Logo
Logo
×

রাজনীতি

দুই মেরুতে নয়া উত্তাপ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:১৯ পিএম

দুই মেরুতে নয়া উত্তাপ
Swapno

 

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাই চলতি বছরকে অনেকে নির্বাচনের বছর হিসেবে গন্য করছেন। নির্বাচনের হাওয়া পালে লাগলেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শুরু হয় উত্তাপ। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর উত্তাপে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। নয়া বছরের শুরুতেই  নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান গত ৪ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের একটি সভায় ওসমান পরিবারের  দুই সদস্যকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য রেখেছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় নানা আলোচনা। এর ঠিক এর পরপরই গত ৭ জানুয়ারী আলী আহাম্মদ পৌর পাঠাগারে একটি অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশর মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী সেলিম ওসমানের সেই বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে পাল্টা বক্তব্য রাখেন। আর এর পর থেকেই নির্বাচনের বছর ফের আলোচনায় আসে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর উত্তাপ।

 

ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি মানেই ভিন্ন কিছু। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার যুদ্ধ, স্বৈরাচার আন্দোলন এই নারায়ণগঞ্জের মাটি থেকেই শুরু হয়েছিলো। সেই দিক থেকে যে কোনো রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুকনা কেনো নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির দিকে কেন্দ্রের ভিন্ন নজর থাকে। সম্প্রতি সেলিম ওসমান চেম্বার অব কমার্সের একটি অনুষ্ঠানে নিজের মনের ক্ষোভ ঝাড়তে গিয়ে বলেছেন, বন্দরে সন্ত্রাস বেড়ে উঠছে। এমন কোন মানুষ নাই যার কাছে চাঁদা দাবি করা হয় না। কোন এক খান সাহেব এখানে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছেন। বন্দরে কিছু অবৈধ ক্লাব গড়ে উঠছে,আমি জানি কারা ক্লাবগুলোকে পরিচালনা করেন। আমি ইতিমধ্যে ঘোষনা দিয়েছি ‘হাম্মা গ্রুপ’, ‘ভাই সাহেব গ্রুপ’ যদি আপনারা মনে করেন তারা ওসমান পরিবার, আমি বলবো ওসমান পরিবারের কিন্তু হাতের পাঁচটা আঙ্গুল সমান না’।

 

নয়া বছরের শুরুতেই সাংসদ সেলিম ওসমান নিজের পরিবারের দুই সদস্যকে ইঙ্গিত করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ওসমান পরিবারের অন্তর্দ্বন্ধ প্রকাশ্যে এসেছে। আর আগেও তিনি এমন ইঙ্গিত করেছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যে যদিও তিনি কারো নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তিনি কাকে উদ্দেশ্যে করে কথাগুলো বলেছেন তা নিয়ে চায়ের স্টল থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে চলছে নানা মুখরোচক গল্প। আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ওসমান পরিবারের আরেক সদস্য জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে মাঠ গুছাচ্ছেন বলেও কথা চাউর রয়েছে। সে কারনেও সাংসদ সেলিম ওসমান তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ ঝেড়েছেন বলেও অনেকে মনে করেন। তবে সেলিম ওসমানের ঐ বক্তব্যের পর আলী আহাম্মদ পৌর পাঠাগারে মেয়র আইভী একটি অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমানের বক্তব্যের সাথে যুক্ত করে বলেছেন ’অনেকে অনেক বড় কথা বলে। এই সামলাও ওই সামলাও।

 

নির্বাচনের বছর চলে আসছে, আর এক বছর আছে। তাই অনেকের এখন টনক নড়েছে। এই বাহিনী চাই না, খান বাহিনী চাই না। হুন্ডার বাহিনী চাই না। চার বছর কি করলেন? ৩০ বছর ধরে দেখছি সবাইকে জিম্মি করে রেখেছেন। নির্বাচনের বছর এসেছে হঠাৎ করে এখন কথা গুলো বললে মানুষ খুব ভোট দিয়ে দিবে ভাবছেন। আমরা আসলে প্রজা। আমরা রাজার রাজত্ব মেনে নিচ্ছি। নিরীহ প্রজা হয়ে সেই রাজত্বে আছি। মাঝে মাঝে মাথাচারা দিয়ে উঠে দুই-একটা কথা বলার চেষ্টা করি। ছোট ছোট দু:খ কষ্ট বিশাল আকাড় হয়ে গেলে প্রতিবাদ স্বরূপ অনেক কিছু বলে ফেলি। তাছাড়া আপনাদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব মেনে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের মানুষ চলে। ভবিষ্যতে এমনও হতে পারে নারায়ণগঞ্জের রাজধানী কুমিল্লা। নারায়ণগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে ওসমান নগরী।

 


সাংসদ সেলিম ওসমানের বক্তব্য ও মেয়র আইভীর পাল্টটা বক্তব্যের পর নারায়ণগঞ্জ শহরে হোন্ডা বাহিনীর তৎপরতা অনেক কমেে গেছে বলেও অনেকে মনে করেন। সেলিম ওসমান যে উঙ্গিত দিয়েছিলেন আর মেয়র আইভীর যে প্রতিবাদ এর কারনে অনেকটা স্থবির হয়েছে বাহিনীর সদস্যরা। সূত্রের দাবী, সেলিম ওসমান বরাবরের মতোই ওসমান পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে তা বলে ফেলেন। আর এ নিয়ে ওসমান পরিবারের মধ্যে অন্তর্দ্বন্ধ শুরু হয়। মূলত সেলিম ওসমানের আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য তার পরিবারের আরেক সদস্য নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ঐ সদস্যের ব্যাপারে ইশারা ইঙ্গিতে কথা বলে ভোটের আগে নিজের অবস্থান কিছুটা পরিস্কার করতে চাচ্ছেন। আর এরই প্রেক্ষিতে মেয়র আইভী বলেছেন, চার বছর আগে যে হোন্ডা বাহিনীর কথা তিনি বলেছিলেন সেই বাহিনীর ব্যাপারে তথন কেউ কোনো কথা বলেননি।  

 

আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে নতুন চমক আসতে পারে মনে করছে রাজনৈতিক বোদ্ধারা। বর্তমান সাংসদদের মধ্যে অনেকেই দলীয় মনোনয়ন পেতে হোঁচট খেতে পারে। আবার অনেকের কপালে দলীয়  মনোনয়ন পেলেও অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হতে পারে বলেও নানা সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। ভোটের আগে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে বলেও বিভিন্ন সূত্র ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন