেন। কেননা এই সরকার মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু করেছে। আর উন্নয়নের জন্য আবারও এই সরকার দরকার।

 

 

অপরদিকে শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন এখানকার যারা অনির্বাচিত সংসদ সদস্য তারা এখন পত্রিকার বিবৃতিতে কিছু কিছু কথা বলছেন। তারা বলছেন মাদক নিয়ন্ত্রণের কথা। মাদক যাতে না থাকে নারায়ণগঞ্জে, এজন্য তারা দিন তারিখ দিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

 

 

তাদের কাছে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই গত ১৪ বছর আপনারা কি করছেন। তাহলে বলা চলে মাদকের ব্যবসা করে কিংবা মাদককারবারিদের শেল্টার দিয়ে কোটি কোটি টাকা সম্পদ আহরণ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। আর এদিক দিয়ে আমাদের সন্তানদের নষ্ট করে আজকে তারা মাদক মুক্ত করার ঘোষাণা দিয়ে মাঠে নামবে বলছেন।

 

 

১৪ বছর ধরে কি প্রশাসনে বিএনপি ছিল। বিএনপি কি মাদকের ব্যবসার সম্প্রাসারণ ঘটিয়েছিলো। এতো দিন পর এসে কেন এই কথা বলেন। আসলে নির্বাচন আসলেই তাদের এই সকল কথা মনে হয়।

 

 

জানা যায়, গতকাল ঢাকার যুগপৎ আন্দোলনের গত ১০ ডিসেম্বর ১০ দফা দাবী বাস্তবায়নের জন্য গতকাল ঢাকার গণ অবস্থান কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি বিশাল মিছিল নিয়ে যোগদান করেন। ইতোমধ্যে ঢাকার কর্মসূচিতে ব্যপক লোকের সমাগম ঘটিয়ে জেলা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ প্রশংসা অর্জন করেন।

 

 

গতকালকের সভায় ১০ দফা দাবিতে আগামী ১৬ জানুয়ারি সারাদেশে সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর। দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তকরণ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।

 

 

১০ দফা আদায় ও বিদ্যুতের মূল্য কমানোর দাবিতে আগামী ১৬ জানুয়ারি সারা দেশে কেন্দ্রসহ সব মহানগর, জেলা-উপজেলা ও পৌর শহরে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। তাই পূর্বের ন্যায় ১৬ জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি জেলাতে আবারও কম্পন তৈরী করবে বলে জানান স্থানীয়রা।

 

 

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ও সরকারের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে আন্দোলন অব্যাহত রাখছেন বিএনপি  হাই কমান্ড। প্রতিটি কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সবচেয়ে বেশি অগ্রনী ভুমিকা রাখছে। সারা দেশে বিভাগীয় সমাবেশের মধ্যদিয়ে আন্দোলনে গতি ফিরেছে।  

 

 

ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চলতি বছরও রাজপথ দখলে রাখতে চাই আমরা। এই মুহূর্তে সরকার পতন ও নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনের বিকল্প নেই । আর সরকার পতনের নিশ্চিত করার জন্য একের পর এক গণকর্মসূচিতে গিয়েছে। বিএনপি। সেখানে আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে ভুমিকা রেখে যাচ্ছি।

 

 

তাই সব কিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মত ক্ষমতায় থাকার জন্য এখন থেকে নির্বাচনে প্রচারনায় নেমেছে। অপরদিকে তাদের হটানোর জন্য গণ কর্মসূচি আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপি। সেই হিসেবে বিএনপির চোখ এখন আন্দোলনে। কেননা তারা তাদের দাবী আদায় করতে পারলেই সরকারের পতন ঘটবে।

 

 

তবে তাদের মর্ধ্যবর্তী স্থানে থেকে জাতীয় পার্টির নেতারা সুযোগ নিতে চায়। তারা সব সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। তাদের দমন করে রাখতে পারলে, ক্ষমতাসীন দল আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহল। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন