অঙ্গ-সংগঠনের ছত্রছায়ায় মহানগর বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:৪৭ পিএম
# তারেক রহমানের আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ সাখাওয়াত-টিপু
নারায়ণগঞ্জ মহাগর বিএনপির আবারো পুরানো রূপে ফিরে এসেছে। নতুন কমিটি হওয়ার পর তাদের যে তৎপরতার দেখা পেয়েছিল নেতাকর্মীরা তা তারা এখন আর দেখতে পায় না। যার ফলে নেতাকর্মীরা ভাবছে তারা কমিটির দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। অপর দিকে বর্তমান নতুন বছর চূড়ান্ত আন্দোলন সংগ্রামের বছর।
এ বছর দেশের সকল রাজনৈতিক দল আন্দোলন সংগ্রামের জন্য নানা প্রস্ততি নিচ্ছে। তখনই হঠাৎ আগোছালো হয়ে পরলো মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ৪ মাসেই তাদের পুরোনো রূপ দেখিয়ে দিলেন। আর পথে পথে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। গতকালের কর্মসূচিতে ও অঙ্গসংগঠনের ভূমিকা তাদের মাথায় নিয়ে নিলেন।
যার ফলে তৃণমূলের দাবি, তারা অঙ্গ সংগঠনের ছত্রছায়ায় পার হওয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে ইতি মধ্যেই প্রকাশে না করলেই পার্সোনালভাবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীরা তাদের বয়কট করা শুরু করে দিয়েছে। যার ফলে দলে দেখা মিলছে দলের মধ্যে নানা বিশৃঙ্খলার। আর তাদের এ ধরনের কর্মকান্ডের সুরাহা চায় তৃণমূল।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছে। আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহবায়ক ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। কিন্তু কমিটি গঠনের পর শুরু হয় পদত্যাগের হিড়িক।
এক এক করে দল থেকে রাজপথের ত্যাগী প্রায় ১৫ জন নেতা পদত্যাগ করেন। তার পর থেকেই দেখা মিলে মহানগর বিএনপির দুইভাবে বিভক্তি এবং দুইভাবে আলাদা আলাদা দলীয় কর্মসূচি পালন। দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, বিদ্রোহী পদত্যাকারী নেতারা বলেছিলেন, যাদের হাতে মহানগরের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছে তাদের দ্বারা রাজপথে নামাতো দূরের কথা গলিতেও যাওয়া সম্ভব না।
এছাড়া ও আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কোন নিজস্ব নেতাকর্মী নেই। যার ফলে মহানগর বিএনপির ক্ষমতা আরো কমবে। আর কেন্দ্র থেকে বর্তমান সময়ে নারায়ণগঞ্জে শক্তিশালী কমিটি দেয়া দরকার ছিল। কিন্তু তারা তা না নানান অভিযোগের কান্ডারী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের হাতে কমিটি তুলে দিলেন যা কোনভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়।
কিন্তু তাদের এ ধরনের অভিযোগকে পিছিয়ে মাঠে ব্যাপক তৎপরতা দেখানো শুরু করলেন বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীরা। কিন্তু যেতে যেতে কমিটির প্রায় ৪ মাস পরেই সত্য হল বিদ্রোহীদের কথা। এখন দেখা মিলছে আরেক দৈন্যদশার তারা এখন আর ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মাঠে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছে না।
নতুন বছরে সকল কর্মসূচিতেই দেখা মিলছে তাদের মাঝে ঝিমিয়ে পড়া ভাব। আর প্রতিটি কর্মসূচিতে দেখা মিলে নানা বিশৃঙ্খলা এখন নেতাকর্মীরা পুরোপুরিভাবে সদস্য সচিবের উপরে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। এখন মহানগর বিএপির সর্বশেষ আস্থা রয়েছে দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোর উপরে।
এমনই এক চিত্রের দেখা মিলছে ৯ জানুয়ারী মহানগর বিএনপির আলোচনা সভায় সেই সভায় কেন্দ্রীয় নেতার সামনেই ছিল নানা বিশৃঙ্খলা ও পুরো খালি ময়দান। তা ছাড়া গতকাল ১১ জানুয়ারী ঢাকার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে তারা অঙ্গসংগঠনের ছত্রছায়ায় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ হয়েছে দাবি তৃণমূলের।
এ ধরনের আরো ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে মহানগরের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উপরে। নেতাকর্মীদের আরো দাবি, তারা এখন রাজপথ ছেড়ে আদালতপাড়ায় বেশি সময় ব্যয় করছে তারা এবং আস্তে আস্তে যে মহানগর বিএনপি তাদের নিজস্ব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে সেদিকে খেয়াল নাই তাদের।
দলের তৃণমূল নেতাদের ল্যাং মারতে গিয়ে উল্টো বেকায়দায় পড়েছে নব গঠিত মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। যার কারণে তৃণমূলের দাবি তারেক রহমানের আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ সাখাওয়াত ও টিপু। এন.এইচ/জেসি


