# জেলা ও মহানগর কমিটির সম্মেলনও বন্দরে অনুষ্ঠিত হয়
# শহরে কার্যালয়ের জন্য জায়গা খুঁজছি : দুলাল
বাংলাদেশের জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা নারায়ণগঞ্জ। আর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির গোড়াপত্তন করেন ইতিহাস খ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা একেএম শামসুজ্জোহার বড় ছেলে একেএম নাসিম ওসমান। তার হাত ধরেই নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় পার্টির জনক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের খুব একজন বিশ্বস্ত এবং প্রিয়পাত্র ছিলেন নাসিম ওসমান। তাই জাতীয়পার্ট গঠনের পর প্রথম নির্বাচনে অর্থাৎ ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন একেএম নাসিম ওসমান।
এরপর একবার বা দুইবার নয়, ২০১৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চার-চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এই জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়েই। তাছাড়া ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করায় নারায়ণগঞ্জ-৩সহ এই আসনটি জাতীয়পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। সেই অবদি এই আসনে জোরালোভাবে চলছে জাতীয় পার্টির রাজনীতি। নাসিম ওসমানের নেতৃত্বকালীণ সময় শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক এলাকার গলাচিপা মোড় এলাকায় জাতীয় পার্টি কার্যালয় ছিল।
যেখানে জাতীয় পার্টি নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের জনতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই যেন এই কার্যালয়টি উধাও হয়ে যায়। যে বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ও মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে এবার বন্দরকে টার্গেট করে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির কার্যক্রম গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির কার্যালয়ও বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি নিয়ে কাজ করেন এমন একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ সদরকে নিয়ে গঠিত এই আসনের সিংহভাগ এলাকা ও ভোটার হলো বন্দরের। ২০১৪ সালের তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ- ৫ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে বন্দরের ভোটার দুই লাখ ১০ হাজার ৯৬ জন এবং নারায়ণগঞ্জ সদরের ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৪১ হাজার ৩০৯ জন। এদিকে বন্দরের তৃণমূল আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতেও এই আসনে নৌকার প্রার্থী দেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।
তাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের সাথে রাজনীতি এবং নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জাতীয় পার্টির জন্য শহরের তুলনায় বন্দর এলাকা বেশি নিরাপদ। শহর এলাকায় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী নেতৃত্ব থাকলেও বন্দরে তার সম্পূর্ণ বিপরীত। যেখানে আওয়ামী লীগ এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, সেখানে বন্দর উপজেলায় আওয়ামী লীগ এখন বিরোধী দলের ভূমিকায় আছে বলে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বন্দর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ। তাই নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে এখন বন্দরকে টার্গেট করা হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। এর আগে গত জুনে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলনের আয়োজনও বন্দরে করা হয়েছিল। এবার জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির কার্যালয়ও বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর জাতীয় পার্র্টির সভাপতি মুদাসিরুল হক দুলাল যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা বন্দর সমরক্ষেত্রে জাতীয় পার্র্টির সম্মেলন করেছি কারণ সে জায়গাটি অনেকটা নিরিবিলি এবং অনেক বড় একটি জায়গা। তাই আমাদের মনে হয়েছে সেখানে অনুষ্ঠানটির জন্য ভাল হবে। বন্দরে জাতীয় পার্র্টির জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সেই কার্যালয়টি স্থায়ীভাবে করিনি। আমরা কার্যালয়ের জন্য শহরেও জায়গা খুঁজছি। ভালো একটি জায়গা পেলে আমরা আমাদের কার্যালয় আবারও শহরে নিয়ে আসবো।
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক কার্যালয়ের জন্য বড় আকারের জায়গার প্রয়োজন। তাছাড়া রাজনৈতিক কার্যালয়ের জন্য সাধারণত সহজে জায়গা পাওয়া যায় না। তবে তিনি বন্দরে আলাদা কোন রাজনৈতিক সুবিধার কথা অস্বীকার করেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের জন্য বন্দর বা সদর সব জায়গার ভোটারই সমান। তাই আলাদা কোন সুবিধার জন্য বন্দরে কার্যালয় নেওয়ার মতো কোন কারণ নেই।
এস.এ/জেসি


