যৌথ শক্তিতে কর্মসূচি সফল করতে চায় নেতারা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:০০ পিএম
# কর্মীসমাবেশ ঘটাতেই এই কৌশল
দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতার বাহিরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এখন অনেকটাই উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছে। তারা ছয় মাস যাবৎ দেশের প্রতিটি জেলায় দফায় দফায় আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে রাজনীতি মাঠ পুরোই তাদের দখলে রেখেছে। দেশের প্রতিটি জেলার থেকে পিছিয়ে নেই নারায়নগঞ্জ জেলা ও এই জেলার বিএনপির সকল পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগকে ব্যাকফুটে রেখে তারা প্রথমস্থানে যাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ ও আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, তারা তাদের সকল কর্মসূচিতে না ডাকা সত্ত্বে ও দেশের সাধারণ জনগণ তাদের সাথে উপস্থিত থাকে। আর আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাদের কারণেই আমরা আমাদের সকল কর্মসূচি সফল করতে সক্ষম হই। আজ বিএনপির ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা দাবিতে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করবো আর গত সকল কর্মসূচির মতো করে এই কর্মসূচিও সফলের দাবি বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশসহ সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলোতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে খুশি দলটির হাইকমান্ড। এটি তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার ফল বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। আবার বিএনপি বিগতদিন ঝিমিয়ে থাকলে ও তারা গতবছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই আন্দোলনমুখী কর্মসূচিতে ঝাপিয়ে পরেছে। তারই প্রেক্ষিতে কেন্দ্র দফায় দফায় কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছেন। আর নারায়ণগঞ্জসহ দেশে সমস্ত জেলার নেতাকর্মীরা সেই কর্মসূচিগুলো নিজ অর্থায়নে পালন করে যাচ্ছেন।
আর তাদের সাথে সকল কর্মসূচি পালনে দেশের সাধারণ জনগণ ও অংশ গ্রহণ করছে। যার কারণে বিএনপির সকল কর্মসূচি ব্যাপকভাবে সফল করতে সক্ষম হয়েছেন। গত (২৩ জানুয়ারি) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ জনসাধারণের প্রতি (২৫ জানুয়ারি) দেশব্যাপী মহানগরী ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ সফল করে দুর্নীতিবাজ, ফ্যাসিস্ট, গণবিরোধী সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও রাজবন্দিদের মুক্তি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে চলমান গণ-আন্দোলন বেগবান করার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রের এই কর্মসূচিকে বিগত দিন থেকে আরো জোরদার করার জন্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপির জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা তাদের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছন। আর সকলকেই এ আন্দোলন সফল করার লক্ষ্যে থাকার জন্য ব্যাপক জোরদার দাবি জানিয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মী আরো দাবি জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে আমাদের সাথে থাকবে দেশের সাধারণ জনগণ যার কারণে আমরা আশাবাদী সকল আন্দোলন সংগ্রাম সফল করবো। শীঘ্রই এই বছরের মাধ্যেমে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাবো।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, সকল কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের জন্য মহানগর বিএনপি সর্বক্ষেত্রে প্রস্তুত থাকে আর আগামী দিনের প্রোগ্রাম করেত ও আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। আর সকল নেতাকর্মীরা ও সরকার বিরোধী আন্দোলনমুখী রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা দফায় দফায় সকল অঙ্গসংগঠন ও থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আলোচনা করেছি। আর আগামী কালের কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন হবে। আর আমরা এই কর্মসূচি পালনে পুলিশ প্রসাশন থেকে ও সহযোগীতা আশা করছি। আর এই কর্মসূচিটি আমরা জেলা ও মহানগর বিএনপির যৌথভাবে পালন করবো। আর আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা ও উপস্থিত থাকবে। আর কালকে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারবো।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, কালকের প্রোগ্রামটা হলো ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিব তখন সংসদে গণতন্ত্র হত্যা করে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ও বাকশাল কায়েম করেছে। আর তাই বিএনপি প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকেই বিএনপির সকল নেতাকর্মী ২৫ জানুয়ারি এই কর্মসূচি পালন করে থাকে। আর আমরা এই গণতন্ত্র দিবসের পাশাপাশি এই সরকারের পদত্যাগ, সংসদের বিলুপ্ত করা ও দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে আমরা আগামী সমাবেশ পালন করে থাকবো।
আমরা এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মহানগর ও জেলা প্রস্তুতি সভা করেছি। আর আমাদের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানাসহ সকল অঙ্গসংগঠনকে বলে দিয়েছি আগামীকালের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে। আর আমাদের নেতাকর্মী এখন অনেকটাই উজ্জ্বীবিত তারা সকল কর্মসূচির কথা শুনলেই আরো উৎফুল্ল হয়ে উঠে। আর আগামী কাল আমাদের নেতাকর্মীদের সাথে সাধারণ জনগণ ও উপস্থিত থাকবে যার কারণে আমরা আশা করছি আমরা এই সমাবেশ ব্যাপকভাবে সফল করতে পারবো।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামী কালের আমাদের যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। সেই কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষে আমরা আমাদের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানাসহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা পালন করেছি। আর সকল নেতাকর্মীকে অবগত করেছি কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে আসার জন্য। আমরা আশা করছি বিগত দিন থেকে আগামী কালের আমাদের জেলা ও মহানগরের যৌথ কর্মসূচিতে আমরা আশা করছি নারায়ণগঞ্জ শহরে লোকেলোকারন্ন হবে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা আমাদের এই গণতন্ত্র হত্যা দিসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আমরা সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছি। আর আমাদের নেতাকর্মী অনেকটাই উজ্জ্বীবিত রয়েছে। তারা এখন কর্মসূচির কথা শুনলেই অনেকটা উৎফুল্ল হয়ে উঠে। আগামী কালের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী রাজপথে থাকবে আর আগামী কালের মাঠ গরম রাখবে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম টিটু যুগের চিন্তাকে বলেন, এ বছর আমাদের চূড়ান্ত আন্দোলনের বছর। যার কারণে আমরা রাজপথে সরব রয়েছি। আর সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচি অবহৃত থাকবে। আর আগামী কালের কর্মসূচিতে আমাদের সকল নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করবেন। আর কর্মসূচি সফল করবে।
এস.এ/জেসি


