Logo
Logo
×

রাজনীতি

জনসম্পৃক্ত দাবিতেই থাকতে চায় বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:২০ পিএম

জনসম্পৃক্ত দাবিতেই থাকতে চায় বিএনপি
Swapno

 

# তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে চাপ প্রয়োগ করতে চায় নেতারা

 

 

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার তৎপরতা জোরদার করছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায়। আর ১০ দফা দাবির প্রধান আকর্ষন হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। আর এই ১০ দফা দাবি বাস্তাবায়নে এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকটাই রাজপথে উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছে। আর এখন বিএনপির সকল কর্মসূচিতেই তাদের দলের কর্মী থেকে ও বেশি সাধারণ জনগণ অংশ গ্রহণ করে থাকে। যার কারণে তারা ধারণা করছে তাদের দাবি শীঘ্রই বাস্তবায়ন হবে। আর দেশের গণতন্ত্র আবারো দেশের জনগণ ফিরে পাবে। আর তারা আরো দাবি করছে এই তত্ত্বাবধায়কের দাবি শুধু বিএনপির নয় এটা দেশের জনগণের দাবি তাই আমরা মনে করছি এই দাবি এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে বিএনপির অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর আবার ও ঘুরে দাঁড়াতে ও দলকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব সহকারে রাজপথে নামে বিএনপির হাইকমান্ড। তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং, গণ-পরিবহণের ভাড়া বৃদ্ধি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং নারায়ণগঞ্জের যুবদল নেতা শাওন, ভোলায় ছাত্রদল নেতা নূরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম হত্যার প্রতিবাদে তারা মাঠে আরো নেতাকর্মী নিয়ে জোরদার আন্দোলন ও সমাবেশ করে থাকে। এ সব কর্মসূচি করতে গিয়ে সরকারি দলসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার শিকার হন নেতাকর্মীরা।

 

এ ছাড়া ও বিএনপির ঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ পুরোপুরি গরম রাখে বিএনপির নেতাকর্মীরা। আর বিএনপির আন্দোলনে গত বছরের সব থেকে আলোচিত তারিখ ছিলো ১০ই ডিসেম্বর। এই ১০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর নানা নির্যাতন ও অত্যাচার করে থাকে ও হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপর নাশকতা মামলা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু কোন ভাবেই তাদের সমাবেশ বাঞ্চাল করতে পারে না তারা।

 

তারা সকল চড়াই উতড়াই পেরিয়ে দলের বাকি নেতাকর্মীদের নিয়ে ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ সফল করেন। আর সেই সমাবেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে বিএনপি। আর এই দাবির প্রথম বার্তাই হলো ১৯৯৬ সালে সংবিধানে সংযোজিত ধারা ৫৮-খ, গ ও ঘ’-এর আলোকে দল নিরপেক্ষ একটি অন্তবর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। ১০ দফা আন্দোলনের এই দাবি নিয়ে রাজপথে সক্রীয় হওয়া শুরু করেছে দলের নেতাকর্মীরা এবং তাদের এই দাবিতে তাদের সাথে একমত পোষণ করেছে দেশের সাধারণ জনগণ। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছে বিএনপি।

 

আর বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, এখন সরকারের পতন শুধু আমরা চাই না এটা দেশের সাধারণ জনগণ ও চায়। যার কারণে এখন রাজপথে আমরা শুধু নয় আমাদের সাথে আন্দোলনে যুক্ত রয়েছে দেশের সাধারণ জনগণ যার জন্য আমরা আমাদের দাবি আদায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আর দেশের জনগণ যেহেতু আমাদের সাথে দাবিতে মাঠে রয়েছে তাহলে আমাদের জয় হবেই আমরা অতি শীঘ্রই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের অধিকার বাস্তাবায়ন করবো। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার অনেক বক্তব্যে উনি বার বার বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে বলেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা ভূলে যান এটা আর কখনো সম্ভব না।

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আওয়ামী লীগ এখন স্বৈরাচারী পন্থায়, বাকশালী পন্থায় দেশে চালাচ্ছে। পৃথিবীতে কোন স্বৈরশাসক যারা জনগণের কোন দাবি কখনই মানে নাই তাদের এক সময় পতন হয়েছেই। আর বর্তমানে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়কের দাবি এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। আর আপনারা জানেন জনগণ যেটা চায় সেটা আদায় করেই ছাড়ে। আর তাই আমি মনে করি এখানে এখন সরকারের চাওয়া পাওয়ার কোন বিষয় না। আর সরকার দিবো নাকি না দিবো সেটা বিষয় না জনগণ কি চায় সেটাই মূল বিষয়। আর বাংলাদেশে যেহেতু গণতন্ত্র নাই তাই জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি সেটা এই সরকারের কাছ থেকে আদায় করে ছাড়বে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে। আর তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে আমাদের দল এখন যে কোন সময়ের চেয়ে এখন আরো বেশি সুসংগঠিত।

 

তিনি আমাদের সকল আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করছেন। আমাদের নানা দিক নির্দেশনা দেয় আর আমরা যেন সকলেই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে কাজ করতে পারি সেদিকে খেয়াল রাখে। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, এখন পর্যন্ত যতগুলো গণআন্দোলন হয়েছে একটি ও বৃথা যায়নি। যেমন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূথান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধ আন্দোলন। গণদাবির কাছে যত ফ্যাসিস্ট ও মহাশক্তি হোক না কেন গণআন্দোলনের কাছে তাকে পরাজিত হতে হয়। আর যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দবি একটি গণদাবিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাই আমি মনে করি আমাদের এই দাবি অবশ্যই পূরণ হবে। আর এই দাবি দেশের ৯০% জনগণের দাবি। তাই আমরা আশাবাদী জনগণের দাবি কখনো বৃথা যায়নি। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হবেই ইনশাআল্লাহ।

 

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার কার নিরদলীয় নির্বাচনের দাবি নিয়ে আমরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছি। আর আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের এই দাবির পাশাপাশি ১০ দফা দাবি দিয়েছে আর ২৭ দফা রাষ্ট্র কাঠামো উন্নয়নের দাবি দিয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছি। আর এই সরকার যেভাবে দিনের ভোট রাতে দিয়ে অটো নির্বাচিত হয়েছে তাই এই সরকার চাইবে আবার ও তাদের অধীনে নির্বাচন দিতে তাই তারা যাতে এটা না করতে পারে সেদিকে লক্ষ্যে রেখে আমরা রাজপথে সক্রীয় রয়েছে। আর তারা যদি আবার ও দেশে থাকে তাহলে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হবে। আর আপনারা অবগত আছেন এখন দেশের অবস্থা অনেক নাজুক মানুষের কোন গণতন্ত্র নাই। আর লন্ডন থেকে আমাদের আগামী দিনের রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমান নানা দিক নির্দেশনা আমাদের দিয়ে যাচ্ছে আর সেগুলো আমরা সফল করেছে।

 

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম টিটু যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের সাথে এখন সকল আন্দোলনে জনগণ সুসংগঠিত হচ্ছে। এতোদিন শুধু বিএনপি আন্দোলন করেছিল। আর বর্তমানের প্রেক্ষাপটে এখন দেশের জনগণ ও আমাদের পাশে রয়েছে। যার কারণে আমরা এখন অনেকটাই শক্তিশালী। আর যেখানে দেশের সাধারণ মানুষ অংশ গ্রহণ করে কোন দাবি করে সেই দাবি কিন্তু পূরণ হতে বাধ্য। আমরা আশা করছি আগামী নির্বাচনে একটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।

 

জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা রাজপথে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছি জনগণের ভোট অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। এই গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য আমাদের দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। আর এখন আমাদের দেশ নায়ক তারেক রহমান আন্দোলন সংগ্রাম করছে। আর যে পর্যন্ত আমাদের গণতন্ত্র মুক্ত না হবে সেই পর্যন্ত আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করে যাবো। আমরা বিশ্বাস করি বর্তমানে বাংলাদেশের যে প্রেক্ষাপট সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের ১০% সমর্থন নাই জনগণের। একটি সংগঠনের পাশে যদি দেশের জনগণ না থাকে তাহলে বুঝতে হবে এই সরকারের পতন অনিবার্য। আমার খুব দ্রুত এই সরকারকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে পতন হবে ইনশাআল্লাহ।এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন