Logo
Logo
×

রাজনীতি

কাউন্সিলর তালিকার অনিয়মে  তৃণমূলের প্রতিবাদ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:০২ পিএম

কাউন্সিলর তালিকার অনিয়মে  তৃণমূলের প্রতিবাদ
Swapno


 
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তৈরি করা কাউন্সিলরদের তালিকা নিয়ে পুরো ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  কাউন্সিলর তালিকা নিয়ে ইউনিয়ন নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের রয়েছে অভিযোগ।

 

 

এরই মধ্যে এই তালিকার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শুরু করেছে স্থানীয় নেতাকর্মীগণ। গতকাল বুধবার বিকেলে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দী এলাকায়ও  প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। এর আগেও সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করে কাউন্সিলর তালিকার গড়মিলের অভিযোগে তা পিছিয়ে নেওয়া হয়।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দলীয় গঠনতন্ত্রের ৪০/২ ধারা অনুযায়ী কাউন্সিলর তালিকা তৈরি করা হয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নিয়ে। এখানে সহাযোগী সংগঠনের কোন সদস্যদের নাম থাকার কোন সুযোগ নেই বলেও জানান তারা।

 

 

তারপরও গঠনতন্ত্রের নিয়ম ভঙ্গ করে অনেককেই কাউন্সিলর বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন কৃষকলীগের হোসেন আহমেদ, সাইদুর রহমান ও হালিম।

 

 

ইউনিয়ন যুবলীগের আজিজুল হক ও মোফাজ্জল, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রফিকুল ইসলাম ও রোলেক্স এবং ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের লুৎফর মীর ও এবাদুল্লাহর নাম এসেছে।

 

 

কাউন্সিলর তালিকায় এমন অনেক নাম আছে যারা কলাগাছিয়া ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড কমিটির সদস্য না। আবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাযকরী সদস্য তাইজুল ইসলামসহ অনেকেরই নাম কাউন্সিলর তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়নি বলে জানা গেছে।


 

কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবেক ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আদমপুরবাসী ফয়েজ আহমেদ বলেন, কাউন্সিলরের তালিকায় প্রথমে আমার নাম দেওয়া পর আবার তা কেটে দেওয়া হয়েছে।

 

 

আমরা নতুন আওয়ামী লীগ করি না, দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রাক্কাল থেকে আমরা আওয়ামী লীগের সংগঠন করি এবং মৃত্যু পর্যন্ত করবো ইনশাআল্লাহ। এই তালিকায় বিএনপিসহ রাজাকার সংগঠনের কর্মীদের নামও আছে বলে দাবি করেন তিনি। অথচ আমরা প্রকৃত আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়ার পরও আমাদের নাম নাই!


 

এই বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা কল্যান্দীবাসী সালাউদ্দিন বলেন, ’৭০ এর নির্বাচনের সময়েও আমরা আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছি। সে হিসাবে আমার আওয়ামী লীগের রাজনীতির বয়স ৫০ এরও বেশি। কিছুদিন আগেও শুনেছি এখানকার যে কাউন্সিলরদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে সেখানে আমার নাম ছিল।

 

 

অথচ প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে আমার কোন নাম নেই। এতবছর যাবত আওয়ামী লীগের কান্ডারী হয়েও শেষ বয়সেও কাউন্সিলর না হতে পারি, সেখানে দুঃখ করবো নাকি খুশি থাকবো।

 

 

আমার স্বাক্ষর নেওয়ার পরও আমাকে কাউন্সিলর করা হয়নি। আমার নামটা দিয়েও কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে সেটাই আমি বুঝতে পারিনি।

 

 

আওয়ামী লীগ নেতা সানাউল্লাহ বলেন, ’৭০ সাল থেকে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্সের ভাষণ দেখার জন্য আমি তখন বাড়ি থেকে টাকাও চুরি করেছি। ’৯৬ সালে আমাকে এখানকার কমিটির দপ্তর সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়।

 

 

আমাকে কাউন্সিলর করা হয়েছে বলে বেশ কয়েকবার ফোনও করা হয়েছিল। কিন্তু পরে আমাকে আর কাউন্সিলর করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে জামায়াত, বিএনপির লোককেও কাউন্সিলর করা হয়, অথচ এতবছর আওয়ামী লীগ করার পরও কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্যতা লাভ করতে পারিনি বিষয়টা খুবই দুঃখজনক।

 

 

অথচ আমার গ্রামের মানুষও জানে আমি আওয়ামী লীগ করার কারণে অনেক অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দায়িত্বপ্রাপ্তরা মুখ চিনে চিনে কাউন্সিলর বানিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


 

মো. আকতার স্বজল বলেন, যখন আমাদের নেত্রীর উপর গ্রেনেড হামলা হয় আমরা তখন আন্দোলন সংগ্রামে নেমে পড়ি। আমরা অনেক পুলিশি নির্যাতনও সহ্য করেছি। বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের সময়ও আমরা এমএ রশিদ ভাইয়ের সাথে থেকে পাহারা দিয়েছি।

 

 

এই তালিকা প্রথম তৈরি করার পর আমরা বেশ কয়েবার আলোচনায় বসেছি। তখন ঠিক করা হবে বলা হয়েছে। কিন্তু পুনরায় যখন আমাদের ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম কাশেম তালিকা তৈরি করেন, তখন আমাদের নামতো নেয়-ই-নি।

 

 

উল্টো আরও তালিকা থেকে ত্যাগী আওয়ামী লীগের অনেকের নামই কেটে দিয়েছেন। সেখানে তাদের নিজেদের লোক বলে জামায়াত বিএনপির লোকও নিয়েছেন। আমরা এমন অস্বচ্ছ তালিকায় বিতর্কিত সম্মেলন চাই না।

 

 

তিনি বলেন, সালাউদ্দিন ভাইয়ের ছোট ভাই আশ্রাফ যিনি শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার সময় আহত হয়েছেন। তাদের পূর্ব পুরুষও আওয়ামী লীগ।


 

এর আগেও হ-য-ব-র-ল একটি কাউন্সিলরের তালিকা করা হয়েছিল উল্লেখ করে নেতারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আমরা তিনবার টেবিলে বসেছিলাম।

 

 

সেখানে আমাদের তালিকা ঠিক করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। কিন্তু কালকে (গত মঙ্গলবার) আমরা যে তালিকা পেয়েছি সেখানেও প্রচুর ভুল। এখানে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রকে মানা হয়নি। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন