মহানগর বিএনপির ‘ওয়ান ম্যান শো’ নেতা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:৪৩ পিএম
# কর্মীবিহীন নেতা দাবি করা ব্যক্তিদের দাপটে ত্যক্ত-বিরক্ত কর্মীরা
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অন্যতম ভূমিকা পালন করে থাকে মহানগর বিএনপি। বিগত কমিটি থাকাকালীন মহানগর বিএনপি একটু ঝিমিয়ে থাকলে ও এখন নতুন কমিটি আসার পর থেকেই মহানগর বিএনপি রাজপথে সরব রয়েছে। আর সকল কর্মসূচিতেই ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু কমিটিতে স্থান পাওয়া কিছু অযোগ্য নেতাকর্মীদের কারণে মহানগর বিএনপি যোগ্য নেতাকর্মীরা পিছিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, কোন পোগ্রামেই নেই তাদের কোন নিজস্ব নেতাকর্মী তারা আসে অন্যের ভরসায়। এসেই কর্মী সমর্থনহিত নেতাকর্মীদের ধাক্কা দিয়ে পিছে পাঠিয়ে তারা সামনে অবস্থান করতে চায়। যার কারণে তাদের প্রতি নানা অভিযোগ দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীরা। আর সকলের ধারনা তাদের কার্যকালাপে বিশৃঙ্খলা হয় কর্মসূচিগুলোতে। তাই তৃণমূলের দাবি, তাদের এই কার্যকালাপ অতি শীঘ্রই পরিবর্তন করতে হবে। আর যদি তাদের এই ‘ওয়ান ম্যান শো’ অবহৃত থাকে তাহলে মহানগর বিএনপি বর্তমান সময়ের মতো উজ্জ্বীবিত থাকে না।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার পর থেকেই কমিটি থেকে ১৫জন বিদ্রোহী নেতা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। যার ফলে মহানগর বিএনপি দুইভাবে বিভক্ত হয়ে পরে। কিন্তু ১৫ জন পদত্যাগ করার পরে ও কমিটিতে থেকে যায় আরো ২৬ জন আর এদেরকে নিয়েই দলীয় সকল কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত ও সদস্য সচিব টিপু। তাদের ব্যাপক নেতৃত্বে ৪ মাসের মধ্যে নানা বাধার পরে ও এখনো টিকে আছে মহানগর বিএনপি। মহানগর বিএনপির নবাগত কমিটি হওয়ার পর থেকেই কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উপর দিয়ে নানা ঝড়ঝাপটা যাচ্ছে। কিন্তু তার পরেও তারা রাজপথে সরব রয়েছে।
কিন্তু কমিটিতে পদে স্থান পাওয়া কিছু অযোগ্যদের কারণে থমকে যাওয়ার পথে মহানগর বিএনপি। নেই কোন নিজস্ব কর্মী কিন্তু তারা কেউ আহ্বায়ক আবার কেউ কেউ সদস্য। তারা হলেন, বর্তমান কমিটি থাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার হুমায়ন কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু একা একা পোগ্রামে আসে যুগ্ম আহ্বায়ক ফাতেহ মো. রেজা রিপন তিনি ঢাকা থাকে নারায়ণগঞ্জে নিজস্ব কোন মহল্লা নেই কোন পরিচিতি নেই যার কারণে তিনি কর্মী শূণ্য। সদস্য এড.রফিক আহম্মদ, সদস্য মাসুদ রানা, সদস্য আমিনুল ইসলাম মিঠু, সদস্য মাকিদ মোস্তাকিম শিপলু, সদস্য ডা. মজিবর রহমান, সদস্য রাশিদা জামাল। এদের মধ্যে কোন নিজস্ব কোন কর্মী নেই। তারা সকল কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে কর্মী ছাড়া। আর কর্মী ছাড়া এসেও তারা স্টেজের ভালো চেয়ারে বাসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। আর যে আহ্বায়ক ও সদস্যরা হাজার হাজার কর্মী নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তাদের স্থান হয় ব্যাকসাইডের চেয়ারে।
যার ফলে তাদের এই কার্যকালাপ দেখে কমিটির অনেক সদস্যই এখন শত শত কর্মী নিয়ে মিছিল আনা বন্ধ করে দিচ্ছে, এছাড়া তাদের ব্যবহারেও ত্যক্ত-বিরক্ত কর্মীরা। তাই তাদের এ কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তাদের সাথে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ দলের সদস্যরা অনেকবার আলোচনা করেছে কিন্তু কোনভাবেই তাদেরকে আর ঠিক করা যায়নি যার কারণে তাদের থেকে আশা ছেড়ে দিয়েছে তারা। অপর দিকে মহানগর বিএনপির কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন কিন্তু কমিটি থেকে পদত্যাপ করেন কিন্তু বিগত দিনে ও তারা কোনভাবে রাজনীতিতে কোন মিছিল মিটিং নিয়ে আসেনি এখন ও কোন কর্মী নিয়ে কর্মসূচি বা সমাবেশে যোগদান করে না। সাবেক সাংসদ সদস্য কালাম সাহেবের কর্মীদের উপর ভর করেই কর্মসূচি পালন করে থাকে। আবার তারা কমিটিতে মূলস্থানে আসতে চায়। বিদ্রোহী নেতা জাকির হোসেন, আব্দুস সবুর খান সেন্টু, হাজী নূর উদ্দিন, আওলাদ তারা কোন সময় কর্মী সমর্থন নিয়ে কোন আন্দোলন সংগ্রাম করেনি। যার করণে তারা কর্মী শূন্য নেতা হিসেবেই পরিচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা জানান, এই কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব আর আহ্বায়ক কমিটিতে থাকা কিছু নেতাকর্মী ছাড়া বাকি কেউ কোন কর্মী নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন না। সবাই জামাই সেজে আসে স্টেজের ভালো একটি চেয়ারে বসে তার পর কর্মসূচি শেষ করে চলে যায়। এ ছাড়া তাদের কোন কাজই নেই। এ বিষয় নিয়ে দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ দলের নেতাকর্মীরা তাদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করে কিন্তু কোনটাতেই কোন কাজ হয়নি। তারা তাদের মতো করে কর্মীরা ছাড়া রাজনীতি করে যাচ্ছে। আর তারা যদি বর্তমান দলের দূর সময়ে এভাবেই তাদের কার্যকালাপ চালিয়ে যায় তাহলে মহানগর বিএনপি অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে। আর উৎসাহিত নেতাকর্মীদের উৎসাহ নষ্ট হবে।
এস.এ/জেসি


