Logo
Logo
×

রাজনীতি

কেন্দ্রের নির্দেশনার পরেও থমকে আছে যুবলীগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:১৫ পিএম

কেন্দ্রের নির্দেশনার পরেও থমকে আছে যুবলীগ
Swapno

 

# আমরা সময় চেয়েছি : ভিপি বাদল

 

আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর প্রায় সবগুলোই অগোছালো হয়ে আছে নারায়ণগঞ্জে। ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সংগঠন কমিটি বিহীন অবস্থায় চলছে। এছাড়া যুবলীগে খাতা কলমে থাকলেও কার্যক্রমে তারা নেই। আর এতে করে নতুন নেতৃত্ব তৈরীতে বাধা হয়ে আছে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগি সংগঠন।

 

 

এদিকে গত বছরের ২৬ সেপ্টম্বর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা হয়। তখন ওই সভায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দ জেলার ও থানা যুবলীগের কমিটি দ্রুত গঠনের জন্য নির্দেশনা দেন। একই সাথে থানার নেতৃবৃন্দকেও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু এই নির্দেশনার ৪ মাস অতিবাহিত হলেও তা বাস্তবায়নে জেলার নেতৃবৃন্দের কোন তৎপরতা দেখছে না তৃনমুল নেতা কর্মীরা।

 

 

তখন জেলা ও থানা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ কমিটি গঠনের কাজ শুরু করলেও হঠাৎ করে তা থমকে আছে। কিন্তু কেন থমকে আছে তা নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। নতুন কমিটি না থাকায় এর খেসারত আগামী নির্বাচনে দিতে হতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল। আর এজন্য দ্রুত কমিটি গঠনের দাবী তুলেন স্থানীয় জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

 


অপর দিকে দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে জেলা শ্রমিক লীগ, জেলা যুব মহিলা লীগ। আহ্বায়ক কমিটি গুলো নামকাওয়াস্তে চলছে। এর মাঝে মহিলা যুবলীগ তেমন একটা সক্রিয় নেই বলে অভিযোগ তৃনমূল নেতা কর্মীদের। আর এতে করে দিনের পর দিন আওয়ামী লীগ দূর্বল হচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধামহল।

 

 


জানা যায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে মূল দল আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সহযোগীরাও শুরু করেছে দল গোছানোর কার্যক্রম। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দল রাজনৈতিক মাঠ গরম করে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী এবার মাঠে নেমে আগে থেকেই নৌকায় ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। যদিও এর আগের দুই বারের নির্বাচনে তাকে তেমন একটা মাঠে নামতে হয় নাই।

 

 


দলীয় সূত্র মতে জানা যায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কান্ডারীবিহীন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ। তার উপর চৌদ্দ বছর ধরে সম্মেলন হচ্ছে না আওয়ামী লীগের প্রধান সহযোগি সংগঠন জেলা যুবলীগের। যারা দায়িত্বে আছে তারাই আবার জেলা মহানগর আওয়ামী লীগে রয়েছেন। এর ফলে যুবলীগ হয়ে আছে কাগজে কলমে। কার্যক্রমে তেমন কিছু নেই।

 

 

৫ বছরে জেলা যুবলীগের ব্যানারে দলীয় কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। যার কারণে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ভাবেও জেলা যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের কার্যকরী প্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে যুবলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে।

 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুুবলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন একঝাঁক রাজপথ কাপানো তুখোঁড় নেতা। বিশেষ করে সেই সকল নেতা-কর্মীদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের শামীম ওসমানের অনুসারিই বেশি। তবে জেলা যুবলীগে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন নেতা।

 

 

তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের শ্যালক এহসানুল হক নিপু। জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে নেতৃত্বে আসতে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। তার সাথে পিছিয়ে নেই ফতুল্লা থানা ছাত্র লীগের সভাপতি ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের প্রথম সদস্য আবু মো. শরীফুল হক। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে বারবার নির্বাচিত সভাপতি এডভোকেট মহসীন মিয়া ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানী আলোচনায় রয়েছে।

 

 


অন্যদিকে জেলা যুবলীগে সাধারন সম্পাদক পদে একঝাক নেতৃবৃন্দ জোরালো ভাবে আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে রয়েছেন ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো. শরিফুল হক। যিনি ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা একজন পরিক্ষিত কর্মী নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের ডাকা বেশ কয়েকটি জনসভায় ব্যাপক জনবল নিয়ে সমাবেশে তিনি তার শক্তি প্রদর্শন করেছেন।

 

 


শুধু তাই নয় দলীয় যে কোন প্রোগ্রামে দলের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন এই নেতা। ফতুল্লা ছাত্রলীগকে সু সংগঠতি করে দক্ষ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তাই বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে শরিফুল হক সাধারন সম্পাদক পদে তৃনমূলের পছন্দের তালিকাতে রয়েছে।

 

 

যুবলীগ নেতা যাদের মধ্যে জানে আলম বিপ্লবও আলোচনায় রয়েছে। তবে নতুন কমিটিতে কারা আসবে তা নিয়ে চলছে স্থানীয় নেতাদের মাঝে আলোচনা। কিন্তু সব কিছু মিলিয়ে তারা চান দ্রুত কমিটি হোক। আর এজন্য তারা মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছে।

 

 


ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল হক জানান, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই যুবলীগের কমিটি ঢেলে সাজনো দরকার। কেননা নতুন কমিটিতে যারা নেতৃত্বে আসবে তারা দলকে আবারও ক্ষমতায় আনার জন্য অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে পারবে। কেননা নতুন কমিটিতে নবীণ প্রবীণ মিলিয়ে কমিটি হলে তখন ধল শক্তিশালী হয়। প্রবীনরা অভিজ্ঞতা আর নবীনরা তাদের দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে বলে আমি মনে করি।

 

 


জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনায় আমরা থানা কমিটি গুছানোর কাজ শুরু করেছি। তবে মাঝে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ না হতেই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ায় তখন আমরা মূল দলের কমিটি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের থেকে সময় চেয়েছি। তার পরেও আশা করি যুবলীগের থানা, জেলা কমিটি গুলো দ্রুত হয়ে যাবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যে সকল সহযোগি সংগঠনের কমিটি নেই, সেগুলো না হলে আগামী নির্বাচনের জন্য দল ক্ষতি হতে পারে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন