Logo
Logo
×

রাজনীতি

সম্মেলন নিয়ে অতৃপ্তিতে তৃণমূল

Icon

এল.আর.আকাশ

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:৩৮ পিএম

সম্মেলন নিয়ে অতৃপ্তিতে তৃণমূল
Swapno

 

# কাউন্সিলে না হচ্ছে ভোট, না হচ্ছে নেতা নির্বাচন
# সুবিধাবাদীরা ক্ষমতাধর তাই গোপন ব্যালটই তৃণমূলের ভরসা

 

 

দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যাচার, অন্যায় এবং অবহেলার শিকার হয়ে যখন নতুন করে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় তখন আবারও উৎসাহ উদ্দীপনার তুলির আঁচড়ে নতুন করে স্বপ্ন তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকগণ। এতদিন সুবিধাবাদী কিছু আওয়ামী লীগ নেতা যারা জাতীয় পার্টির নেতাদের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লোভে যেসব তৃণমূল আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সর্বপ্রকার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল সেই তৃণমূল যখন সম্মেলনকে ঘিরে নতুন স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই সেই ভরসার স্থলে অধিষ্ঠিত নীতিনির্ধারকদের যাতাকলে পড়ে হতাশার শিকার হচ্ছে বলে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন তারা।

 

এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের ইউনিট ও সহযোগী কমিটিগুলো গঠনে বিভিন্ন নাটকীয়তার মঞ্চায়ন করছে বলে অভিযোগ তাদের। ফলে তৃণমূল আওয়ামী লীগের সেসব নেতৃবৃন্দ তাদের অভিভাবক বা নীতিনির্ধারকদের সম্মেলন সম্মেলন নাটকের বলি হচ্ছেন বলে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন। অনেককেই বলতে শোনা যায়, কমিটি করতে যদি না পারেন, কর্মী সমর্থকদের যদি সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ দিতে না পারেন, আর সব সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিবেন বলে যদি আগে থেকেই ঠিক করে রাখেন, তাহলে এই সম্মেলন নাটকের তৈরি করেন কি জন্য। এমনিতেই প্রায় দীর্ঘ দুই যুগ ধরে (২০০১ সালের পর থেকে) স্থানীয়ভাবে অভিভাবক (নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জনপ্রতিনিধি) না থাকায় অস্তিত্ব সংকটের লড়াইয়ে ব্যাকফুটে আছেন তারা, তার উপর সম্মেলন নামক নাটকের মাধ্যমে আশা জাগিয়ে সেই আশায় কবর দিয়ে তাদের সেই হতাশাকে বহুগুনে বৃদ্ধি করছেন ক্ষোভে ফুসছেন তারা।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, অনেক দিনের প্রত্যাশিত সম্মেলনের খবরে যখন দলকে নতুন করে সাজানোর সুযোগে নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তৃণমূল, নিজেদের পছন্দ মতো নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পদ প্রার্থী ও সমর্থকরা বিশাল মিছিলসহ এক বুক আশা নিয়ে সম্মেলনে যোগদান করেও কোন লাভবান হতে পারেননি। ফিরতে হয়েছে কোন প্রকার ফলাফল ছাড়া একেবারে শূন্য হাতে। অথচ এই সম্মেলনের আয়োজনসহ বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের নিয়ে মিছিল র‌্যালি করতে আর্থিক খরচসহ সময়েরও অনেক অপচয় হয়। অর্থাৎ দীর্ঘদিনের হতাশার পর এই ব্যর্থ সম্মেলন অনেকটা কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো বলে মনে করেন অনেকে। তাই সামনের যে ওয়ার্ডগুলোতে এখনও সম্মেলনের নাটক হয়নি সেসব এলাকার সমর্থকরা এখন অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েন আর সুবিধাবাদীরা জনসমর্থনের তুলনায় নেতার সমর্থন পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

 

এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা। তাই যখন থেকেই ঘোষণা আসে যে, সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হবে, তখন থেকেই একরাশ আশা নিয়ে নতুন কমিটি গঠনে ভূমিকা রাখেন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন স্থানীয় কর্মী ও সমর্থকগণ। কিন্তু একাধিক প্রার্থী থাকার অযুহাতে কোন সম্মেলনেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নেত্রীর নাম ঘোষণা করতে পারছেন না তারা। বলা যায় করছেন না তারা। সেখানে না হচ্ছে কাউন্সিল, না হচ্ছে নেতা নির্বাচন। ফলে শুধু মাত্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের কাঙ্ক্ষিত সম্মেলনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে বলে ফুঁসে উঠেছে। এর মাধ্যমে নেতৃত্বে আসতে চাওয়া কর্মীদের ইচ্ছাটাকে নিরুৎসাহিত করাসহ কেউ যেন ভবিষ্যতে দায়িত্বে আসার সাহস না দেখায় সে ধরণের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলের। এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা খেয়ে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ এনে তার প্রতিবাদও করা হচ্ছে।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর বিভিন্ন ওয়ার্ডের শহর ও বন্দরের বিভিন্ন আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সাথে আলাপ করলে তারা নাম না বলার শর্তে যুগের চিন্তাকে বলেন, সদর এলাকায় আওয়ামী সাংসদ না থাকায় এসব এলাকার সর্বক্ষেত্রেই আওয়ামী বিরোধীদের জয়জয়কার। বিভিন্ন নির্বাচনেও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদীরা সেসব শক্তির সাথে সখ্যতা তৈরি করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকে। এজন্য তারা প্রভাব বিস্তারসহ আর্থিকভাবে অনেক শক্তিশালী হয়। কিন্তু যারা প্রকৃত অর্থে আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে তারা সেসব বিষয়কে কখনই পাত্তা দেয় না। ফলে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয় না কিংবা প্রশাসনিক ও দলীয় দাপটও তাদের পক্ষে থাকে না।

 

তাই নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে তৃণমূলসহ সাধারণ সমর্থকগণ কোন ভালো মানুষের পক্ষে গোপন ভোটে যেভাবে সমর্থন দিতে পারেন সরাসরি সেভাবে দিতে পারেন না। তাই নেতৃত্ব নির্বাচনে একমাত্র গোপন ভোটই পারে তৃণমূলের চাহিদা পূরণ করতে। অথচ আমাদের মহানগর সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা তৃণমূলকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে কৌশলে নিজেদের হাতে দায়িত্ব তুলে নেন। এতে একদিকে সম্মেলনের নামে নেতাকর্মীদের সাথে প্রতারণা, আওয়ামী প্রেমীদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হওয়া এবং গোপনে হয় তাদের নিজেদের গদি নিশ্চিত করা কিংবা পকেট ভারি করার পায়তারা বলে অভিযোগ করেন তারা। যা আগামী নির্বাচনসহ এসব এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে চ্যালেঞ্জের মুভে ফেলে দিবে বলে মনে করেন তারা।এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন